সকাল বেলা, বাড়িতে তাড়াহুড়ো চলছে আম্মু: মেহু! তোকে বলেছিলাম সকালে উঠবি, এখনো আয়নার সামনে বসে সাজছিস? মেহজাবিন: আম্মু! সাজি নাই তো, শুধু চুলে একটু তেল দিলাম। ছবিতে চুল যদি এলোমেলো আসে, সবাই বলবে—“বরের বোন নাকি ঝড়ের বোন!” আম্মু: (হেসে) আহারে! শরিফ ভাইয়ের বিয়েতে এমন রেডি হইছিস, যেন তুই কনে! মাহির: (পাশ থেকে) কনে হলে খারাপ হতো না। আম্মু, মেহু যদি এখনই বিয়ে করে, আমার রুমটা আমি পাবো। মেহজাবিন: এই ছোট্টটা, মুখে মুখে কথা বলে! দেখ, আমি তোর শার্ট ছিড়ে ফেলবো! বাবা: (পেপার নামিয়ে) আহা, তোরা ঝগড়া থামা। সবাই রেডি? গাড়ি আসছে তো? আম্মু: আসছে, গিফট ব্যাগ নিয়ে রাফার বাসায় যাব, তারপর সবাই মিলে বিয়ের বাড়ি। মেহজাবিন: রাফা ভাবি না থাকলে সব এলোমেলো হয়ে যেত! বিয়ের বাড়ির পথে সবাই। চলুন ততক্ষণে তাদের পরিচয় জেনে নেই। মেহজাবিন মানে সবার প্রিয় মেহু। তার বাবা রা দুই ভাই। আজ তার একমাত্র চাচা এর ছেলে শরিফের বিয়ে বাড়িতে যাচ্ছে। আজ তার জন্য যেন ঈদের দিন, অনেক দিন পর বিয়ে খেতে যাচ্ছে। বিয়ের বাড়িতে, বাড়ি ভর্তি আলো, ফুল, গান। চারপাশে খুশির হাওয়া। মায়া: আরে মেহু এসেছে! আয়, আয়, কেমন আছিস? (মায়া শরিফের হবু বউ, ওপস্ সরি এখন তো অফিসিয়াল বউ) মেহজাবিন: ভাবি! আপনাকে রাজকন্যার মতো লাগছে। মায়া: আহা, এমন মিষ্টি কথা, শরিফ তো হিংসে করবে! (পাশে শরিফ হাসে, রাফা ভাবি এসে মেহজাবিনকে জড়িয়ে ধরে) শরিফ রা তিন ভাই। বড়ো ভাই জাফর আর ভাবী রাফা। রাফা: আমার ছোট্ট মেহু এখন তো পুরো বড় হয়ে গেছে! মেহজাবিন:ভাবি, এইসব বলেন না তো! (তখনই দূর থেকে একদল ছেলেদের হাসির শব্দ আসে।) সাজিদ: ভাই, এই বিয়ের ঘরে কত সুন্দর মেয়েরা রে! জাভেদ: (হাসে) তুই এসেছিস বিয়ে দেখতে, না মেয়ে দেখতে? রিদওয়ান: প্রেম না করলে জীবন ফাঁকা ভাই! (এরা যে ভণ্ডামি করছে এরা আর কেউ না জাভেদের বন্ধু মহল।আর জাভেদ হলো শরিফ ও জাফরের ছোট ভাই) তামীম: চুপ কর, ওদিকে দেখ—গোলাপি পোশাক পরা মেয়েটা… (জাভেদের দৃষ্টি যায় মেহজাবিনের দিকে) সাজিদ: ভাই, প্রেমের লাইন শুরু নাকি? জাভেদ আবার তাকায়, মেহজাবিনও চোখ তুলে তাকায়। কয়েক সেকেন্ড নীরবতা। তারপর দুজনেই মুখ ফিরিয়ে নেয়। রিমা(মেহুর ফ্রেন্ড): মেহু, ওদিকে যে ছেলেটা তাকায় তাকায় হাসে, দেখছিস? তাসনিম(মেহুর ফ্রেন্ড): হুম, কালো পাঞ্জাবি, চশমা… কেমন