ঢাকার মেসে একা থাকা আদনান — পরিবারের চোখে ব্ল্যাক শিপ, নিজের চোখে একজন সংগ্রাহক। একাকীত্বও একটা রোমান্টিসিজম হতে পারে।
বা বা ব্ল্যাক শিপঢাকা শহরে একটা মেসের চার দেয়ালের ভেতর যদি গোটা একটা মহাবিশ্ব থাকতে পারে, তাহলে সেটা আদনানের ঘর।ঘরে একটা খাট, একটা টেবিল, একটা চেয়ার। দেয়ালে কোনো পোস্টার নাই। কারণ আদনান মনে করে দেয়ালে পোস্টার লাগানো মানুষ আসলে কাউকে কিছু prove করতে চাইছে। সে কাউকে কিছু prove করতে আগ্রহী না। টেবিলের উপর একটা ল্যাপটপ, দুইটা হার্ড ড্রাইভ, আর একটা হাতে লেখা খাতা। খাতার উপরে লেখা — “Archive”।বাইরে ঢাকা শহর তার নিজের মতো পাগলামি করছে। রিকশার হর্ন, মসজিদের আজান, পাশের ঘরের ভাড়াটের ঝগড়া। আদনান এসবের কোনোটাই শুনছে না। সে এখন ল্যাপটপের দিকে তাকিয়ে আছে। স্ক্রিনে চলছে Angel Beats-এর ট্রেন সিন। ট্রেনের চাকার শব্দের সাথে সাথে আদনানের চোখ ভিজে আসছে।সে কাঁদছে না। আদনান কাঁদে না। সে শুধু… feel করছে। এইটাই তার romanticism।বাইরের দুনিয়ায় আদনানের পরিচয় হলো — বাবার ছেলে না, মায়ের ছেলে না, ভাইয়ের ভাই না। সে হলো সেই লোক যাকে family-র group chat-এ কেউ tag করে না। বাবা ঢাকায় থাকেন, নতুন সংসার নিয়ে। মা থাকেন চট্টগ্রামে, নিজের মতো। বড় ভাই আমেরিকায়, last seen তিন মাস আগে। আদনান থাকে ঢাকায়, একা, একটা মেসে।পরিবারের ভাষায় সে হলো “ব্ল্যাক শিপ”। যে কিনা কিছু করে না, সারাদিন movies দেখে, series দেখে, manga পড়ে। যার কোনো “goal” নাই, কোনো “plan” নাই। আদনান এই label নিয়ে কোনো আপত্তি করে না। কারণ তার মতে — পৃথিবীর সবচেয়ে interesting মানুষগুলো হয় কালো ভেড়া, নয়তো মরে গেছে।রাত তিনটা। Angel Beats শেষ হয়েছে। আদনান খাতা খুলল। হাতে কলম নিল। সে লিখতে শুরু করল। বাইরে ঢাকা ঘুমিয়ে পড়ছে। আদনান জেগে আছে। কারণ ঘুমিয়ে পড়লে এই feeling চলে যাবে। আর এই feeling-ই তার কাছে সবচেয়ে দামি জিনিস — অন্য মানুষের গল্পের ভেতর দিয়ে নিজেকে feel করা। এইটাই তার বেঁচে থাকার কারণ।সকাল নয়টায় মেসের বাকি ছেলেরা অফিসে যায়। আদনান তখনও জেগে আছে। সে ঘুমায় দুপুরে। উঠে পড়ে বিকেলে। তারপর চা বানায়, ল্যাপটপ খোলে, আর ডুব দেয়।আজকে Disk 1 চলছে। Anime।আদনানের হার্ড ড্রাইভের system টা একটু আলাদা। সে শুধু দেখে না, সে archive করে। প্রতিটা জিনিস সে লিখে রাখে। কারণ সে ভয় পায় — ভুলে যাওয়ার ভয়। এত ভালো ভালো জিনিস দেখেছে, এত মানুষের গল্প জেনেছে — যদি সব ভুলে যায়?তার archive-এর প্রথম entry — Urusei Yatsura। একটা alien মেয়ে পৃথিবীতে আসে। একটা ছেলে তাকে defeat করে। সে তখন তার সাথে থেকে যায়। আগের girlfriend, নতুন alien wife — সব একসাথে। আদনান লিখেছিল — “এই anime দেখে আমার মনে হয়েছিল, relationships আসলে এতটাও complicated না। Problem হলো মানুষ নিজেই complicated।” নিজের কথা লিখছিল সে, কিন্তু বুঝতে পারেনি।পরের entry — Attack on Titan। এইটা নিয়ে সে অনেক লিখেছিল। Eren-এর বাবার backstory, Ymir-এর philosophy, right or wrong-এর দ্বন্দ্ব। সে ফেসবুকে গিয়েছিল মানুষের মতামত দেখতে। সবাই বলছিল এটা anime-র Game of Thrones। আদনান ভাবল — না। Game of Thrones হলো TV-র AoT।