জসীম মিয়া বেশ অবস্থাপন্ন ব্যক্তি ছিলেন।তার একমাত্র ছেলে আদনান। জসীম মিয়ার জায়গা-জমি, ধন-দৌলতের কোনো কিছুরই অভাব ছিল না।তার স্ত্রী হালিমা বেগম ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার পর জসীম মিয়া তার সমস্ত সহায়-সম্পত্তি বিক্রি করে হালিমার চিকিৎসা করেন।জসীম মিয়া হালিমা বেগমকে বাঁচানোর অনেক চেষ্টা করেও বাঁচাতে পারেননি। হালিমা বেগম মারা যান।স্ত্রীর মৃত্যুর শোকে জসীম মিয়া অসুস্থ হয়ে পড়েন। জসীম মিয়ার সংসারের দায়-দায়িত্ব পড়ে তার ছেলে আদনানের কাঁধে।আদনান তখন তেইশ বছরের একজন যুবক। আদনানের স্বভাব ছিল বেশ অলস প্রকৃতির। আগে সে কোনো কাজকর্ম করত না। সারাদিন বন্ধুদের সঙ্গে যেখানে-সেখানে ঘুরে বেড়াত।তার মায়ের মৃত্যুর পর তার জীবনে অনেক পরিবর্তন আসে।আদনান সংসারের গৃহস্থালি ও রান্নার কাজ কিছুই পারে না। তার অসুস্থ বাবাকেও রান্না করে খাওয়াতে পারে না।গ্রামবাসী আদনান ও তার বাবার দুঃখ-কষ্ট দেখে কয়েকজন মুরুব্বি রাতে বৈঠক করে আদনানের জন্য পাত্রী ঠিক করে—নুসরাতকে।নুসরাত আদনানের গ্রামের বিধবা রোকেয়ার একমাত্র মেয়ে। রোকেয়ার আর্থিক অবস্থা খুবই অস্বচ্ছল। তিনি যেখানে-সেখানে কাজ করে সংসার চালান। রোকেয়ার যদিও আদনানের সঙ্গে মেয়ের বিয়ে দেওয়া নিয়ে আপত্তি ছিল, তবু গ্রামের মুরুব্বিদের অনুরোধে আদনানের সঙ্গে নুসরাতের বিয়ে দেন।বিয়ের কিছুদিন পর আদনানের বাবা মারা যান। চিকিৎসার খরচ চালাতে আদনানের পরিবারের যা সহায়-সম্পত্তি ছিল, সব শেষ হয়ে যায়।আদনান ও নুসরাত প্রায়ই না খেয়ে থাকে। আদনান কাজ করে যে টাকা উপার্জন করে, তা দিয়ে শুধু তেল-ডাল কেনা হয়। যেদিন কাজ পায় না, সেদিন দুজনই অনাহারে থাকে।রোকেয়া বেগম হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসার পর প্রায় সুস্থ হয়ে উঠলেও এক সকালে রোকেয়া মারা যান।রোকেয়া মারা যাওয়ার পর তার বাড়ির ভিটেমাটি পড়ে থাকে, সেখানে কেউ আর বাস করে না।আদনান ও নুসরাতের অভাবের সংসারে খুশির জোয়ার আসে, কারণ নুসরাত তিন মাসের গর্ভবতী হয়।কিন্তু ষষ্ঠ মাসে নুসরাতের প্রি-এক্লাম্পসিয়া রোগ ধরা পড়ে। আদনানের সংসারে আবার দুঃখের ঝড় নামে। আদনান তার শাশুড়ির ভিটেমাটি ও নিজের পাঁচ শতাংশ জমি বিক্রি করে এবং গ্রামবাসীর কাছে হাত পেতে নুসরাতের চিকিৎসা করায়।ডাক্তাররা আদনানকে বলেছিলেন,\"হয় শিশু, নয় মা—যে কেউ মারা যেতে পারে। আবার দুজনেই বেঁচে থাকতে পারে। আপনার কপাল আমাদের হাত। রোগীর বাঁচা- মরার বিষয় এখন ।\"
0 Comments