“মুখোশের আড়ালে” একটি দ্বীনি চেতনা, পারিবারিক মূল্যবোধ ও সমাজের লুকানো মুখ উন্মোচনের গল্প। গল্পের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ১৭ বছর বয়সী ইফরা আরশি—একটি সাধারণ, পর্দানশীন, আল্লাহভীরু মেয়ে, যে ঝালকাঠির আধা-গ্রাম আধা-শহর পরিবেশে বড় হচ্ছে। তার পরিবার ধর্মীয় মূল্যবোধে বিশ্বাসী; মা আরও ফাতিহা একজন ধৈর্যশীলা ও সচেতন নারী, যিনি মেয়েকে বন্ধুর মতো আগলে রাখেন এবং দ্বীনের পথে পরিচালিত করার চেষ্টা করেন।
মুখোশের আড়ালে(পর্ব -৩+৪)
লিখিকা_সানজিদা_আফরিন __________________________________________ ফজরের আযানের ধ্বনিতে ইফরার ঘোমটা ভেঙে গেল, ঘুম থেকে উঠে ঘুম থেকে ওঠার দো\'আ পড়ে ওয়াশরুমে চলে গেল ওযু করে আসলো তারপর হিজাব পরিধান করে না নামাজ পড়লো সবার জন্য দোয়া করলো, তারপর জানালার কাছে গেল, তাদের এই বাড়ির পিছন দিকে একটি মাটির ঘর আছে, সেখানে খর কোটা ভাঙ্গা জিনিসপত্র রাখা আছে, ইফরার মাটির ঘর গুলো অনেক ভালো লাগে, তার জানালা থেকে মাটির ঘরটা স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, মাটি করে সামনে তার শখের ফুল চারা গুলো অনেকগুলো ফুল ছাড়া সে লাগিয়েছে অনেকগুলো ফুল চারার নাম সে নিজেও জানে না, সে ঘর থেকে বের হয়ে চলে গেল তার ছোট্ট বাগান টির কাছে গিয়ে পানি দিতে লাগলো আর আল্লাহর জিকির করতে লাগলো ।অবশ্য চারদিকে দেয়াল দেওয়া আছে বাউন্ডারি, বাউন্ডারির ভিতরে তাদের একতলা বিশিষ্ট বাড়ি এর পিছন সাইটে এই মাটির ঘরটা মাটির ঘরের সামনে ছোট্ট শখের বাগান আর সামনে মধ্যম সাইজের উঠান তার বরাবর গেট. তারপর চলে গেল আবার রুমে গিয়ে একটু কোরআন তেলাওয়াত করলো, এবং তার তরজামা তারপর এই আয়াতটা সে বারবার পড়তে লাগলো তার কেন জানি না এই আয়াতটা অনেক ভালো লাগছে, আয়াত (সুরা নিসা ৪:৩৪) عَصَٰمَاتُهُمْ عَلَى ٱلنِّسَآءِ۟ بِمَا فَضَّلَ ٱللَّهُ بَعْضَهُمْ عَلَىٰ بَعْضٍ وَبِمَآ أَنفَقُوا۟ مِنْ أَمْوَٰلِهِمْ ۚ فَٱلصَّٰلِحَٰتُ قَٰنِتَٰتٌ حَٰفِظَٰتٌ لِّلْغَيْبِ بِمَا حَفِظَ ٱللَّهُ ۚ وَٱلَّٰتِي تَخَافُونَ نُشُوزَهُنَّ فَعِظُوهُنَّ وَٱهْجُرُوهُنَّ فِي ٱلْمَضَاجِعِ وَٱضْرِبُوهُنَّ ۖ فَإِنْ أَطَعْنَكُمْ فَلَا تَبْغُوا۟ عَلَيْهِنَّ سَبِيلًا ۗ إِنَّ ٱللَّهَ كَانَ عَلِيًّا كَبِيرًا বাংলা অর্থ“ পুরুষ হলো নারীর অভিভাবক, কারণ আল্লাহ একজনকে অন্যের ওপর কিছু ক্ষমতা ও দায়িত্ব দিয়েছেন এবং