অনেক অনেক দিন আগের কথা। সাত পাহাড়, তেরো নদী আর এক বিশাল বরফের সমুদ্রের ওপারে ছিল এক অদ্ভুত রাজ্য—নিশিপুর।
সেই রাজ্যের আকাশে সূর্য উঠত, পাখিরা গান গাইত, ফুল ফুটত, নদীতে মাছেরা খেলা করত। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, রাজ্যটির আকাশে কখনো রাত নামত না। দিনরাত সেখানে সূর্যের আলো জ্বলজ্বল করত।
শুনতে ভালো মনে হলেও এই চিরদিনের আলোই ছিল রাজ্যের সবচেয়ে বড় অভিশাপ।
কারণ, রাত না থাকায় গাছের ফল পাকত না, ফুলের সুবাস হারিয়ে যাচ্ছিল, মানুষ ঘুমাতে পারত না। আর রাজ্যের কোনো শিশুই স্বপ্ন দেখতে পারত না।
রাজা অরুণদেবের একমাত্র মেয়ে রাজকন্যা নীলিমা ছিল ভীষণ সাহসী। তার চোখ দুটি ছিল নীল পদ্মের মতো, আর চুলের রং ছিল ঘন মেঘের মতো কালো।
জন্মের পর থেকেই নীলিমার একটি অদ্ভুত ক্ষমতা ছিল। সে মানুষের মনের কথা শুনতে পেত। শুধু মানুষ নয়, গাছপালা, নদী, পাথর এমনকি বাতাসের কথাও সে বুঝতে পারত।
একদিন রাজপ্রাসাদের বাগানে বসে নীলিমা শুনতে পেল একটি শুকিয়ে যাওয়া গোলাপগাছ ফিসফিস করে বলছে—
‘রাজকন্যা, আমাদের বাঁচাও। রাত ফিরিয়ে আনো। নইলে আর সাত দিনের মধ্যে এই রাজ্য ধুলোর দেশে পরিণত হবে।’
নীলিমা অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল, ‘রাত কোথায় হারিয়ে গেছে?’
গোলাপগাছ বলল, ‘উত্তরের কালো পাহাড়ের ওপারে, কাচের প্রাসাদে বন্দি হয়ে আছে রাতের রানী।’
পরদিন ভোরে নীলিমা রাজাকে সব কথা জানাল।
রাজা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন, ‘মা, রাতের রানীকে বন্দি করেছে ছায়ার জাদুকর কালদ্রুম। তাকে পরাজিত করার ক্ষমতা পৃথিবীর কোনো মানুষের নেই।’
‘তাহলে কি আমরা সবাই ধ্বংস হয়ে যাব?’ নীলিমা প্রশ্ন করল।
রাজা মাথা নিচু করে রইলেন।
সেদিন রাতেই—যদিও রাজ্যে রাত ছিল না—নীলিমা গোপনে প্রাসাদ থেকে বেরিয়ে পড়ল। সঙ্গে নিল একটি রুপার ছুরি, এক টুকরো রুটি আর মায়ের দেওয়া নীল পাথরের লকেট।
তিন দিন তিন রাত পথ চলার পর সে পৌঁছাল এক অদ্ভুত বনে। সেখানে গাছের পাতা ছিল সোনার, নদীর পানি ছিল দুধের মতো সাদা, আর পাখিরা উল্টো দিকে উড়ে বেড়াত।
বনের মাঝখানে একটি কুঁড়েঘরে বাস করতেন এক বৃদ্ধা।
বৃদ্ধা নীলিমাকে দেখে বললেন, ‘অবশেষে তুমি এসেছ, নীল চাঁদের সন্তান!’
নীলিমা অবাক হয়ে বলল, ‘আপনি আমার নাম জানেন কীভাবে?’
বৃদ্ধা মৃদু হেসে বললেন, ‘তোমার জন্মের রাতে আকাশে নীল চাঁদ উঠেছিল। সেই চাঁদের আলোয় তুমি জন্মেছিলে। তোমার ভাগ্য লেখা আছে এমন এক বইয়ে, যা আগুনে পোড়ে না, পানিতে ভেজে না।’
‘আমি কীভাবে রাতের রানীকে মুক্ত করব?’