তারপর এলো Baccano। এই anime টা সে একরাতে দেখেছিল তার ভাইয়ের সাথে। ভাই তখন ঢাকায় ছিল। রাত বারোটায় শুরু করেছিল, ভোর পাঁচটায় শেষ করেছিল। দুইজনেই চুপ করে বসে ছিল শেষ episode-এর পর। “Pussyfoot” — ট্রেনের নামটা এখনও মনে আছে আদনানের। এখন ভাই আমেরিকায়। Last seen তিন মাস আগে। আদনান Baccano-র entry-তে লিখেছিল — “Me and my brother couldn’t help ourselves but to watch the whole anime in one single night.” তারপর আর কিছু লেখেনি। কিছু জিনিস আছে যেগুলো archive করা যায় না।আদনানের বয়স ২৫। প্রায় ২৬। সে নিজেই লিখেছিল — “I am not a kid anymore.” কিন্তু ২৬ বছর বয়সে কেউ যদি রাত তিনটায় একা একটা মেসের ঘরে বসে ৫ Centimeters Per Second দেখে চোখ ভেজায়, তাহলে কি সে সত্যিই আর kid না?৫ সেন্টিমিটার পার সেকেন্ড — চেরি ফুল পড়ার গতি। Makoto Shinkai-এর এই film-টা আদনান দেখেছিল Your Name-এর আগে। Film শুরু হলো। একটা ছেলে, একটা মেয়ে। দূরত্ব বাড়তে থাকে। জীবন এগিয়ে যায়। ভালোবাসা থেকে যায়, মানুষ যায়। শেষ scene-এ ট্রেন crossing-এ দুইজন দুই দিকে চলে যায়। আদনান pause করল। সে ভাবল — এই film-টা কে বানিয়েছে? এই মানুষটার ভেতরে কী ছিল? কোন ব্যথা থেকে এই গল্প জন্ম নিয়েছে?এইটাই আদনানের romanticism-এর core। সে film দেখে না শুধু। সে খোঁজে — যে মানুষটা এই গল্পটা বানিয়েছে, তার ভেতরে কী ছিল? বাস্তব জীবনে সে কারো সাথে connect করতে পারে না। বাবার সাথে না। মায়ের সাথে না। ভাইয়ের সাথে না। কিন্তু Makoto Shinkai-এর সাথে পারে। Isayama-র সাথে পারে। Robin Williams-এর সাথে পারে। তারা জানে না আদনান আছে। কিন্তু আদনান তাদের চেনে — হাড়ে হাড়ে।মেসের ম্যানেজার সাত্তার ভাই একদিন জিজ্ঞেস করলেন — “আদনান সাহেব, আপনি কী করেন?”“দেখি।”“মানে?”“মানে দেখি। Movies, series, anime।”সাত্তার ভাই এক মুহূর্ত চুপ থেকে বললেন — “এইটা দিয়া কি পেট চলে?”আদনান হাসল। “না।” “তাহলে?” “তাহলে কিছু না। পেট চলানোর জন্য অন্য কিছু করি। কিন্তু বাঁচার জন্য এইটা করি।”সাত্তার ভাই বুঝলেন না। চলে গেলেন। আদনান ঘরে ফিরে ল্যাপটপ খুলল।বাবা একবার call করেছিলেন। “কী করছিস?” “দেখছি।” “কী দেখছিস?” “একটা Japanese anime।” ফোনের ওপাশে নিঃশ্বাসের শব্দ। তারপর — “এই বয়সে এইসব দেখলে কি চাকরি হবে? বিয়ে হবে? জীবন হবে?” আদনান বলল — “জানি না।” “জানিস না মানে? ২৫ বছর বয়সে জানিস না?” “বাবা, তোমার বয়স কত?” “কী?” “তোমার বয়স কত এখন?” “৫২।” “৫২ বছর বয়সে তুমি কি জানো?”ফোন কেটে গেল।আদনান ফোনের দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর আবার ল্যাপটপের দিকে তাকাল। Mushishi চলছে। Ginko একটা ছেলেকে বলছে — “কিছু জিনিস জানার দরকার নেই। শুধু দেখলেই হয়।” আদনান মনে মনে বলল — ধন্যবাদ Ginko।মায়ের সাথে কথা হয় মাঝে মাঝে। মা জিজ্ঞেস করেন — “খাচ্ছিস ঠিকমতো?” “হ্যাঁ।” “ঘুমাচ্ছিস?” “হ্যাঁ।” “একা একা কষ্ট হচ্ছে না?” আদনান একটু চুপ করে থাকে। তারপর বলে — “না।” মা আর কিছু বলেন না। কারণ মা জানেন “না” মানে “হ্যাঁ”। কিন্তু কী বলবেন? তিনিও তো একা।