তারা তাদের সম্পদ থেকে ব্যয় করে। তাই নেক নারীরা ভক্তিময়, ভদ্র এবং নিজের গোপনীয়তা রক্ষা করে। আর যারা তাদের বিদ্রোহ বা অমান্য আচরণের জন্য ভয় পান, তাদের প্রথমে ন্যায়ভাবে উপদেশ দাও, তারপর বিছানায় আলাদা করো, এবং প্রয়োজনে সতর্কভাবে হালকা শাস্তি দাও। যদি তারা তোমার কথা মেনে চলে, তবে তাদের প্রতি কোনো হিংসা বা অত্যাচার করার পথ খুঁজো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বশক্তিমান, মহান।” সে জেনারেল লাইনে পড়াশোনা করে কিন্তু তার অনেক ইচ্ছে ছিল মাদ্রাসায় পড়াশোনা করার কিন্তু তা আর হলো না তার মূল কারণ হয়তো তার ফুপি, তার ফুপি আবার এসব পছন্দ করে না তার কাছে নাটক মনে হয় সে চলাফেরা করে আজকালকার যুগের সাথে তাল মিলিয়ে, তার আসমা ফুপি আবার তিন মেয়ে, লিসা, লিনা, ইরা। কিন্তু তার মা খুব ধার্মিক তাই হয়তো সে যতটুকু পারুক ইসলাম মান্য করতে পারছে, কিন্তু তার ফুপি তার মাকে অনেক কথা শোনায় তার জন্য, তার মাও সব সহ্য করে নেয়, সে তার মার মত ধৈর্যশীল নারী আর দেখিনি, তার বাবাও কিছু বলে না ,কি আর বলবে বড় বোন হয়, তারপর তার মার সাথে রান্নায় সাহায্য করতে লাগলো আর গল্প করতে লাগলো, তার বাবা খাওয়া-দাওয়া শেষ করে চলে গেলেন সেও বোরকা পরে হাত মোজা পড়ে চলে গেল কলেজের উদ্দেশ্যে, এভাবেই চলতে লাগল দিনগুলো, দেখতে দেখতে এক মাস চলে গেল, আজকে তাদের বাড়িতে আনন্দের দিন কারণ তার ফুপ্পি আসছে, কিন্তু তা ইফরা পছন্দ করছে না তার ফুপি তাদের বাসায় আসছে, এমন না যে সে তাকে আদর করে না কিন্তু তার কথাগুলো খুব তার মায়ের হৃদয় খণ্ড বিখন্ড করে দেওয়ার মত, নয়তো বাকি মেহমান আসলে তো সে আরো খুশি, মেহমান আল্লাহর রহমত, কিন্তু খুশি তখনই দ্বিগুণ হয়ে গেল যখন শুনতে পারলো তার ফুফাতো বোনেরাও আসছে সাথে, তার খুশি দেখে কে সে সব ঘর গুছিয়ে-টচিয়ে গোসল করে নতুন জামা কাপড় পরে একদম বের হলো , লিসা আপুর বিয়ে হয়ে গিয়েছে তার একটি ছেলে আছে, আর রইল লিনা আপু সে ভার্সিটি তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী, আর-ইরা সে এবার ক্লাস সেভেনে পড়ে তার সাথে আবার খুব ভাব, তারপর তারাও চলে আসলো সবাইকে সালাম দিয়ে ভালো মন্দ জিজ্ঞেস করে তাদের নিয়ে গেল ডাইনিং রুমে শরবত দিল সবাইকে তারপর হালকা পাতলা খাবার দিল, আসমা বেগম বললেন, কিরে আরশি তোর মা তো দেখি অনেক মোটা হয়ে গিয়েছে স্বাস্থ্য তো ভালই তা ভালো হবে