বৃদ্ধা একটি ছোট্ট কাচের শিশি তার হাতে দিলেন।
‘এতে রয়েছে পৃথিবীর শেষ সত্য অশ্রুবিন্দু। মনে রেখো, কালদ্রুমকে তলোয়ার দিয়ে হারানো যাবে না। তাকে হারাতে হলে তোমাকে এমন একটি কাজ করতে হবে, যা কোনো জাদুকর কখনো কল্পনাও করেনি।’
‘কী সেই কাজ?’
বৃদ্ধা উত্তর দিলেন না। শুধু বললেন, ‘তিনটি দরজা পার হতে হবে তোমাকে। প্রথম দরজায় তোমার সাহসের পরীক্ষা, দ্বিতীয় দরজায় তোমার বুদ্ধির পরীক্ষা, আর শেষ দরজায় তোমার হৃদয়ের পরীক্ষা।’
বনের শেষ প্রান্তে নীলিমা দেখতে পেল একটি সোনার হরিণকে লোহার শিকলে বেঁধে রাখা হয়েছে।
হরিণটি বলল, ‘রাজকন্যা, আমাকে মুক্ত করো। আমি তোমাকে কালো পাহাড় পর্যন্ত নিয়ে যাব।’
নীলিমা নিজের রুপার ছুরি দিয়ে শিকল কাটতে গেল। কিন্তু শিকল এত শক্ত ছিল যে ছুরি ভেঙে দুই টুকরো হয়ে গেল।
তখন হরিণটি বলল, ‘শক্তি দিয়ে সব বাধা ভাঙা যায় না। শিকলের দিকে ভালো করে তাকাও।’
নীলিমা লক্ষ করল, শিকলটি আসলে লোহা দিয়ে তৈরি নয়। প্রতিটি কড়ায় লেখা আছে মানুষের ভয়।
সে চোখ বন্ধ করে বলল, ‘আমি অন্ধকারকে ভয় পাই না। ব্যর্থতাকে ভয় পাই না। মৃত্যুকেও ভয় পাই না, যদি আমার জীবন দিয়ে অসংখ্য প্রাণ বেঁচে যায়।’
তার কথা শেষ হতেই শিকলটি ঝনঝন শব্দে ভেঙে পড়ল।
সোনার হরিণটি মুক্ত হয়ে বলল, ‘তোমার সাহসই তোমার প্রথম জাদু।’
হরিণের পিঠে চড়ে নীলিমা পাড়ি দিল সাতটি পাহাড়। অবশেষে তারা পৌঁছাল কালো পাহাড়ের পাদদেশে।
কালো পাহাড়ের ভেতরে ছিল একটি বিশাল গোলকধাঁধা। তার দেয়ালগুলো তৈরি হয়েছিল অসংখ্য আয়না দিয়ে।
নীলিমা ভেতরে প্রবেশ করতেই চারপাশে নিজের হাজার হাজার প্রতিবিম্ব দেখতে পেল।
হঠাৎ একটি আয়নার ভেতর থেকে তার বাবার কণ্ঠ ভেসে এল।
‘নীলিমা, ফিরে এসো! তোমার মা অসুস্থ। তোমাকে ছাড়া তিনি বাঁচবেন না।’
অন্য একটি আয়নায় দেখা গেল, নিশিপুরের মানুষ আগুনে পুড়ে যাচ্ছে।
আরেকটি আয়নায় দেখা গেল, সে নিজেই সিংহাসনে বসে আছে। তার মাথায় সোনার মুকুট, চারপাশে অসংখ্য দাসদাসী।
একটি কণ্ঠ বলল, ‘তুমি ফিরে গেলে তোমার পরিবার বাঁচবে। আর সামনে গেলে সব হারাবে। বেছে নাও।’
নীলিমার মন কেঁপে উঠল।
কিন্তু পরক্ষণেই সে বুঝতে পারল, এগুলো সত্য নয়। এগুলো তার ভয় আর লোভের প্রতিচ্ছবি।
সে চোখ বন্ধ করে বলল, ‘আমি নিজের সুখের জন্য যাত্রা শুরু করিনি। আমার রাজ্যের মানুষকে বাঁচাতে এসেছি।’
সঙ্গে সঙ্গে আয়নাগুলো চূর্ণ হয়ে গেল। গোলকধাঁধার শেষ দরজা খুলে গেল।
কিন্তু দরজার ওপারে যা ছিল, তা দেখে নীলিমার বুক কেঁপে উঠল।
সেখানে দাঁড়িয়ে ছিল তারই মতো দেখতে আরেকটি মেয়ে।
মেয়েটি বলল, ‘আমিই নীলিমা। তুমি কে?’