জানি স্মার্ট একটা ভাইব আছে! আফরান(মেহুর কাজিন): রে ভাই, মেহুর চোখও ওদিকে যাচ্ছে! মেহজাবিন: (চুপ করে) ওকে আমি আগে দেখিনি মনে হয়… আত্মীয়ের কেউ হবে। রিমা: যেভাবে দেখছে, মনে হয় আত্মীয় না সবাই হাসে। অনুষ্ঠান শেষে, বাসায় ফেরা (সবাই ক্লান্ত, রাতে হালকা বৃষ্টি পড়ছে বাইরে।) আম্মু: অনুষ্ঠান কেমন লাগল মা? মেহজাবিন: ভালো লাগল… কিন্তু একটা ছেলে ছিল না আম্মু, শরিফ ভাইয়ের পাশে সবসময় ছিল? আম্মু: হ্যাঁ, ও তো শরিফের ছোট ভাই জাভেদ। মেহজাবিন: (চমকে ওঠে) জাভেদ? আগে তো দেখিনি। আম্মু: (হাসে) হুম, ও বাইরে থাকে, অনার্সে পড়ে। খুব ভালো ছেলে।ছোটকালে দেখেছিলি।তাই হয়তো মনে নেই। মেহজাবিন: (চুপ করে) ভালো… হুম…দেখে ভালোই মনে হলো। (চুপচাপ শুয়ে জানালার বাইরে তাকিয়ে থাকে।) অন্যদিকে জাভেদের বাসায়, সাজিদ: ভাই, মেয়েটা কে রে? তুই যে সারাক্ষণ চুপচাপ বসে ছিলি, চোখে চোখে তো গল্প চলত! জাভেদ: (হাসে) ওর নাম জানি না… কিন্তু জানিস, ওর হাসিটা খুব সুন্দর । রিদওয়ান: ভাই, এইভাবেই প্রেম শুরু হয়! তামীম: নাম জানে না, তবু মন পড়ে গেছে! জাভেদ: (দূরে তাকিয়ে) হয়তো আর দেখা হবে না… কিন্তু আজকের ওই এক দৃষ্টি আমার মনে রয়ে যাবে। ----- পরের সকাল, মেহজাবিনের ঘর, রোদটা হালকা, কিন্তু মেহুর চোখে আজ অন্যরকম আলোর ঝিলিক। মেহজাবিন (নিজের মনে): “জাভেদ... শরিফ ভাইয়ের ছোট ভাই! আমার তার কথাই কেন মনে পড়ছে?” (মাহির ঘরে ঢোকে) মাহির: আপু, তুই আবার একা একা কথা বলছিস কেন? মেহজাবিন: (বিব্রত) কিছুনা... মন ভালো আছে তাই। মাহির: মন ভালো, নাকি কারো কথা মনে পড়ছে? মেহজাবিন: তুই চুপ কর! ছোটরা এসব কথা বলে না। (আম্মু ঢোকে) আম্মু: মেহু, আজ দুপুরে শরিফের বাসায় যাবো, মেয়ের দিক থেকে সবাই আসবে। তুইও যাবি। মেহজাবিন: (মৃদু হাসি) যাবো আম্মু। শরিফের বাড়িতে, (বাড়িতে হাসি, গল্প, হৈচৈ। মেহু সবার সঙ্গে ব্যস্ত। হঠাৎ জাভেদ ঢোকে।) রাফা ভাবি: আরে জাভেদ! আয় আয়, কখন এলি? জাভেদ:একটু আগেই ভাবি। শরিফ ভাই ডাকছিল। (মেহু হঠাৎ থেমে তাকায়, কিছু বলতে পারে না।) রাফা: এই যে, এনাকে চিনাছিস? এই মেহজাবিন, আমাদের মেহু ! জাভেদ: (হেসে) ও… আমি ভেবেছিলাম হয়তো কারো বন্ধু। মেহজাবিন: (নরমভাবে) আমি-ই তো… মেহু। জাভেদ: (চোখে মুচকি হাসি) তাহলে এখন চিনলাম আপা। (দুজনেই অস্বস্তি হাসি দেয়। আশেপাশে সবাই গল্পে ব্যস্ত।) রিমা (চুপিচুপি মেহুর কানে): ওই যে তুই “অচেনা মুখ” বলছিলি, এখন চিনে ফেললি তো? মেহজাবিন: চুপ কর রে! সবাই শুনবে। রিমা: হায় রে, চেহারায় লজ্জা, মনে আগুন। মেহজাবিন: (লজ্জায়) তুই না, একদিন মাইর খাবি আমার হাতে। (বিকেলের দিকে সবাই নিচে ব্যস্ত, মেহু একা ছাদে আসে। হাওয়ায় ওড়না উড়ছে।) জাভেদ: (পিছন থেকে) একা কেন? নিচে সবাই আছে। মেহজাবিন: (চমকে) ও! তুমি মানে আপনি ? জাভেদ: আপনি? “তুমি” বলো না? আত্মীয়দের মাঝে এত ভদ্রতা লাগে না। মেহজাবিন: (হাসে) ঠিক আছে, তুমি করে বলার চেষ্টা করবো। জাভেদ: (হালকা মজা করে) তাহলে বলো, মেহু আপা আমারে চিনছিল না কেন? মেহজাবিন: ছোট ছিলাম তখন, মনে নাই। জাভেদ: এখন মনে আছে? মেহজাবিন: (চুপ করে, নিচে তাকায়) এখন… মনে রাখব। (দুজনেই কিছুক্ষণের জন্য চুপ। বাতাসে একধরনের নীরব টান ছড়িয়ে পড়ে।) জাভেদ: তো, কোন ক্লাসে? মেহজাবিন: (মৃদু হেসে) ক্লাস এইট। (একটু নীরবতা। পেছনে আজানের সুর শোনা যায়।) মেহজাবিন: নামাজের সময়… যাই। জাভেদ: হুম… দেখা হবে আবার। (মেহু জানালার পাশে বসে। হাতে ফোন, কিন্তু স্ক্রিন ফাঁকা।) রিমা (চ্যাটে): “তুই আবার ভাবনায় পড়ছিস? ” মেহজাবিন (reply): “না রে… শুধু মনে হয় কেমন জানি একটা।” রিমা: “তুই তো গায়েবি প্রেমে পড়ে গেছিস মনে হয়!” মেহজাবিন: “বোকা! ও আমার চাচাতো ভাই !” রিমা: “হাহাহা, প্রেম তো আত্মীয় চিনে না\" (মেহু হাসে, কিন্তু মনে হালকা কাঁপন। নিজের মনে ভাবে — “জাভেদ… তার চোখের সেই শান্ত দৃষ্টি, কেন জানি না, বারবার মনে পড়ে।”) (অন্যদিকে জাভেদ ছাদের পাশে বসে ফোনে সাজিদদের সাথে ভিডিও কলে) সাজিদ: ভাই, কেমন চলছে বিয়ের পরের দিন? সেই মেয়ে আবার দেখা দিল? জাভেদ: (হাসে) হ্যাঁ, আজ কথা হলো। রিদওয়ান: ভাই, কথায় প্রেম জমে! বল, কবে প্রপোজ দিবি? জাভেদ: (চুপ থেকে)জানিস কেমন অদ্ভুত লাগে?ও আমার কাজিন। তামীম: ভাই, সম্পর্কের নাম যা-ই হোক, মনের টান থামানো যায় না। জাভেদ: (হাসে) বাদ দে… (চোখ বন্ধ করলে জাভেদের মেহুর হাসি চোখে ভাসে… রাতের হালকা বাতাসে তার নাম যেন ভেসে যায়…) (মেহু ঘুমানোর আগে আয়নায় তাকায়। নিজের মুখে হালকা হাসি, গালে লজ্জার ছায়া।) মেহজাবিন (নিজের মনে): “ওর চোখের দৃষ্টি, ওর হাসি… সব মনে গেঁথে যাচ্ছে।এমন কেন হচ্ছে আমাট সাথে। এই অনুভূতি কি সত্যিই অচেনা, নাকি শুরু হলো ‘Unwanted Love’-এর গল্প…”
💖🦋