না সারাদিন তো কোন কাজকর্ম করে না একটা কাজকর্ম দেখ আমি সারাদিন শুধু কাজকর্ম করি এই দুটো কি নিয়ে সারাদিন জ্বলে মরি একটাকে তো বিদায় দিয়ে দিয়েছি, ইফরা ঠিকই বুঝতে পারল, কথা যে তার মাকে উদ্দেশ্য করে বলল তার ফুপি, সে কিছু বলল না ভদ্রতার খাতিরে বড় দেখে সম্মান করল নয়তো সে তার যে রাগ লাগছিল, তার মা সব সময় মত চুপ কোন কথা বলল না, লিনা বলল কিরে আরশু তোর পড়ালেখার কি খবর? আর বলো না পড়ালেখা ঠিকই চলে যাচ্ছে কিন্তু আমি এখনো দাঁড়িয়ে আছি, লিনা বলল তুই আর ভালো বলি না এখনো সময় আছে ভালো ভাবে পড়ালেখা কর নিজের জীবন সেট কর, নিজের পায়ে দাঁড়া, কেন আপু আমি কি এখন অন্যের পায়ে দাঁড়িয়ে আছি? ইরা ফিক করে হেসে দিল, লিনা বিরক্ত বোধ করলো সে আর কথা বাড়ালো না, তারপর সবাই কতক্ষণ আড্ডা দিয়ে যে যার রুমে চলে গেল, লিনা আরতার মায়ে এক রুমে আর ইফরা আর ইরা রুমে, ইফরা আপু ও জানো, তোমারকে আমার এত ভালো লাগে, ইফরা ঘুমের ঘোরে বলল পরে, আমি যদি ছেলে হতাম আর তোমার থেকে বড় হতাম তাহলে তোমাকে বিয়ে করতাম, কথাটা শুনেই তার ঘুম চলে গেল ফিক করে হেসে দিল, তারপর ইরার খাল টেনে বলল ওরে পাকনা বুড়ি হইছে এবার ঘুমা তাড়াতাড়ি কাল সকাল সকাল উঠতে হবে, এভাবেই দুষ্টু মিষ্টি গল্প করতে করতে তারা ঘুমিয়ে গেল, তারপর সকালে উঠে তারা দুজনে নামাজ পড়ে নিল ইরা যদিও বা পড়ে না, কিন্তু তারপরও আপুর সাহায্যে মানে ইফরা সাহায্য যেসব শিখে নিয়ে নামাজ পড়তে পারে সে, এখন সে তার বড় দুই বোনের মতন নয় তারা এত বড় হয়ে ও কোনরকম ওড়না টানে আবার মাঝেমধ্যে নেইও না আর সেই হিজাব মেনটেন করে চলে যদিও বা ইফরার মত ফুল পর্দা করে না। তবে সে চেষ্টা করে তার আম্মুর বকা খেয়েও আজকে লিনা ইরা আর ইফরা ঘুরতে এসেছে, ঝালকাঠি একটি সুন্দর্যময় জায়গা জায়গাটির নাম মধুময়ী, নামটি যেমন সুন্দর জায়গাটিও তেমন সুন্দর সারি সারি চারিদিকে গাছ বাতাস আবার রেস্টুরেন্টের মত ছোট ছোট করে ঘর চারিদিকে বাতাস আর বাতাস প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এগিয়ে রাখা পরিবেশ, পাশ দিয়ে বহমান প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আরেক নাম নদী লতারাহে নদী, যাতিরে তীরে ঢেউ আসছে আবার যাচ্ছে, আপন মনে যেন কেউ কোন বাধা মানছে না আল্লাহর এক অপরূপ সৃষ্টি, চারিদিকে যাহা চাইবে তাহাই আল্লাহর সৃষ্টি, তার সৃষ্টি এত সুন্দর না জানি তিনি কত সুন্দর