#গল্প পর্ব \"এক\"ভালোবেসে বিয়ে করে ভুল করেছি।আফছানা খানম অথৈ#book #Education #students #speech #storyসিমা অনার্স ফাইনাল ইয়ারে পড়ে।আজ আসতে একটু লেট হলো।তাই দ্রুত গতিতে ক্লাসে যাচ্ছে।এমন সময় ধাক্কা খেল মাস্টার্স ফাইনাল ইয়ারে পড়া অপূর্ব\'র সঙ্গে।একে অপরের দিকে কমিনিট তাকিয়ে রইল।তারপর একে অপরকে সরি বলে স্ব স্ব ক্লাশে প্রস্থান করলো। ক্লাস শেষ দুজন বাসায় ফিরে গেল।অপূর্ব বার বার সীমার কথা স্মরণ করছে।কল্পনার রাজ্যে ডুবে গেল মুহূর্তে।মেয়েটা খুব কিউট, ভালো লেগেছে। কিন্তু তার নাম ঠিকানা কিছুইতো জানি না।বিড়বিড় করতে করতে সে ঘুমিয়ে পড়লো।পরদিন সে ভার্সিটিতে আসল মেয়েটিকে অনেক খুঁজলো, কিন্তু পেল না।সীমা আজ ভার্সিটিতে আসেনি তার মামাতো বোনের বিয়েতে গেছে।সে ইউ.এস.এ. থেকে পড়ালেখা শেষ করে বাংলাদেশে ফিরেছে।একজন ডিগ্রীধারী ডাক্তারের সাথে তার বিয়ে।এদিকে অপূর্ব প্রতিদিন ভার্সিটিতে এসে সীমাকে খুঁজে।কিন্তু সীমার আসন শুন্য।বিয়ে শেষ হতে সপ্তাহ খানেক লেগেছিল।বড় আপুর বিয়েতে সীমা খুব আনন্দ করলো।তারপর সে বাসায় ফিরে গেল।ভার্সিটির সময় হয়ে যাচ্ছে এখনো সে ঘুমাচ্ছে এমন সময় মা এসে ডাক দেয়,সীমা তাড়াতাড়ি উঠ ভার্সিটির সময় হয়ে গেছে।সীমা আড়মোড় খেয়ে জেগে উঠল।তারপর তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে ভার্সিটির দিকে রওয়ানা করলো।ক্লাস শেষ ক্যান্টিনে নাস্তা করতে বসল।সঙ্গে বান্ধবী দীপা রীপা।সীমা বলল,দীপা বল কি খাবি?কফি।ওকে, ওয়েটার এদিকে এসো।আপু বলুন কি লাগবে?,আমাদের জন্য কফি নিয়ে আস।ওকে আপু।ওয়েটার তাদের সামনে কফি এনে দিলো।তারা খাওয়া শুরু করলো।তখনি অপূর্ব এসে বলল,হাই কেমন আছো?তিন বান্ধবী একে অপরের দিকে চাওয়া চাহি...।কাকে যে অপূর্ব হাই বলল কেউ বুঝতে পারলো না।তাই চোখা চোখি মুখা মুখি।এবার অপূর্ব সীমার কাছাকাছি গিয়ে বলল,\"এক্সকিউজ মি\" পাঁছ মিনিট সময় হবে?কেন কেন?আপনার সাথে আমার কিছু দরকারী কথা ছিল?আপনাকে তো ঠিক চিনতে পারলাম না।এরই মাঝে সব ভুলে গেলেন।ঐ যে সেদিন আপনি আমার, আমি আপনার সাথে ধাক্কা খেলাম।তো কি হয়েছে, ওখানে তো সরি বলা শেষ। আবার কি?না মানে ইয়ে প্লিজ জাস্ট পাঁচ মিনিট।ওকে চলুন।সীমা আর অমত করলো না।তার সঙ্গে গেল।দুজন পাশাপাশি বসে পড়লো।অপূর্ব কিছু বলতে চাইছে,কিন্তু বলতে পারছে না।তখনি সীমা বলল,কি ব্যাপার কিছু বলছেন না যে, দু\'মিনিট কিন্তু শেষ।ওকে ইয়ে মানে ইয়ে...।এত ভাব না করে যা বলার তাড়াতাড়ি বলুন।তানা হলে আমি কিন্তু চলে যাব।ওকে বলছি,আমার কল্পনার করিড়োরে হৃদয়ের খাতায় বহুদিন ধরে এক মানসী প্রিয়ার ছবি এঁকে রেখেছি এবং তাকে নিয়ে রোজ রাতে মজার মজার স্বপ্ন দেখি।ভাগ্যিস সেদিন তার সঙ্গে আমার দেখা হয়ে যায়।তারপর থেকে তার প্রতিচ্ছবি আমার দুচোখের সামনে ভাসে।