“মুখোশের আড়ালে একটি দ্বীনি চেতনা, পারিবারিক মূল্যবোধ ও সমাজের লুকানো মুখ উন্মোচনের গল্প। গল্পের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ১৭ বছর বয়সী ইফরা আরশি। একটি সাধারণ, পর্দানশীন, আল্লাহভীরু মেয়ে, যে ঝালকাঠির আধা-গ্রাম আধা-শহর পরিবেশে বড় হচ্ছে। তার পরিবার ধর্মীয় মূল্যবোধে বিশ্বাসী; মা আরও ফাতিহা একজন ধৈর্যশীলা ও সচেতন নারী, যিনি মেয়েকে বন্ধুর মতো আগলে রাখেন এবং দ্বীনের পথে পরিচালিত করার চেষ্টা করেন। ইফরার পরিবারেও দ্বন্দ্ব রয়েছে—তার ফুপি আধুনিকতার নামে ধর্মীয় চর্চাকে তুচ্ছ করেন। তবু ইফরা ধৈর্য ধরে চলে
মুখোশের আড়ালে
#মুখোশের_আড়ালে #লেখিকা_সানজিদা_আফরিন পর্ব : ০১ (কপি নিষিদ্ধ) ১৭ বছরের মেয়ে ইফরা আরশি বোরকাটা একটু উঁচু করে ধরে প্রাণপণ ছুটছে বাড়ির দিকে, আশেপাশে তেমন মানুষ নেই তাই বোরকা টা একটু উঁচু করে দৌড় দিল আরেকটু সামনেই বাসা তাই, যেন না পৌঁছাতে পারলে ঠিক সময় সে আজ সৈই মার খাবে, গলা শুকিয়ে আসছে, মাগরিবের আজানের আর বেশি সময় নেই, দৌড়াতে দৌড়াতে এক সময় চলে আসলো বাসার সামনে, একতলা বিশিষ্ট একটি বাড়ি, চারদিকে বাউন্ডারি দেওয়া, দেখল তার মা আগে থেকেই রেগে মুখ ফুলিয়ে রেখেছে, ইফরা জোর গলায় বলল ٱلسَّلَامُ عَلَيْكُمْ মেরি রাগী আম্মা জান, আরো ফাতেহা সালামের উত্তর নিলেন, وَعَلَيْكُمُ ٱلسَّلَامُ وَرَحْمَةُ ٱللّٰهِ وَبَرَكَاتُهُ এই আপনার আসার সময় হল? সে নিজের সাফায় গেতে তে বলে উঠলো, দেখুন আরো ফাতিহা, আজ কিন্তু আপনার মেয়েকে কিছু বলতে পারবেন না কারণ কথা সম্পূর্ণ করতে পারল না ইফরা, তার আগেই তার মা তাকে এক কিল বসিয়ে দিলেন পিঠে, বড় হচ্ছে আর ডেঙ্গি হচ্ছে খুব পাকনা পাকনা কথা না, আমি জানি তুমি যে, তোমার বান্ধবীদের নিয়ে কোচিং শেষে ঘুরতে গিয়েছিলে, মা বিশ্বাস কর আমি যেতে চাইনি ওরা জোর করে নিয়ে গিয়েছে নিজের মেয়ে এমন অসহায় মুখ করে রাখলে কোন মা কি রাগ করে থাকতে পারে তিনি আর পারলেন না, বললেন ঠিক আছে ঠিক আছে যাও আজান দিতেছে তাড়াতাড়ি নামাজ পড়ে আসো, আরে তুমি যে এত দেরিতে বাসায় আসছো এটা যেন তোমার বাবা না জানে, উফ মা তোমাকে আর সেটা বলতে হবে না আমি যাচ্ছি বলেই তার নিজের রুমে চলে গেল, চলুন এবার পরিচয় পড়বে আসা যাক, আরো ফাতেহা, এক ছেলে এক মেয়ে মেয়ের নাম ইফরা আরশি, এইবার কলেজে পড়ছে, আর ছেলে আইরান শাহরিয়া, সে বিদেশে থাকে বয়স ২৬ আর তার স্বামী, রিয়াদ আহমেদ, তাদের একটি দোকান আছে, রোড সিমেন্ট ইত্যাদি। এই নিয়েই তার সংসার তার স্বামী খুব গম্ভীর টাইপের আবার খুব নরম মনের মানুষ, তার চিন্তা হয় তার ছোট্ট মেয়েটাকে নিয়ে। ইফরা আরশি অনেক চঞ্চল , খুব বোকা মেয়েটা যে যাই বলে তাই বিশ্বাস, তার কাছে মনে হয় তার মেয়ের মত বোকার একটা মেয়েও নেই, এই যে তার বান্ধবীরা বলল তাকে নিয়ে ঘুরতে যাবে, সেও এক কথায় রাজি হয়ে গেল, এখনকার দেশে যে অবস্থা সে নিজের কথা না ভেবে ধ্যাঙ ধ্যাঙ করে বান্ধবীদের সাথে ঘুরতে চলে গেল!! অথচ তিনি তার মেয়ের সব খবরই রাখেন। তার মেয়েটাকে নিয়ে খুব ভয় হয়, তারা খুব সাধারন আলহামদুলিল্লাহ তারা যেমন আছে তেমনি খুব ভালো আল্লাহর কাছে খুব শুকরিয়া আদায় করে, ছেলেটা আজ বহু বছর বিদেশে পড়ে আছে, কি খাচ্ছে কি পড়ছে তিনি কিছু জানতে পারছেন না শুধু ভিডিও কলে কি একজন মা তার ছেলে দেখে মন ভরে ?? তারা সাধারণ হলেও ধার্মিক ভাবে চলার চেষ্টা করে ।এই দুনিয়ার ঠোংকো জীবন কি আর পরকাল ইতো সব। সবকিছু ভেবে দীর্ঘ শ্বাস ফেললেন, এদিকে ইফরা বকবক করতে করতে বোরকা হিজাব হাত মোজা পা মোজা খুললো গায়ে থেকে,অজু করে এসে নামাজ পড়ে নিল তারপর কিছুক্ষণ কোরআন তেলাওয়াত করে পড়তে বসলো যাতে তার মার আর বকা খেতে না হয়, তারা ঝালকাঠি নামের একটি গ্রামে থাকে যেটা শহর নয় আবার গ্রামও নয় দুইটা মিলেমিশেই, এই গ্রামটিতে আধুনিকতার কোন কমতি নেই সহজে কেউ গ্রাম বলতে পারবে না আবার গ্রামেরও কিছু দৃশ্য আছে এখানে, [এটি বাস্তবতার সাথে মিলাবেন না পুরোই কাল্পনিক কাহিনীটি আপনার যদি ভালো লাগে তাহলে কন্টিনিউ করতে পারেন আর খারাপ লাগলে এড়িয়ে চলতে পারেন]
0 Comments