পবিত্র, দয়ালু ক্ষমাশীল, ইফরা নদীর পাশে গাছের কাছ ঘেঁষে গুনগুনিয়ে গাইল খুব নিম্নে শুরে যা সে ছাড়া আর কেউই যাতে শুনতে না পায়, ইফরা আল্লাহর অপরূপ প্রাকৃতিক দৃশ্য দুচোখ ভরে দেখে গুনগুনিয়ে গাইতে শুরু করলো, ........... মেঘমালা আকাশে উড়ে উড়ে যায় পর্বত চূড়া হয়ে আড়ালে হারায়, মেঘমালা আকাশে উড়ে উড়ে যায় পর্বত চূড়া হয়ে আড়ালে হারায়, ফিরে আসে ধরা তলে বৃষ্টি কায়ায়, ধুয়ে যায় সবুজেরা আনন্দীতায়, মেঘমালা আকাশে উড়ে উড়ে যায় পর্বত চূড়া হয়ে আড়ালে হারায়, তোমার সৃজন মাঝে খুঁজি তোমায় কাননে ফুলেরা হাসে স্নিগ্ধ মায়ায়, তোমার সৃজন মাঝে খুঁজি তোমায় কাননে ফুলেরা হাসে স্নিগ্ধ মায়ায়, অপরূপ সাজেখোল বাহাড়িশোভায়, পাহাড়ি সারি সারি গাছেরও ছায়ায় আল্লাহ ,আল্লাহ ,সুবহানাল্লাহ আল্লাহ, আল্লাহ, সুবহানাল্লাহ মেঘমালা আকাশে উড়ে উড়ে যায় পর্বত চূড়া হয়ে আড়ালে হারায়, ইরা ডাকে তার হুশ ফিরল, ইরা বলল আসো আপু ফুচকা খাই, সাথে সাথে ইফরা বলল নাক ছিটকে তোরা খা আমি খাব না, লিনা বলল কেন? আমার ফুচকা ভালো লাগেনা বলে একটা মুচকি হাসি দিল যা নেকাবের আড়ালে রয়ে গেল, ইরা বলল আরে আপু আমরা তো কুড়ে ঘরের ভিতরে গিয়ে খাবো ওইখানে নিকআপ উঠালে কেউ দেখবে না তোমার মুখ, ইফরা আরে এর জন্য না আমার ফুচকা ভালো লাগেনা মানে রুচিতে বাধেনা তোমরাই খাও আমি না হয় ঝাল মুড়ি খাব বলে তারা কুঁড়েঘরের দিকে এগিয়ে গেল এবং ভালোভাবে চারদিক দেখে ইফরা নিকআপ খুলে খাওয়া শুরু করলো, যেখানে সব মেয়েরা ফুচকা বলতে পাগল সেখানে সে ফুচকা পছন্দ করে না, লীনা তার দিকে অদ্ভুত ভাবে তাকিয়ে রইল যেন ভাবল সবদিক থেকে অদ্ভুত মেয়েটা যেমন চিন্তাধারা তেমন কর্ম। তারপর তারা অনেক কিছু কিনলো ঘুরলো তারপর বাসায় এসে পড়ল কারণ তারা এখন আবার চলে যাবে ইফরা খুব মন খারাপ করে বলল আবার কিন্তু তাড়াতাড়ি আসবে, ইরা তো কান্নাই করে দিল, ইফরা অনেক কিছু বুঝিয়ে তুঝে তারপর পাঠিয়ে দিল, তারা চলে গেল সন্ধ্যা নেমে এলো চারিদিকে পাখির কিচিরমিচির ডাগ যেন তারা তাদের ঘরে ফিরে যাচ্ছে আপন নীড়ে, আপন বাসস্থান, সারাদিনের ক্লান্ত ঘুরে চলে যাচ্ছে , তারা কোন কাজ করে না রোজগার করে না তাও আল্লাহ তাদের ভাগ্যে রিজিক রেখে দিয়েছেন, আর এইদিকে আমরা রিজিক নিয়ে কত কিছু, মারামারি , কথা কাটাকাটি, হিংসা-বিদ্বেষ ইত্যাদি অথচ আমাদের জন্মের আগেই আল্লাহ নির্ধারণ করে রেখেছেন কার ভাগ্যে