#ক্ষেত_ছেলে_যখন_মাফিয়া
#সাইফুল_রাজ
পর্ব:-(০৮)
~~~সকালে ফজরের আজানের সঙ্গে সঙ্গে রাজের চোখ খুলে যায়—ঘুম ছিল খুবই কম।
~~~কিন্তু তার মুখে আজ অদ্ভুত এক স্থিরতা, যেন সে অনেকটা বড় হয়ে গেছে রাতারাতি।
~~~শাকিল পাশে বসে বলে—“ভাই, কাল যা হলো… এর পরে রাশেদরা তো ছাড়বে না।”
~~~রাজ জানালার দিকে তাকিয়ে বলে—“আমি কাউকে ভয় পাই না।”
~~~তার গলায় এমন দৃঢ়তা যে শাকিলও অবাক হয়।
~~~এদিকে হোস্টেলের ছেলেরা ফিসফিস করছে—
~~~“ক্ষেত ছেলে রাজ? অসম্ভব! ও তো কাল রাতে সবাইকে উল্টা দিল!”
~~~“ওর চোখ দেখছিস? লোকটা বদলে গেছে!”
~~~রাজ এসব শুনেও চুপ—সে জানে, এটাই কেবল শুরু।
~~~ক্লাসে যেতে যেতে দেখে, দূর থেকে প্রিয়া তাকে খুঁজছে।
~~~প্রিয়া কাছে আসতেই বলে—“রাজ… তুমি ঠিকমতো ঘুমিয়েছো?”
~~~রাজ হালকা হেসে বলে—“ঘুমানোর সময় কোথায়?”
~~~প্রিয়ার চোখে অশান্তি—“আমি ভয় পাচ্ছি।”
~~~রাজ তার দিকে তাকিয়ে বলে—“আমি আছি, ভয় পেও না।”
~~~প্রিয়া ফিসফিস করে বলে—“কিন্তু তুমি যেদিকে যাচ্ছো… সেটা ভয়ংকর।”
~~~রাজ চুপ—সে অনুভব করে, প্রিয়া সত্যিই কষ্ট পাচ্ছে।
~~~তারা হাঁটতে হাঁটতে করিডোরে প্রবেশ করে।
~~~হঠাৎ সবাই চুপ হয়ে যায়—রাজ আসতেই পুরো পরিবেশ বদলে যায়।
~~~ছেলেরা পাশ কাটিয়ে সরে যায়—যে রাজকে ‘ক্ষেত ছেলে’ বলা হতো, তাকে আজ ভয় করে সবাই।
~~~এই সময় ভার্সিটির ডিসিপ্লিন কমিটির দুই সদস্য এসে রাজকে ডাকে।
~~~“তোমাকে অফিসে যেতে বলা হয়েছে।”
~~~প্রিয়া ভয়ে বলে—“তুমি কি সামলাতে পারবে?”
~~~রাজ মাথা নেড়ে বলে—“দেখি, কি করতে চায়।”
~~~অফিসে ঢুকতেই দেখে রাশেদদের তিনজন আগে থেকেই বসে আছে।
~~~তাদের মুখে ব্যান্ডেজ, চোখে রাগে আগুন।
~~~কমিটির স্যার গম্ভীর গলায় বলে—“রাজ, গত রাতের ঘটনায় কি বলতে চাও?”
~~~রাশেদ তৎক্ষণাৎ বলে—“স্যার, ও আমাদের উপর হামলা করেছে। ওই ছেলে ভার্সিটিতে থাকার যোগ্য না!”
~~~রাজ ঠাণ্ডা গলায় বলে—“স্যার, আমি আগে কিছু বলবো?”
~~~কমিটি মাথা নেড়ে অনুমতি দেয়।
~~~রাজ ধীরে ধীরে বলে—
~~~“স্যার, আমার উপর তিন মাস ধরে নিয়মিত অত্যাচার হয়েছে। অপমান, হুমকি, মারধর—সব।”
~~~রাশেদ চেৎকার করে—“মিথ্যা!”
~~~রাজ তার দিকে তাকিয়ে বলে—“প্রমাণ চাই? সব দেখাবো।”
~~~সে মোবাইল বের করে রেকর্ড দেখায়—যেখানে বহুদিন ধরে রাশেদদের বুলিং স্পষ্ট।
~~~কমিটির স্যাররা হতবাক—রাশেদের মুখ কালো হয়ে যায়।
~~~একজন স্যার কঠোর গলায় বলে—“রাশেদ, তুমি এইসব করেছো?”
