#অপত্যাশিত_কথা#পর্ব_৩#লেখিকা_নাদিয়া রিপাত রিতুকলি বললো আমার তো লেট হচ্ছে আমি যাচ্ছিও যাওয়ার পরকলেজ ক্যাম্পাসে আরু বললো আজকে জানিস তো আমার জম্মদিনলামিয়া: শুভ জন্মদিন বান্ধবীজয়ী: শুভ জন্মদিনএরপর দুজনে আসলে আমরা তো জানিনা তোর আজকে জম্মদিন তাই আগে উইশ করতে পারিনিজানলে অবশ্যই তোকে উইশ করতামআরু:এতে স্যরি বলার কি আছে তোদের সাথে আমার কলেজে এসে পরিচয় হলো বেশিদিন হয়নি ।এই কয়দিনে তোরা আমার কত আপন হয়ে গেলি সমস্যা নেই এখন তো জেনে গেছিস এখন থেকে প্রতিবছর উইশ করবি।লামিয়া: ওকে বান্ধবীআরু: আমি কিছু টাকা এনেছি আজকে তোদের কে ট্রিট দিবো বল কি খাবিজয়ী:তুই আবার আমাদের ট্রিট দিবি আচ্ছা ট্রিট যখন দিতে চাইছিস দে কিন্তু গিফট চাইতে পারবি না ।আমার না এই মাসে টাকা নেই জানিস তো টিউশনি করে কোনো রকমে সংসার চালায় বাবার তো চাকরি নেই ।আরু: আমি কি গিফটের জন্য ট্রিট দিবো একবার ও বলেছি আমার মন এত ছোট না ।আমার ইচ্ছা হয়েছে তাই দিচ্ছি ।এখন বল কে কি খাবিজয়ী: তোর যেটা ইচ্ছেআরু: আমি পিৎজা, চিকেন শর্মা, চিকেন রোল এগুলো খাওয়াতে চাইছিলাম কিন্তু এখানে তো নেই দোকানে ।কলেজের পাশে একটা ভালো দোকান ও নেই ।জয়ী: তাহলে ফুচকা আর আইসক্রিম খাওয়া তাহলে হবে আর কিছু লাগবেনালামিয়া: এগুলো হলে বেশ চলবে ,,আরু: তোরা এই অল্পতে খুশি জেনে ভালো লাগলো ।টাকা পয়সা তো আসবে যাবে বন্ধুত্বের এই দিন গুলো এটা আর ফিরে আসবে না একবার চলে গেলে ।জয়ী: তা তো ঠিক বলেছিস তুই এখন এগুলো খাওয়া বাকি টাকা রেখে দে পরে কাজে লাগবে তুই কিছু কিনতে পারবি ।আরু: আয় দোকানেএরপর তিনজনে মিলে আইসক্রিম আর ফুচকা খেলো আর অনেক মজা ও করলো একসাথে ।অনেক পিকচার ও ক্লিক করলো ।লামিয়া: জয়ী এখন দেরি হচ্ছে না তোর খুব তো দেরি হচ্ছিলো এতক্ষণজয়ী: ট্রিট দিচ্ছে আরু কিভাবে মানা করতে পারি বল । এইবার চল আমার সত্যি দেরি হচ্ছে অনেকলামিয়া: আচ্ছা চল তাহলেলামিয়া বাসায় এসে গেলো রাতে পড়তে বসে আবার ছেলেটার কথা মনে পড়লো এরপর পড়ায় মন দিতে না পেরে মোবাইল নিলো হাতেভাবতে ভাবতে লামহাকে মেসেজ দিলোলামহা বললো: আমি আসার পর ছেলেটা তোকে ডিস্টার্ব করেছিলোলামিয়া: কথা বলার চেষ্টা তো করেছে অনেক আমি কথা না শুনার মত থাকি ।ছেলেটা কিন্তু কিউট আছে শুধু একটু বকবক করেলামহা: তুই এত বেশি পাত্তা দিসনা না হলে দেখবি আবার প্রেম করতে চাইবে বলা তো যায় না আজকাল কার ছেলেদেরলামিয়া বললো আমি কই পাত্তা দিচ্ছি।এসব ছেলেকে পাত্তা দেওয়ার সময় নেই।পরের দিন লামিয়া ওর পছন্দের একটা নেভি ব্লু কালারের ড্রেস পড়লো সাথে ম্যাচিং হিজাব।তখন ছেলেটা আসেনিলামিয়ার মুখে সারাক্ষণ মাস্ক থাকে যার কারণে কোনো ছেলে ওর মুখ দেখতে পারে না।লামিয়া সিটে বসে নাম লিখছে খাতায় ।লামহা: আজ কিন্তু আমাকে দেখাবি সব আমি কিছু পড়ে আসিনি।ঐ ছেলেটা তো এখন ও আসছে না কি ব্যাপার।লামিয়া: আমি কি করবো ছেলেটার সাথে আমার কি সম্পর্ক যখন ইচ্ছা আসবে।তোর জন্য হয়েছে ছেলে একটার পাশে নিয়ে এলি ।আমি ছেলেদের পাশে বসতে আন ইজি ফিল করি ।লামহা: বেঞ্চ তো খালি ছিলো প্রথম দিন ছেলেটা যে তোর পাশে এসে বসবে আমি কিভাবে বুঝবো ।আর প্রান্ত বসে ছিলো তোর পাশে প্রান্তকে তুলে তো ও বসলো।