কতটুক রিজিক রেখেছেন, ইফরা ভাবল, কতই না ভালো হতো , মানুষ যদি মানুষকে ভালোবাসতো মানুষের মনে যদি কোন হিংসা বিদ্বেষ না থাকতো একজন অপরজনকে ভাইয়ের নজরে দেখতো একজন আঘাত পেলে আরেকজনের মনের ক্ষত উদয় হতো, সবাই মিলেমিশে একসাথে থাকতো একটি সুন্দর দুনিয়া গড়তো কালো সাদা গরিব ধনী এইসব নিয়ে কেউ পরোয়া না করত!! ভেবে দীর্ঘশ্বাস ছাড়লো। \"যা ভাবনা দিয়ে তৈরি হয় তা হয়তো বাস্তবে পূর্ণ হয় না!! ভাবনা যদি সুন্দর হয় ভাবতে তবে সমস্যা কোথায়? সানজিদা আফরিন, যে ভাবনাগুলো নিঃশব্দে জন্ম নেয় হৃদয়ের অন্ধকার কোণে, সেগুলো কি সবই বাস্তবের রোদে বাঁচতে পারে? না, পারে না। কিছু স্বপ্ন কেবল স্বপ্নই থাকে যেন জানালার কাঁচে জমে থাকা বৃষ্টির ফোঁটা, ছোঁয়ার আগেই ঝরে যায়। তবু মানুষ ভাবতে ভালোবাসে। কারণ ভাবনার ভেতর কোনো নিষেধ নেই, কোনো হারানোর ভয় নেই, কোনো অসম্ভবের দেয়াল নেই। বাস্তব কখনো কঠিন, কিন্তু কল্পনা? সে তো মনের নিজের রাজ্য— যেখানে হারিয়েও জেতা যায়, না পেয়েও পাওয়া যায়। তাই যদি ভাবনাটা সুন্দর হয়, তবে তাকে আটকে রাখার মানে কী? স্বপ্ন পূর্ণ হোক বা না হোক, মনের আকাশে তার উড়ে বেড়ানোতেই তো একরাশ শান্তি। ___________________________ সানি নামের একটি ছেলে আপ্রাণ দৌড়ে যাচ্ছে আর তার পিছনে দৌড়ে যাচ্ছে ১২ ১৩ জনের মতো ছেলে, সানি নামের সেই ছেলেটি অবশেষে হার মানলো সাথে তাকে অবশেষে ধরেই ফেলল, সে ছেলেগুলো তাকে টানতে টানতে গাড়িতে উঠালো এবং নিয়ে গেল চেয়ারম্যান বাড়ি, বিলাসবহুল রাজবাড়ির মত একটি বাড়ি গাড়িটি বিশাল গেট দিয়ে ভিতরে ঢুকলো, বাড়িতে এক সাইডে বড় বিশাল একটি ঘর আছে, যার নাম দেওয়া হয়েছে কুটির, সেই ঘরের ভিতর বসে আছে বর্তমান চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ মাহমুদ পূরণে সাদা পায়জামা পাঞ্জাবি মাথায় টুপি, চেয়ারের উপর বসে আছেন পায়ের উপর পা তুলে বয়সের ভারে তাকে ধরতে পারছে না, গম্ভীর ও কঠিন মনের মানুষ, যা জনগণের সামনে এক পিছনে আরেক, কুটির খুব বিশাল অনেকগুলো কক্ষ আছে যেন এক কক্ষের ভিতরে গেলে আর কতগুলো কক্ষ হঠাৎ করে মানুষ গেলে মানুষ গুলিয়ে ফেলবে কোনটা কোন কক্ষ, কুটির ঘরের সামনে বড় বারান্দা, সানি ছেলেটির শার্টের কলার ধরে ছেলেগুলো টানতে টানতে চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ মাহমুদ এর পায়ের কাছে ফেললেন , সানি নিজের জীবন ভিক্ষা চেয়ে বসলো