~~~রাশেদ মাথা নিচু করে—কিছু বলার শব্দ পায় না।
~~~সিদ্ধান্ত আসে—রাশেদ সাসপেন্ড!
~~~রাশেদ বেরিয়ে যাওয়ার সময় রাজের দিকে তাকিয়ে বলে—
~~~“এই জিতটা তোর শেষ জিত হবে, রাজ।”
~~~রাজ শুধু বলে—“সত্যের বিরুদ্ধে কেউ জেতে না।”
~~~অফিস থেকে বের হতেই প্রিয়া দৌড়ে আসে—
~~~“রাজ! কি হলো?”
~~~রাজ বলে—“সব ঠিকঠাক।”
~~~প্রিয়ার মুখে হাসি ফুটে উঠলেও রাজের মুখে কোনো আনন্দ নেই।
~~~কারণ সে জানে—এটা শেষ হয়নি, বরং বড় কিছু শুরু হচ্ছে।
~~~এদিকে বাইরে গেটের কাছে সেই ছায়াময় লোকটি রাজকে দেখে একটু হাসে।
~~~সে এগিয়ে এসে বলে—“তুমি রাজ?”
~~~রাজ চিনে না—“হ্যাঁ, কিন্তু আপনি?”
~~~লোকটি বলে—“যে তোমার ভবিষ্যৎ দেখতে পায়।”
~~~রাজ অবাক—“মানে?”
~~~লোকটি বলে—“তোমাকে কেউ ক্ষতি করতে পারবে না… যদি তুমি চাও।”
~~~শাকিল পাশ থেকে বলে—“ভাই, এ কে?”
~~~লোকটি পকেট থেকে একটা কার্ড বের করে রাজের হাতে দেয়—
~~~তাতে লেখা— **“Dark Circle Enterprise — We Control The City.”**
~~~রাজ চমকে ওঠে—এটা শহরের সবচেয়ে গোপন এবং শক্তিশালী আন্ডারওয়ার্ল্ড গ্রুপ।
~~~লোকটি আস্তে বলে—“তোমার রাগ, তোমার সাহস, তোমার আগুন—এসব সাধারণ মানুষের নয়।”
~~~“তুমিই আমাদের মতো হওয়ার ক্ষমতা রাখো।”
~~~রাজ চুপ—প্রিয়া এদিকে দাঁড়িয়ে শুনে ফেলেছে সব।
~~~তার চোখে ভয়, অস্থিরতা—
~~~“রাজ… তুমি এদের সাথে যুক্ত হবে না, তাই তো?”
~~~রাজ ভাবছে… এই পথ কি তাকে রক্ষা দেবে, নাকি আরও অন্ধকারে নিয়ে যাবে?
~~~লোকটি শেষবার বলে—“তুমি যখন প্রস্তুত হবে, কল দিও।”
~~~সে চলে গেলে প্রিয়া রাজের হাত ধরে—
~~~“প্লিজ… অন্ধকারে যেও না, রাজ।”
~~~রাজ প্রিয়ার চোখে তাকিয়ে থাকে—দু’জনের দৃষ্টি কাঁপে।
~~~তার ভেতরে তীব্র দ্বন্দ্ব—
~~~একদিকে প্রিয়া, আলো, ভালোবাসা—
~~~অন্যদিকে প্রতিশোধ, শক্তি, অন্ধকার…
~~~রাজ জানে না কোন দিকে যাবে—
~~~কিন্তু একজন জানে—সেই ছায়াময় লোক।
~~~সে ফিসফিস করে—“বাচ্চাটার ভিতরের অগ্নি এখনো জ্বলছে… শীঘ্রই সে আমাদের হবে।”
~~~রাজের জীবনে অন্ধকার দরজা একটু একটু খুলছে…
~~~আর প্রিয়ার হৃদয়ে ভয় আরও গভীর হচ্ছে।
চলবে----❤️
~~রাজ চমকে ওঠে—এটা শহরের সবচেয়ে গোপন এবং শক্তিশালী আন্ডারওয়ার্ল্ড গ্রুপ।
~~~লোকটি আস্তে বলে—“তোমার রাগ, তোমার সাহস, তোমার আগুন—এসব সাধারণ মানুষের নয়।”
~~~“তুমিই আমাদের মতো হওয়ার ক্ষমতা রাখো।”
~~~রাজ চুপ—প্রিয়া এদিকে দাঁড়িয়ে শুনে ফেলেছে সব।
0 Comments