মা একবার বলেছিলেন — “তুই বাসায় আয়। আমার সাথে থাক।” আদনান বলেছিল — “মা, তুমি চট্টগ্রামে। আমি ঢাকায়।” “তাতে কী?” “তাতে এই যে — আমি গেলে তোমার ভালো লাগবে। কিন্তু আমার দম বন্ধ হয়ে যাবে।” মা কাঁদলেন। আদনান ফোন রেখে দিয়ে Grave of the Fireflies চালু করল। দুইটা বাচ্চা। মা নেই। বাবা নেই। আদনান দেখল আর ভাবল — আমার কেউ নেই। কিন্তু Seita-র তবু বোন ছিল।ভাইয়ের নাম রাফি। তূর্য ভাই এখন আমেরিকায়। Software engineer। মাঝে মাঝে dollar পাঠান। আদনান dollar নেয়। বলে — “ধন্যবাদ।” তূর্য ভাই বলেন — “একটু কিছু করার চেষ্টা কর।” আদনান বলে — “করছি।” “কী করছিস?” “Baccano দেখছি।” ফোনের ওপাশে হাসির শব্দ। কারণ তূর্য ভাই Baccano চেনেন।“Pussyfoot?” — তূর্য ভাই বললেন।“Pussyfoot।” — আদনান বলল।এক মুহূর্তের জন্য দুই ভাই আবার একই ঘরে ফিরে গেল। সেই রাত বারোটায়, সেই ঢাকার মেসে। তারপর তূর্য ভাই বললেন — “ঠিক আছে। ভালো থাক।” ফোন কেটে গেল। আদনান Baccano-র entry বন্ধ করল। কিছু জিনিস archive করা যায় না।আদনান একবার Code Geass download করেছিল। Delete করেছিল। আবার download করেছিল। Lelouch — একটা ছেলে যে পুরো দুনিয়াকে manipulate করতে পারে। আদনান ভাবল — Lelouch-এর সবচেয়ে বড় tragedy কী? সে সবাইকে ভালোবাসত। কিন্তু কাউকে সত্যিটা বলতে পারত না। আদনান entry লিখল — “His creation of zero and the epic ending I will not forget ever.” কিন্তু মনে মনে ভাবল — আমিও কাউকে সত্যিটা বলি না।একদিন রাতে আদনান Paranoia Agent দেখতে বসল। Satoshi Kon দেখাল — paranoia কোথা থেকে জন্ম নেয়। একজন মানুষ যখন সত্যিটা সামলাতে পারে না, তখন সে নিজেই একটা monster তৈরি করে। সেই monster তাকে rescue করে। আদনান pause করল। সে কি নিজের জন্য একটা monster তৈরি করেছে? তার monster-এর নাম কি — movies? Anime? Archive? দীর্ঘ একটা মুহূর্ত সে চুপ করে বসে রইল। তারপর বলল — হ্যাঁ। পালাই। কিন্তু যেখানে পালাই সেটা এতটাই সুন্দর যে সেটাকে পালানো বলতে ইচ্ছে করে না।আদনানের archive-এ একটা section আছে যেটা সে কাউকে দেখায় না। Salman Shah Collection। আমার ঘর আমার বেহেশত। বুকের আত্মার আগুন। সুজন সখি। আদনান এগুলো দেখে না বলতে পারলেও দেখে। কারণ এগুলো তার মায়ের favorite ছিল। ছোটবেলায় মা দেখতেন, আদনান পাশে বসে দেখত। তখন সে বুঝত না কিছু। শুধু মায়ের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকত — মা হাসছেন, মা কাঁদছেন, মা দীর্ঘশ্বাস ফেলছেন। এখন সে বোঝে। Salman Shah-এর প্রতিটা film-এ একটা ছেলে আছে যে ভালোবাসে, লড়াই করে, শেষপর্যন্ত হারে। কিন্তু হারার আগে পর্যন্ত সে পুরোটা দিয়ে বাঁচে। আদনান ভাবে — মাও কি কখনো এভাবে ভালোবেসেছিলেন? এই প্রশ্নটা সে মাকে কোনোদিন করেনি। করবেও না। কিন্তু archive-এ রেখেছে।একদিন রাতে আদনান Apur Sansar দেখছিল। Satyajit Ray-এর Apu — সেও কোথাও fit করে না। না গ্রামে, না শহরে। না পরিবারে, না সমাজে। সে শুধু চলতে থাকে। আদনান pause করল। বাইরে তাকাল। ঢাকার রাস্তা। রিকশা। মানুষ। সে কি এই শহরের অংশ? না। সে কি এই দেশের অংশ? Archive-এ আছে — Monpura, Guerrilla, Lalsalu, Moner Manush। তার দেশের গল্প। কিন্তু সে নিজে এই গল্পের কোথায়? সে জানে না। সেই না-জানাটাই হয়তো তার গল্প।