সামনে বসা চেয়ারম্যান এর কাছে, চেয়ারম্যান সাব আমাকে মাফ করুন আমার জীবন ভিক্ষা দিন আমার পরিবার আছে আমার কিছু হলে তারা না খেয়ে মরবে কেউ তাদের দিকে এগিয়ে আসবে না, চেয়ারম্যান সাহেব তার পাশে থাকা লাঠি নিয়ে তাকে আঘাত করতে করতে বলল এ কথাটা আমার সাথে বেঈমানি করার আগে মনে পরল না, আমার টাকায় চলে আমার পিছে চুরি বসানো, ওই ভিডিও গুলো কই বল, না হলে তোর সাথে তোর পরিবারকেও মারবো, সানি ভয়ে তার মোবাইল বের করে, মোবাইলের লুকানো ভিডিও গুলো তাকে দিয়ে দিল যেখানে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ মাহমুদ, ধারালো অস্ত্র দিয়ে একজনকে মেরেই চলেছে যার চামড়া ছিড়ে রক্ত বের হয়ে যাচ্ছে তবুও তিনি থামছেন না অবশেষে, ধারালো চাপাটি পাতি ধারা তার মুখকে খন্ড বিখন্ড করল, তার মুখে রয়েছে হিংস্র ছায়া যা জনগণ জানে না, সানি লোকটি তারই কিন্তু তার সাথে বেইমানি করে ভিডিওগুলো ভাইরাল করতে চাইছিল, তাকে বোকা বানাতে চাইছিল এই চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ মাহমুদকে যে তিন তিনবার জয়ী হয়ে চেয়ারম্যানের চেয়ারে বসে আছেন, তারপর মোবাইল থেকে সব ভিডিও গুলো ডিলিট করে একটি মুচকি হাসি দিল চেয়ারম্যান পাঞ্জাবির পকেট থেকে পিস্তল বের করে হুট করে ই তার কপাল বরাবর শুট করে দিল। একটি হাসি দিয়ে বেরিয়ে এলেন চেয়ারম্যান, তাকে যেতে হবে আবার একটি মিটিংয়ে সে গোসল করে বেরিয়ে পড়লেন, পিছন থেকে তার স্ত্রী আম্বিয়া আইরিন একটি দীর্ঘশ্বাস বএবং মনে মনে নিজেকে বুঝ দিতে লাগলেন, ধৈর্য ধর আম্বিয়া ধৈর্য ধর আল্লাহ নিশ্চয়ই ন্যায় বিচারক, তারা জুলুম অত্যাচার করতেই থাকবে আর ছাড় পেয়ে যাবে?? আল্লাহ ছাড় দেয়, কিন্তু ছেড়ে দেয় না, তবে তার খুব দুঃখ হয় সে চেয়েছিল সাধারণ একটি জীবন যাপন একটু ভালোবাসা, একটু যত্ন , কিন্তু তিনি পেলেন না । তিনি নিজেকে বুঝ দেন ,আল্লাহ যাদের ভালবাসেন তাদেরই বেশি বেশি পরীক্ষা নেন, ফেরাউনের ঘরেও তো আসিয়া ছিলেন, তার স্বামী কি ফেরাউনের থেকে উভয়ানক ? তাহলে তিনি কেন পারবেন না তিনিও তো আল্লাহর বান্দা, ইনশাআল্লাহ তিনি পারবেন, তবে তিনি ক্ষমা করবেন না স্বামী নামক মানুষ তাকে তার জন্য আজ তার ছেলে তার থেকে দূরে তার নারী ছেড়া ধন, বলেই চোখের পানি ফেলে দিলেন, তার দুই ছেলে এক মেয়ে, মেয়েটা পড়াশোনা করছে এবার ইন্টার ফাস্ট ইয়ারে, আর এক ছেলে অনার্সে পড়ে, আর আরেকজন , তার