লামিয়া: প্রান্ততো এত বকবক করতো না ও চুপচাপ লিখতোলামহা: আগের বার একটা হুজুর বসে ছিলো ওটা আবার ভালো ছিলো ভদ্র ছিলোলামিয়া: ওটা ও বকবক করেনা এই কোত্থেকে যে এলো আমার পাশে এইবার আমার পরীক্ষা অনেক খারাপ হবেলামহা: আমার ওলালন স্যার: পরীক্ষা শুরুর আগে এত কথা বলছো পরীক্ষা শুরু হলে তো ক্লাস টা উড়ায় দিবে প্রশ্ন দেওয়ার আগে এত কিসের কথা ক্লাস টাকে পুরো মাছের বাজার বানায় ফেলছে ।সবাই সাইলেন্ট হয়ে গেলোকিছুক্ষণ পরে পাশে বসা ছেলেটি আসলো দেরি করে লামিয়ার দিকে তাকালো। লামিয়াকে সালাম দিলো লামিয়া ছেলেটার দিকে দেখলোনা।ছেলেটা বললো, আপনি আমার সালামের উত্তর দিচ্ছেন না কেন ??কানে শুনেন না।লামিয়া বললো ,আপনি সালাম কী আমাকে দিয়েছেন?ছেলেটি বললো তো কাকে দিবো।লামিয়া চুপ করে রইলোছেলেটি বললো আচ্ছা আপনি কী ম্যারিড?লামিয়া বললো, আমাকে দেখে কী ম্যারিড মনে হয়?ছেলেটি বললো,১ম দিন বোরকা পরছিলেন তো তাই মনে হলো আজকে আবার অন্যরকম লাগছে আপনাকেলামিয়া কোনো উত্তর দিলো নাছেলেটি,, রহমান ,রহমান করতে লাগলোলামিয়া বললো এখানে রহমান কে? আপনি কাকে ডাকছেনছেলেটি বললো আপনাকে ডাকছিলামিয়া বললো,আমার নাম তো লামিয়া সবাই আমাকে লামিয়া ডাকে।ছেলেটি বললো, আমি আপনাকে রহমান ডাকবো।লামিয়া: আপনি আমাকে এই নামে কেন ডাকবেন আচ্ছাছেলেটা: আমার ইচ্ছা তাই ডাকবো আপনাকে বলবো নাকিআপনি কী সব সময় মাস্ক পরে থাকেন,একটু মাস্কটা খুলেন না আপনাকে দেখতাম।লামিয়া বললো,না আমাকে দেখতে হবে না আমি ছেলেদের মুখ দেখাতে পছন্দ করিনাএরপর কিছুক্ষণ চুপ থাকলো আবার বললোছেলেটি বললো, আপনার ঘড়িটা অনেক সুন্দর হাতে অনেক মানিয়েছে আজ তো সব ম্যাচিং ম্যাচিং পড়েছেন ।লামিয়া বললো হয়েছে আর বলতে হবে না আমি কি জিজ্ঞেস করেছি আপনার কাছে ।ছেলেটি বললো ,ঐ জন্য তো পরীক্ষার না লিখে আপনার হাতের দিকে তাকিয়ে আছি (ছোট করে বললো)লামিয়া বললো,আপনি কী কিছু বললেন নাকি ?ছেলেটি অভিমানি সুরে বললো, আপনার থেকে শুনতে হবে না মুখ বেঁকিয়ে লিখতে লাগলোএকটু পর ...ছেলেটি ছোট করে আবার ডাকলো লামিয়াকেলামিয়া শুনে না শুনার ভান করলোছেলেটি রেগে গিয়ে বললো, আপনি কী কানে কম শুনেন?লামিয়া বললো জ্বী আমি কানে শুনি নাছেলেটি বললো, বলছিলাম যে আপনি কী জব করেন?লামিয়া উত্তর দিলো, আপনাকে কেন বলবোছেলেটি বললো,ও আচ্ছা না বললে থাকলামহা ছোট করে বললো: এই লামু আমাকে দেখা না একটুকিন্তু লামিয়া মনোযোগ দিয়ে লিখতে লাগলো একবার ও ফিরলো নাছেলেটা: আপনার বান্ধবী আপনার কথা শুনবে না মন প্রাণ দিয়ে লিখছে এখনলামহা এরপর লিখতে লাগলোকিছুক্ষণ পরেলামিয়া: এই লামহা বল কি জন্য ডাকছিলিলামহা: না এখন আর লাগবেনা তুই কেমন মেয়ে এত করে ডাকলাম একবার ও ফিরে দেখলিনা।তোর নাম্বার আমি পেয়ে এই জন্য ভয় পাচ্ছিস ।লামিয়া: তুই ভুল বুঝচ্ছিস আমাকে স্যার দেখছিলো আমি তো ফাস্ট বেঞ্চে বসেছিল কিভাবে ফিরবো ।লামহা: তোর হেল্প আমার লাগবেনা নিজে যেমন পারি তেমন লিখবোছেলেটা: বান্ধবী তো রেগে গেছে এবার কি করবেনটিচাররা বললো,মেয়েরা অনেকেই দেখেতেছি মাস্ক পরে কথা বলতেছে এই মেয়েরা মাস্ক খুলো।কথার আওয়াজ শুনতে পাচ্ছি মনে হচ্ছে।ছেলেটি ছোট করে বললো ,এইখানে একজন আছে ওকে মাস্কটা খুলতে বলেন ফেসটা দেখতাম।স্যার শুনতে পেলো না ছেলেটা লামিয়াকে শুনিয়ে বললোলামিয়া রাগী চোখে ছেলেটির দিকে তাকালো।ছেলেটি লামিয়া চোখ মেরে এক গাল হেসে দিল।(পরের পর্ব পড়তে পোস্টে কমেন্ট করুন রিয়েক্ট দিন তাহলে লিখতে উৎসাহিত হয়)
0 Comments