আমি এক মুহূর্তের জন্য তাকে ভুলতে পারছি না।সত্যি সত্যি আমি তাকে ভালোবেসে ফেলেছি।তো ভালো কথা, তাকে গিয়ে বলুন।আমাকে বলছেন কেন?বলছি তো তাকে।মানে!মানে হচ্ছে তুমি আমার সেই কল্পনায় আঁকা নায়িকা।হোয়াট!হুম সত্যি।আমি বিশ্বাস করি না।বিশ্বাস না করলে ও আমি তোমাকে ভালোবাসি এবং সারাজীবন ভালোবেসে যাব।তোমার নাম?আমার নাম অপূর্ব মাস্টার্স ফাইনাল ইয়ার।ওকে আমি তোমাকে ইভটিজিং\'র মামলায় ফাঁসাব।পারবে না।কেন পারব না?কারণ তুমি আমাকে ভালোবাস।মোটেও না।সত্যি?হুম সত্যি।আমার চোখের দিকে তাকিয়ে বলো?না পারবো না।তার মানে তুমিও আমাকে ভালোবাস?সীমা চুপচাপ হ্যাঁ না কিছু বলতে পারছে না।তার মানে সেও তাকে ভালোবেসে ফেলেছে।আর তা বুঝতে পেরে অপূর্ব বলল,ওকে এখন বাসায় চলো।কাল ছুটির পর অনেক্ষণ আড্ডা দেব।চলো ফেরা যাক।ভালোবাসার শুভ উদ্ভোধন করে দুজন বাসায় ফিরে গেল।এদিকে দুজনের নাম্বার মুঠোফোনে সেভ হয়ে গেছে।অপূর্ব বাসায় ফিরল।পড়া শেষ শুতে গেল।অমনি মুঠোফোন হাতে নিয়ে কল দিলো।সীমা রিসিভ করে বলল,হ্যালো কি করছ?তোমার কথা ভাবছি।এরই মধ্যে ভাবাভাবি শুরু হয়ে গেল ?তো আর বলছি কী?ডার্লিং তুমি কি কর?এইতো তোমার সঙ্গে কথা বলছি।তা বুঝলাম কিন্তু তার আগে কি করছিলে?কি করছিলাম,কি করছিলাম ও মনে পড়েছে,তোমাকে নিয়ে ভাবছিলাম।সত্যি।হুম সত্যি।তো কি ভাবছিলে?তোমাকে কিভাবে ইভটিজিং\'র মামলায় ফাঁসানো যায়,তার প্ল্যান তৈরী করছিলাম।সত্যি?হুম সত্যি।তো কোন থানায় মামলা করবে?রমনা থানায়।ওকে তো আরজিতে কি লিখবে?আরজিতে লিখব,রোজ রোজ এক ইয়ংম্যান আমাকে ডিস্টার্ব দেয়।তার সিরিয়াস পানিশম্যান্ট চাই।ডার্লিং সত্যি পারবে তো?হুম পারবো।আচ্ছা পুলিশ যখন আমাকে মারবে তুমি তখন কাঁদবে না।নো নেভার।তুমি আমার কে,তাছাড়া এমন বাজে ছেলের জন্য কেউ কাঁদে?তা অবশ্যই ঠিক বলেছ,তো সীমা কাল একবার দেখা কর। তারপর না হয় জেলে দিও।ওকে ,আর কোনো কথা নয় ঘুমিয়ে পড়।গুড নাইট।পরদিন জাস্ট টাইমে দুজন যোগ হলো।অপূর্ব সীমাকে একটা লালা গোলাপ দিয়ে বলল,I love you.এবার সীমা ভালোবাসা একসেপ্ট করে বলল,I love you too,একে অপরের মাঝে গভীর বন্ধুত্ব সৃষ্টি হলো।অপূর্ব বলল,সীমা তুমি আমার জীবনের প্রথম ভালোবাসা, প্রথম নারী।এর আগে আমি কোনো মেয়ের দিকে চোখ তুলে ও তাকাইনি, ভালোবাসাতো দূরের কথা।সত্যি।একশ পার্সেন্ট সত্যি।কদিন পর আবার কোনো সুন্দরী দেখলে বলবে নাতো \"আই লাভ ইয়ু\"না বলবো না।প্রমিস কর।প্রমিস করলাম,আর কোনো সুন্দরীকে বলবো না,\"আই লাভ ইয়ু\"।শুধু তোমাকে বলবো \"আই লাভ ইয়ু\"।আমি শুধু তোমার, তোমাকে ভালোবেসে যাব,সারাজীবন।এ কথাটি মনে থাকলে আমার নারী জীবন সার্থক।অন্যথায় বৃথা।ওকে ডার্লিং রাইট বলেছ।আমি আবার ও বলছি,আমি শুধু তোমাকে ভালোবাসি, তোমাকে,তোমাকে,তোমাকে।ওকে এবার চলো ফেরা যাক।
0 Comments