স্বামীর সাথে ঝগড়া করে আজ চার বছর বাড়ির বাইরে মাঝে মাঝে যোগাযোগ হয় সে নিজেই যোগাযোগ করে কিন্তু তারা নিচ থেকে যোগাযোগ করতে পারেনা। তার ছেলেটা আবার অনেক সৎ তিনি এই নিয়ে গর্বিত কারণ তিনি তার এই ছেলেকে মানুষ করতে পেরেছেন, আলহামদুলিল্লাহ, তিনি তার বড় ছেলেকে নিজের মতন করে মানুষ করেছেন কিন্তু ছোট ছেলে মেয়েকে পারেননি ছোটটা তার বাপের পথেই চলে গিয়েছে বখাটে মত রাস্তাঘাটে পড়ে থাকে, মেয়েদের ডিস্টার্ব করে বাপের ক্ষমতার দেখিয়ে কেউ কিছু বলেও না, রাহাত কে, আর আরেকজন মেয়ে নিশি আছে সে তো উড়নচণ্ডী সারাদিন এই শপিং থেকে ওই শপিং রূপচর্চা কোন গোমতি রাখেনা তাও তারা আফসোস সে কেন কালো ?? আসলে তার মেয়ে পেয়েছে তার বাবার গায়ের রং আর ছেলে দুটা পেয়েছে তার মতই ধবধবে সুন্দর, কিন্তু ছোট ছেলেটার সুন্দর হলেও মন কুৎসিত, বড় ছোট কাউকে পরোয়া করে না, আর বড় ছেলের নাম উমাইর মাহমুদ, শুনেছে তার বড় ছেলেটা ব্যবসা করছে তিনি দোয়া করেন সব সময় তার ছেলেটা যেন ভালো থাকে সব সময় আল্লাহ তাকে উত্তম প্রতিদান দান করুক। হয়তো মায়ের দোয়া আল্লাহ তাড়াতাড়ি কবুল করেন তাই তো দুই বছরের মধ্যেই তার ব্যবসা অনেক উন্নতি হয়েছে মাশাআল্লাহ, তার ব্যবসার মধ্যে অনেক কিছুই আছে যেমন আতর, টাটকা সৌদি থেকে খেজুর বাদাম ইত্যাদি হজের জিনিসপত্র অনেক বড় ফ্যাক্টরি , সেটা শুনে আরে বেশি খুশি হয়েছে কারণ এটি হালাল ব্যবসা এবং তাতে সওয়াব রয়েছে, আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল করেছেন, কিন্তু কয় জনই বা ব্যবসা হালালভাবে করে? ভাবনার মাঝে তার ফোনে একটি কল এলো যা দেখি তার মুখে মুচকি হাসি ফুটে উঠলো, হ্যাঁ তার সোনার টুকরা ছেলে কল দিয়েছে, আসসালামু আলাইকুম মা কেমন আছো ? ওয়ালাইকুম আসসালাম , তা যেনে আপনার লাভ নেই, এতদিনে মনে পড়েছে আমায়,?? উমাইর বুঝলো তার মা রাগ করে আছে, সে ভরাট গম্ভীর স্বরে বলল, আপনি যদি আমার উপর রাগ করে থাকেন তাহলে তার কিছু করার নেই তাহলে আর আপনাকে আমি আর কল করবো না আমার সাথে কারো কথা বলা লাগবে না, আর আপনার স্বামী কে বলবেন তিনি যেন আমার কোন বিষয় নাক না গলা তাহলেই উত্তম, তিনি বুঝলেন এখন তার রাগ দেখানো ভালো ঠেকছে না তাই আদর মাখা গলায় বলল, বাবা কবে আসবি তুই আমার যে তোকে ছাড়া ভালো লাগছে না, বলেই হু হু করে কেঁদে উঠলেন, মা চিন্তা করোনা আমার এইখানকার সব কিছু সামনে নিয়ে ওই জাহান্নাম মত