#ক্ষেত_ছেলে_যখন_মাফিয়া
writer:- সাইফুল রাজ
পর্ব:-(০৪)
রাজের মনে আগের দিনের আগুন নিয়ে জাগলো
~~~রাতভর সে ঠিকমতো ঘুমাতে পারেনি
~~~মাথায় বারবার ঘুরছিল সেই ছেলেগুলোর হাসি
~~~তাদের মুখের বিদ্রুপ, ব্যঙ্গ, অপমান
~~~আজ তার চোখে অন্য রকম দৃষ্টি
~~~সে সিদ্ধান্ত নিয়েছে—আজ থেকে কাউকে তাকে ছোট করতে দেবে না
~~~সে ঘুম থেকে উঠে প্রথমবার নিজের চুল, দাঁড়ি ঠিক করল
~~~হোস্টেলের আয়নায় নিজের দিকে তাকিয়ে বলল, “শুরু হলো…”
~~~রাস্তা ধরে হাঁটতে হাঁটতে মনে হচ্ছিল বাতাসেও ভারী কিছু আছে
~~~ক্যাম্পাসে ঢুকতেই আগের ব্যাচের কয়েকজন তার দিকে তাকাল
~~~তাদের চোখে আজ হাসি নেই, কৌতূহল
~~~কারণ গতকাল রাজের সেই দৃষ্টিটা – তাদের বুক কাঁপিয়ে দিয়েছিল
~~~প্রিয়া সকালে ক্লাসে বসেছিল, রাজকে দেখেই বলল
~~~“আজ তোমাকে খুব আলাদা লাগছে”
~~~রাজ হালকা হাসল, “বদলাতে শিখছি”
~~~প্রিয়া বলল, “বদলানো ভুল নয়, কিন্তু খুব বেশি বদলিও না”
~~~রাজ কিছু বলল না
~~~সে জানে—এখন আর থামা যাবে না
~~~ক্লাসে রাজের মনোযোগ আজ অদ্ভুত ভালো
~~~যেন পড়ায় ডুবে গেছে
~~~যাতে কেউ বলতে না পারে—গ্রামের ছেলে কিছু পারে না
~~~শিক্ষকও আজ রাজের প্রতি নজর দিল
~~~রাজ উত্তর দিচ্ছে, আলোচনা করছে
~~~যারা তাকে হাসত—আজ তারা চুপ
~~~কেন যেন রাজের চোখের শান্ত চাহনি তাদের ভয় পাইয়ে দিচ্ছে
~~~ক্লাস শেষে রাজ বাইরে বের হলো
~~~ছেলেগুলো আবার জড়ো হয়েছে
~~~কিন্তু আজ হাসি নেই
~~~তারা রাজকে দেখে একটু সরে দাঁড়াল
~~~একজন বলল, “ওভার হয়ে যাচ্ছিস ভাই!”
~~~রাজ ধীরে কাছে গিয়ে বলল
~~~“ওভার তো শুরুই হয়নি”
~~~তার কণ্ঠ এমন ঠাণ্ডা ছিল যে ছেলেগুলোর শরীর কেঁপে উঠল
~~~প্রিয়া দূর থেকে সব দেখছিল
~~~এরকম রাজকে সে আগে কখনো দেখেনি
~~~সে এগিয়ে এসে বলল, “চলো, এখান থেকে যাই”
~~~রাজ এবার তার কথা শুনল
~~~হাঁটতে হাঁটতে প্রিয়া বলল, “তুমি কি খুব কষ্ট পাচ্ছ?”
~~~রাজ বলল, “কষ্ট মানুষকে বদলায়, প্রিয়া”
~~~প্রিয়া দীর্ঘশ্বাস ফেলল
~~~ক্যাম্পাসের মাঠে দুজন বেশ কিছুক্ষণ কথা বলল
~~~এটা ছিল তাদের প্রথম স্বাভাবিক কথা
~~~রাজ লক্ষ্য করল—প্রিয়ার কথা বলার সময় চোখে অদ্ভুত উষ্ণতা
~~~যা সে আগে কখনো পায়নি
~~~দুপুরে হোস্টেলে ফিরে রাজ নিজের ফোনে জিম ট্রেনিং, ফাইট শেখার ভিডিও দেখতে লাগল
~~~তার ভেতরে শক্তির খিদে
~~~দুর্বলতার প্রতি ঘৃণা
~~~রাজ ভাবল—শরীর শক্ত না হলে কেউ সম্মান দেবে না
~~~সে হোস্টেলের পাশেই থাকা লোকাল জিমে নাম লিখাল
~~~ট্রেনার বলল, “শরীর বানানো সহজ না”
~~~রাজ উত্তর দিল, “আমাকেও তো কেউ সহজে নেয় না”
~~~তার চোখ দেখে ট্রেনার বুঝল—এই ছেলেটার ভেতরে আগুন আছে
~~~রাজ প্রথম দিনই ঘাম ঝরাতে লাগল
~~~নিজেকে ছাড় দিচ্ছে না
~~~হাত কাঁপছে, দম ফেলছে
~~~কিন্তু থামছে না
~~~ট্রেনার অবাক হলো
~~~এভাবে যার রাগ মনেই জমে থাকে—সে জিম ভাঙতে পারে
~~~শরীর ক্লান্ত হলেও রাজের মন শক্ত হয়ে উঠছিল
~~~জিম শেষে সে আকাশের দিকে তাকিয়ে ভাবল
~~~“ধরো তোরা হাসলি, মজা করলি…
~~~এখন আমি আস্তে আস্তে বদলাচ্ছি
~~~একদিন তোদের হাসিই থেমে যাবে”
~~~ওদিকে প্রিয়া সারাদিন চিন্তিত
~~~সে ভাবছিল—রাজ কি ভুল পথে যাচ্ছে?
~~~নাকি এটাই তার ভিতরের শক্তি?
~~~সন্ধ্যায় প্রিয়ার মেসেজ এল
~~~“আজ তুমি অনেক সিরিয়াস ছিলে”
~~~রাজ লিখল, “জীবন সিরিয়াস হলে মানুষও সিরিয়াস হয়”
~~~প্রিয়া লিখল, “আমি শুধু চাই তুমি ভাল থাকো”
~~~রাজের চোখ কিছুক্ষণ থমকে রইল
~~~সে প্রথমবার বুঝল—প্রিয়া আলাদা
~~~এই শহরে শুধু একজনই তাকে মানুষ মনে করে
~~~কিন্তু এটাও সে জানে না—
~~~একদিন সেই প্রিয়াই তার অন্ধকার জীবনের সবচেয়ে উজ্জ্বল আলো হয়ে যাবে
~~~আর সেই আলো জ্বলতেই রাজের চারপাশ অন্ধকারে ডুবে যাবে
~~~রাতে রাজ আবার ছাদে দাঁড়াল
~~~শহরের আলো জ্বলছে, বাতাস ঠাণ্ডা
~~~রাজ মনে মনে বলল
~~~“শুরু হচ্ছে… ধীরে ধীরে…
~~~একদিন আমি এমন জায়গায় পৌঁছাব—
~~~যেখানে কারও মাথা তুলে তাকানোর সাহস থাকবে না”
~~~এই রাতেই রাজের জীবনের দরজা খুলল
~~~যেখানে প্রেমও আছে
~~~কিন্তু আছে প্রতিশোধের শুরু
~~~আর এই শুরুই তাকে একদিন নিয়ে যাবে আন্ডারওয়ার্ল্ডের গভীর অন্ধকারে
চলবে,,,
--
0 Comments