বুড়ি খাল নদীর তীরে অবস্থিত বড়বাড়ি গ্রাম।গ্রামটি অত্যন্ত প্রত্যন্ত, শহর থেকে অনেক দূরে।বুড়িখালের বিকাল বেলার সৌন্দর্য মানুষকে আকর্ষণ করে।গোধূলি লগ্ন থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত প্রকৃতির অপরূপ লীলা খেলা চোখে পড়ে।সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলে নদীর তীরে কয়েকটি ফুচকা, চটপটি, চায়ের দোকান বসে।ছোট বাচ্চাদের জন্য থাকে নানা খেলনা আর শীতকালে পিঠা-পুলির দোকানও দেখা যায়।গ্রামের যাতায়াত ব্যবস্থা খুবই নিম্নমানের।বেশির ভাগ পর্যটককে রেলস্টেশন থেকে নেমে প্রায় দেড় কিলোমিটার হেঁটে যেতে হয়।শহর থেকে সরাসরি কোনো গাড়ি নেই; দিনের বেলায় দু-তিনটা গরুর গাড়ি চলে।এছাড়াও দু’টি পুরনো ভ্যান আছে—রাতে সেগুলোরও দেখা মেলে না।নাঈম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোলের ছাত্র। সে শুনেছিল এই গ্রামের সূর্যাস্তের সৌন্দর্যের কথা—তার মনে কৌতূহল জাগে গ্রামের সূর্যাস্ত দেখার।ঠিক সেই সময়ই বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সরকারি গবেষণা প্রকল্পের দায়িত্ব পায় সে—\"Geo-Tourism Potential and Socio-Economic Transformation in River Erosion-Affected Areas.\"বাংলায় বললে, নদী ভাঙন কবলিত অঞ্চলের ভূ-পর্যটনের সম্ভাবনা।বড়বাড়ি গ্রামে আসার আগে নাঈম থাকার ব্যবস্থা করে তার বাবার এক বন্ধুর বড় ভাইয়ের মাধ্যমে। ভদ্রলোক গ্রামের অদূরে ব্যবসা করেন—তিনি নাঈমের জন্য নদীর কাছেই একটি ছোট ঘরের ব্যবস্থা করে দেন।রাতে নাঈম গ্রামে আসে। সকালে ঘুম ভাঙতেই আঙিনায় দাঁড়িয়ে সূর্যোদয় দেখে। নদীর জলে প্রতিফলিত সূর্যের প্রথম রেখাটা চোখে পড়তেইতার মনে হয়—এ শুধু প্রকল্প নয়, বরং বুড়িখালের বুক জুড়ে ছড়িয়ে থাকা মানুষের বেঁচে থাকার এক অনন্ত সংগ্রামের প্রতিচ্ছবি।সকালে রান্নার কাজে আসা মহিলার সঙ্গে নাঈমের পরিচয় হয়। মহিলা বলেন—\"আমাগো গেরামের সূর্যাস্তের ছবি দিয়া কি হইবো বাবা? যদি গেরামের মানুষ সুখে বাঁচতে না পারে!আগে শান্তিতে আছিল, এখন আর নাই।\"নাঈম চুপ করে শুনে। তার মনে হয়—নদী, মানুষ আর সময়—এই তিনটাই এক জীবনের তিন ধারা।
0 Comments