জায়গা থেকে তোমাকেও নিয়ে আসবো ইনশাআল্লাহ, তিনি বললেন ,ইনশাআল্লাহ তারপর দেখলেন তার ছেলে কল কেটে দিয়েছেন , তার ছেলেটা অন্যরকম সব দুঃখ কষ্ট বুকে নিয়ে চুপচাপ থাকবে, ইফরা কলেজ শেষ করে কলেজের ক্যান্টিনের পাশ দিয়ে আসতেছিল, তারপর দেখল শেষের আগের একটি টেবিলে তার বান্ধবীরা বসে আছে গল্পে করছে তাকে রেখেই সে মুচকি হেসে তাদের দিকে এগোতে নিলেই একটি কথা শুনে সে থমকে গেল, তবে কথাটি ছিল তার বেস্ট ফ্রেন্ড নূরের সে তার থেকে এরকম আশা কখনো করেনি আর সবার থেকে আশা করলেও, কথাটি ছিল এমন , ওই তোরা আমাকে ওই ইফতারির কথা বলে সারাক্ষণ ক্ষ্যাপাকেন, আরে ভাই আমি তোদের স্পষ্ট ভাবে বলি আমি নিজেও ওরে দেখতেই পারি না। গাইয়া ভূত শুধু আমাকে জ্ঞান দেয় ওইটা করিস না ,এটা করিস না শুধু, আমার জীবনটা জাস্ট তেজপাতা করে দিয়েছে, ওর সাথে ফ্রেন্ডশিপ রাখছি শুধু একটা কারণেই আমি যে রিলেশন করি ওইটা যাতে ও বাসায় না বলে এখন যদি ভেঙে দেই যদিও আমার সাথে রাগ করে আম্মুকে বলে দেয় তাই রাখছি এই রিলেশন রেখো শান্তি নেই সারাদিন আমাকে জ্ঞান দেয় এগুলো ভালো না হারাম, তো ওর মতো সারাদিন ভূত হয়ে ঘুরে বেড়ামু, বাই আজকালকার যুগে কোনটা ভালো সবই খারাপ । আসছে শুধু আমাকে জ্ঞান দিতে, বলেই ভেঙচি কাটল ,আর সবাই হাসতে লাগলো, আরো অনেক কথা বলে মজা নিতে লাগলো সাথে তার বেস্ট ফ্রেন্ড নূর ও আছে, যাকে সে সবার চেয়ে আলাদা মনে করেছিল আর সেই স্বার্থের এর জন্য তার কাছে এসেছিল, সে এমন কি করেছিল সে তো ভালোই চেয়েছিল অথচ বোকাটা বুঝলোই না তার মনকে ক্ষতবিক্ষত করে দিল, তার কাছে মনে হল আল্লাহ তাকে দেখিয়ে দিচ্ছে, সবাই স্বার্থের জন্য আসে তার কাছে, আল্লাহ যেন তাকে সবার আসল রূপ দেখে দেখেই বলছে দেখ বান্দা আমি ছাড়া আর কে আছে তোর আপন? অতঃপর আকাশের দিকে কতক্ষণ তাকিয়ে চলে আসলো সেই জায়গা থেকে ত্যাগ করলো সব মায়া ক্ষণিকের মোহ মায়ায় সে ভুলে গিয়েছিল তার রব ছাড়া তাকে আর কেউ ভালবাসে না, সত্যি কারের ভালোবাসা তো শুধু রব আর বান্দার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে, যেখানে নেই কোন স্বার্থ, একমাত্র আল্লাহই তার বান্দাকে নিঃস্বার্থভাবে ভালোবাসছে অথচ আমরা সে আল্লাহরই অবাধ্যতা করছি অথচ তিনি আমাদের ছেড়ে দেননি তিনি আমাদের রিজিক দিচ্ছেন, খাওয়াচ্ছেন পড়াচ্ছেন, অথচ আমরা কি করছি সেই রবের জন্য,?? [পরবর্তী পর্ব খুব শীঘ্রই আসবে ইনশাআল্লাহ]
0 Comments