রাত চারটায় আদনান Welcome to NHK দেখছিল। Satou — একটা hikikomori। ঘর থেকে বের হয় না। সমাজ থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন। আদনান দেখতে দেখতে থামল। ঘামছে। কারণ Satou-এর ঘর আর তার ঘরের মধ্যে পার্থক্য কতটুকু? Satou ঘর থেকে বের হয় না। আদনান বের হয় — চা কিনতে, মাঝেমধ্যে ভাত খেতে। কিন্তু তারপর? সে entry লিখল — “Good anime.” এইটুকুই। বাকিটা লেখেনি। কারণ বাকিটা লিখলে নিজের কথা লিখতে হয়।Full Metal Alchemist Brotherhood। দুই ভাই। Edward আর Alphonse। মাকে ফিরিয়ে আনতে গিয়ে সব হারিয়েছিল। এক ভাই sacrifice করেছিল তার power। অন্য ভাই ফিরে পেয়েছিল তার শরীর। আদনান দেখছিল আর ভাবছিল — তূর্য ভাই কি তার জন্য কিছু sacrifice করেছেন? হয়তো আমেরিকায় গিয়ে ভালো থাকা, dollar পাঠানো — এইটাই তার sacrifice। কিন্তু Edward-Alphonse-এর মতো হাত ধরে পাশে থাকা — সেটা আর হয় না। সেটা আর হবেও না।Archive-এ আছে Robin Williams Collection। Dead Poets Society। Good Will Hunting। The Fisher King। এই মানুষটা এত হাসি দিয়ে গেছে। এত আনন্দ দিয়ে গেছে। কিন্তু ভেতরে ভেতরে সে ছিল একা। আদনান ভাবে — আমি কি Robin Williams-এর মতো? না। Robin Williams মানুষকে হাসাতেন। আদনান মানুষের সামনে যায়ই না। কিন্তু একটা মিল আছে — দুইজনেই নিজের জন্য কিছু রাখেনি। Robin Williams রাখেননি কারণ সবাইকে দিয়েছিলেন। আদনান রাখেনি কারণ নেওয়ার মানুষ ছিল না।একদিন সকালে আদনানের ফোনে message এলো। তূর্য ভাই পাঠিয়েছেন — “দেশে আসছি। ২ সপ্তাহের জন্য। দেখা হবে।”আদনান message-টা পড়ল। রেখে দিল। ল্যাপটপ খুলল।Vinland Saga চলছে। Thorfinn — একটা ছেলে যে সারাজীবন শুধু revenge-এর জন্য বেঁচেছিল। তারপর একদিন সে বুঝল — revenge নিলেও কিছু হবে না। তখন সে প্রথমবার জিজ্ঞেস করল নিজেকে — “আমি আসলে কী চাই?”আদনান দেখছিল আর ভাবছিল — আমি কী চাই? কিছু না। না, মিথ্যে কথা।সে চায় — কেউ একজন পাশে বসে Baccano দেখুক। রাত বারোটায় শুরু করুক, ভোর পাঁচটায় শেষ করুক। তারপর চুপ করে বসে থাকুক। কোনো কথা না। শুধু পাশে থাকুক।তূর্য ভাই আসছেন। দুই সপ্তাহের জন্য। আদনান ফোন তুলল। Message করল — “ঠিক আছে।”তারপর ল্যাপটপের দিকে তাকাল। Thorfinn এখন হাঁটছে। সামনে কোথাও একটা জায়গা আছে যেখানে যুদ্ধ নেই।আদনান ভাবল — আমার সেই জায়গাটা কোথায়? সে জানে না।কিন্তু সে খুঁজছে। হার্ড ড্রাইভের পর হার্ড ড্রাইভ, গল্পের পর গল্প — সে খুঁজছে।একদিন হয়তো পাবে। অথবা পাবে না। কিন্তু খোঁজাটা বন্ধ করবে না। কারণ এইটাই তার romanticism।আদনানের খাতার শেষ পাতায় লেখা — “Now I thought how I will start, the decision came to my mind to start from my disks. to go outdoor.”Outdoor। সে লিখেছিল outdoor-এ যাবে। এখনো যায়নি। কিন্তু একদিন যাবে।যতদিন না সেই দিন আসে — সে এখানেই আছে। ল্যাপটপের সামনে। হার্ড ড্রাইভের পাশে। খাতা হাতে।
ঢাকার মেসে একা থাকা আদনান — পরিবারের চোখে ব্ল্যাক শিপ, নিজের চোখে একজন সংগ্রাহক। একাকীত্বও একটা রোমান্টিসিজম হতে পারে।
0 Comments