~~লাঞ্চ ব্রেকে সে একা মাঠে গিয়ে বসে—বাতাসে চোখ বন্ধ করে। ~~~শপথ করে—“এই অপমানের শেষ আমি করেই ছাড়ব।”
ক্ষেত ছেলে যখন মাফিয়া (পর্ব:-০৬)
#ক্ষেত_ছেলে_যখন_মাফিয়া #সাইফুল_ইসলাম_রাজ পর্ব:-(০৬) \" \" ~~~সকাল বেলা হোস্টেলের বারান্দায় দাঁড়িয়ে রাজ বুঝতে পারে, তার হাসিখুশি দিনগুলো ফুরিয়ে গেছে। ~~~প্রিয়ার সঙ্গে বাড়তে থাকা দূরত্ব তাকে আরও অস্থির করে তোলে। ~~~এদিকে সিনিয়রদের অত্যাচার দিন দিন সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। ~~~গত রাতে যে মারধরটা রাজ খেয়েছে—তা তার মাথার ভেতর আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে। ~~~সে নিজেকে শপথ করে—এভাবে আর নয়। ~~~আজ সে কাউকে এড়িয়ে যাবে না, পালাবে না। ~~~সে নিজের সামর্থ্য প্রমাণ করবে, এবং যারা তাকে অপমান করেছে—একদিন সবাইকে জবাব দেবে। ~~~রাজের চোখে প্রথমবারের মতো জেদী আগুন দেখা যায়, যেন ঝড়ের আভাস। ~~~হঠাৎই দরজায় নক হয়, শাকিল ঢুকে বলে—“ভাই, আজকে ক্লাসে যাবা?” ~~~রাজ একটু হেসে বলে—“যাবো, তবে আজ চুপচাপ থাকবো না।” ~~~শাকিল অবাক হয়ে তার মুখের দিকে তাকায়, নতুন রাজকে সে যেন চেনে না। ~~~দু’জন বের হতে না হতেই করিডোরে দাঁড়িয়ে থাকা সিনিয়র রাশেদদের দল সামনে এসে দাঁড়ায়। ~~~রাশেদ কটূ হাসি দিয়ে বলে—“এই যে ক্ষেত ছেলে! আজকে মাঠে নামবা নাকি?” ~~~রাজ কোনো কথা না বলে সরাসরি তার চোখের দিকে তাকিয়ে থাকে। ~~~এই প্রথম রাজের দৃষ্টিতে ভয় নয়—দৃঢ়তা। ~~~রাশেদ বিরক্ত হয়ে বলে—“চোখ নামা রে!” ~~~রাজ শান্ত গলায় বলে—“যে চোখ নামায়, সে ক্ষেত ছেলে হয়। আমি না।” ~~~সবাই শোরগোল শুরু করে—এটা কি সত্যিই রাজ বলল? ~~~রাশেদ এগিয়ে এসে রাজের কলার চেপে ধরে। ~~~কিন্তু রাজ এক ঝটকায় তার হাত সরিয়ে দেয়—চারপাশ স্তব্ধ। ~~~রাশেদ ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে মারতে উদ্যত হয়। ~~~ঠিক তখনই প্রিয়া দ্রুত সামনে এসে দাঁড়ায়— ~~~“থামুন! রাজকে আর কেউ স্পর্শ করবে না!” ~~~সবাই হতবাক—যে মেয়েটি রাজকে নিয়ে কখনো কিছু বলেনি, আজ সে রাজের পক্ষ নিচ্ছে। ~~~রাশেদ হেসে বলে—“ওকে ডিফেন্ড করছিস কেন? ও তো ক্ষেত ছেলে!” ~~~প্রিয়া কঠোর গলায় বলে—“মানুষকে অবহেলা করে যারা নিজের বড়ত্ব দেখায়—তারা আসল ক্ষেত।” ~~~রাশেদ মুহূর্তেই লজ্জিত আর রেগে ওঠে—সে চায় রাজকে অপমান করতে। ~~~কিন্তু রাজ এবার আর চুপ থাকে না— ~~~সে বলে—“আমাকে ক্ষেত বলতেই পারো, কিন্তু মনে রেখো—ক্ষেতের