দৃশ্য-১ : সবুজবাড়ি গ্রামের সকালপটভূমি:লালমনিরহাট জেলার তিস্তা নদীর তীরে অবস্থিত ছোট্ট গ্রাম ‘সবুজবাড়ি’।চারদিকে সবুজ মাঠ, বিভিন্ন ফলমূল গাছের সারি, গ্রামের বাঁশঝাড়ে পাখির কলরব। নদীর ওপারে ধানক্ষেত, হালকা কুয়াশা, সূর্য ধীরে ধীরে উঠছে। শিশুরা বই হাতে পড়তেছে ।গ্রামের মানুষের মুখে শান্তির আমেজ। কৃষকেরা মাঠে ধান কাটছে।মফিজ (ধান কাটতে কাটতে):এইবার আলমগীর ভাইয়ের ফলন খুব ভালো হয়েছে!মানুষটা বিয়ে করার পর থেকে চাষাবাদে বরকত আসছে। বিয়ে করাতে বরকত থাকে, আল্লাহ বরকত বাড়ায়।মতি: ওই যে মাঠের দিকে আলমগীর ভাই যাচ্ছেন। আলমগীর (কে উদ্দেশ্যে করে মতি )ভাই শুনেন ।আলমগীর: কি বলো মতি ভাই, আমার সাথে কোন কথা আছে?মতি: এইবার তোমার ফসল কেমন হয়েছে, ভাই?আলমগীর (হেসে): এইবার ফলন বেশ ভালো হয়েছে ভাই। ভাগ্যও যেন আমাদের পাশে। তিস্তা আমাদের প্রাণ। যতদিন তার বুকে পানি থাকবে, ততদিন আমাদের ভাত-কাপড়ের অভাব হবে না, মতি ভাই।তিস্তা শান্ত থাকলে—সব ঠিক থাকবে।(দৃশ্যান্তর: আলমগীরের বাড়ি)আলমগীরের স্ত্রী আমেনা উঠানে পাকা ধান রোদে হাসিমুখে শুকোচ্ছে।আলমগীর: বউ, এই ধান দেখে মনটা ভরে যায়! আল্লাহর অশেষ রহমত—ফসল খুব ভালো হয়েছে।আমেনা: এই তো, আল্লাহর রহমতে বছরের পরিশ্রমের সোনার ফসল এসেছে।এই আনন্দ শুধু আমাদের নয়, পুরো গ্রামের জন্যই আশীর্বাদ।(এই সময় বজলুল প্রবেশ করে, গায়ে পুরনো চাদর, চোখে অদ্ভুত দীপ্তি)আলমগীর: কি বজলুল, তুমি এই সময় এলে?বজলুল (হেসে): ভাই, মহা বিপদে পড়েছি। আমার হাতে সাত হাজার টাকা লাগবে।আলমগীর: এত টাকা দিয়ে তুমি কি করবে?বজলুল: ভাবছি আকাশে যাব। আকাশে যাওয়ার টিকিট কিনব।আলমগীর (হেসে ওঠে): তুমি কি পাগল হয়েছ? মানুষ কি আকাশে থাকে? কার সঙ্গে যাবে আকাশে?বজলুল (গম্ভীর মুখে): গতকাল সন্ধ্যায় বড়বাড়ির বাজারে গিয়েছিলাম।ওখানেই তালিব ভাইয়ের দেখা পেয়েছি।তিনি এখন আকাশে থাকেন। আমাকেও নিয়ে যাবেন বলেছেন। টিকিটের দাম সাত হাজার টাকা।আলমগীর: তুমি একেবারেই পাগল হয়ে গেছ বজলুল!বজলুল (মৃদু হাসি): যেদিন সাহেরার দেওয়া বিচারে চেয়ারম্যান বলেছিলেন— \"বজলুল, অতি বুদ্ধিমান লোকের এই গ্রামে থাকা উচিত নয়, তুমি গ্রাম ছেড়ে যাও\"—সেই দিনই ঠিক করেছিলাম, আমি গ্রাম ছাড়ব,কিন্তু থাকব এই গ্রামেরই আকাশে!(আলমগীর ও আমেনা দুজনেই স্তব্ধ। বজলুল ধীরে ধীরে তিস্তার পাড়ের দিকে চলে যায়।পেছনে সূর্য লাল হয়ে ডুবে যাচ্ছে।)
0 Comments