মাটিতেই সবচেয়ে বড় ফসল জন্মায়।” ~~~এই কথা শুনে চারপাশে ফিসফাস ছড়িয়ে পড়ে। ~~~প্রিয়া প্রথমবার রাজকে এভাবে সাহসী দেখে মুগ্ধ হয়। ~~~রাশেদ শেষমেশ বলে—“আজকে ছাড়লাম, কিন্তু এই কথা ভুলিস না রাজ! তোর সময় আসবে।” ~~~রাশেদ চলে গেলে প্রিয়া রাজের দিকে তাকিয়ে বলে— ~~~“তুমি ঠিক আছো? ওরা তোমাকে আবার কিছু করবে না তো?” ~~~রাজ শান্ত গলায় বলে—“যতদিন তুমি পাশে আছো, কিছুই করতে পারবে না।” ~~~প্রিয়ার গাল লাল হয়ে যায়—কথা বলতে পারে না। ~~~শাকিল মাঝখানে এসে বলে—“ভাই, তুমি তো আজ একেবারে অন্য লেভেল!” ~~~রাজ শুধু হাসে—এই হাসির ভেতরে গভীর ব্যথা ও জেদ লুকানো। ~~~প্রিয়া আস্তে করে বলে—“রাজ… নিজেকে সামলে রেখো। কারো জন্য নিজেকে বদলে ফেলো না।” ~~~রাজ কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে বলে—“নিজেকে পরিবর্তন করতেই হবে, প্রিয়া… সময় তার দাবি করছে।” ~~~প্রিয়ার হৃদয়ে অজানা ভয় ঢুকে যায়—সে যেন অনুভব করে, রাজকে হারাচ্ছে। ~~~মুখে কিছু না বললেও চোখে আতঙ্ক স্পষ্ট—রাজ যেদিকে যাচ্ছে, সেটা নিরাপদ নয়। ~~~ক্লাসে বসে রাজ আর মনোযোগ দিতে পারে না—সে শুধু গতকালের রাতটার দৃশ্য মনে করছে। ~~~কারা তাকে মারল, কেন মারল—সে সব মনে রাখছে। ~~~রাজের ভেতরে জমে থাকা রাগ এখন আগুন হয়ে জ্বলছে। ~~~লাঞ্চ ব্রেকে সে একা মাঠে গিয়ে বসে—বাতাসে চোখ বন্ধ করে। ~~~শপথ করে—“এই অপমানের শেষ আমি করেই ছাড়ব।” ~~~হঠাৎই প্রিয়া এসে পাশে বসে—তার কণ্ঠে উদ্বেগ— ~~~“রাজ, তুমি কি আমাকে কিছু বলবে?” ~~~রাজ চোখ খুলে বলে—“একটা দিন আসবে, প্রিয়া… যখন আমার দিকে তাকালে তুমি আজকের রাজকে চিনতেই পারবে না।” ~~~প্রিয়া থমকে যায়—এটা কি ভবিষ্যতের ইঙ্গিত? ~~~সে বলে—“তুমি বদলে গেলে আমি কি তোমাকে চিনতে পারবো?” ~~~রাজ একটু হেসে বলে—“তুমি ছাড়া সবাই ভয় পাবে, কিন্তু তোমাকে দেখলে রাজই থাকবো।” ~~~প্রিয়া কিছু বলতে পারে না—হৃদয় কেঁপে ওঠে। ~~~এদিকে রাস্তার ওপাশ থেকে একজন অচেনা লোক রাজকে গভীর দৃষ্টিতে দেখছে। ~~~ছায়ামুখ, তবুও চোখে এক অদ্ভুত স্বীকৃতি—যেন সে রাজকে আগেই চিনে। ~~~লোকটি ফিসফিস করে বলে—“সময় এসে গেছে… রাজকে তার আসল জায়গায় নিয়ে যেতে হবে।” ~~~গল্পের অজানা মোড় তৈরি হয়—রাজের ভাগ্যে নতুন ঝড় আসছে। ~~~আর আজ থেকে রাজের অন্ধকার যাত্রার সূচনা— ~~~সে আর শুধুই ক্ষেত ছেলে নয়… তার ভিতরে জেগে উঠছে রুদ্র। পরের পর্ব চমক দেখাতে চলেছে রাজ, এক ভয়ঙ্গর রুপে, চলবে--❤️❤️
0 Comments