দ্বিতীয় নীলিমা ছিল অবিকল তার মতো। একই চোখ, একই মুখ, একই কণ্ঠস্বর।
সে বলল, ‘তুমি আমাকে পরাজিত করতে পারবে না। কারণ আমি তোমার ভেতরের সেই নীলিমা, যে শুধু নিজের কথা ভাবে।’
নীলিমা অবাক হয়ে বলল, ‘তুমি আমার ভেতরে বাস করো?’
‘হ্যাঁ। তুমি যখন নিজের সুখকে সবার সুখের ওপরে রাখো, তখন আমি শক্তিশালী হই। তুমি যখন অন্যের কষ্ট অনুভব করো, তখন আমি দুর্বল হয়ে পড়ি।’
দ্বিতীয় নীলিমা একটি জাদুর তরবারি বের করল।
‘আমাকে পরাজিত করো, যদি পারো!’
নীলিমা কোনো অস্ত্র বের করল না।
সে এগিয়ে গিয়ে নিজের প্রতিবিম্বকে জড়িয়ে ধরল।
‘তুমি আমার শত্রু নও। তুমি আমারই একটি অংশ। আমি তোমাকে অস্বীকার করব না, তবে তোমাকে আমার ওপর রাজত্বও করতে দেব না।’
দ্বিতীয় নীলিমার চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ল।
তার শরীর ধীরে ধীরে আলোর কণায় পরিণত হলো। সেই আলো নীলিমার বুকের মধ্যে প্রবেশ করল।
শেষ দরজাটি খুলে গেল।
দরজার ওপারে ছিল কাচের তৈরি এক বিশাল প্রাসাদ।
প্রাসাদের মাঝখানে একটি কালো সিংহাসন। সেখানে বসে ছিল ছায়ার জাদুকর কালদ্রুম। তার মাথায় মুকুট, চোখ দুটি আগুনের মতো লাল।
সিংহাসনের সামনে একটি কাচের খাঁচায় বন্দি ছিলেন রাতের রানী।
তার পোশাক ছিল তারাভরা আকাশের মতো, কিন্তু মুখে কোনো আলো ছিল না।
কালদ্রুম হেসে বলল, ‘শেষ পর্যন্ত এসেছ, রাজকন্যা! তোমার সাহসের গল্প শুনেছি। এবার বলো, তুমি কী চাও? সোনা, রত্ন, অমরত্ব, নাকি সমগ্র পৃথিবীর রাজত্ব?’
নীলিমা বলল, ‘আমি রাতকে মুক্ত করতে এসেছি।’
কালদ্রুম অট্টহাসি হেসে উঠল।
‘রাত? রাত তো দুর্বলদের জন্য! অন্ধকারে মানুষ ভয় পায়, হারিয়ে যায়, কাঁদে। আমি পৃথিবী থেকে রাত মুছে দিয়েছি, যাতে কেউ আর স্বপ্ন দেখতে না পারে। কারণ স্বপ্ন থেকেই জন্ম নেয় বিদ্রোহ।’
নীলিমা বলল, ‘তুমি ভয় পাও বলেই রাতকে বন্দি করেছ।’
কালদ্রুমের মুখ মুহূর্তে কঠিন হয়ে গেল।
সে হাত তুলতেই চারপাশের ছায়াগুলো জীবন্ত হয়ে নীলিমাকে ঘিরে ধরল।
কিন্তু নীলিমা পিছু হটল না।
সে বৃদ্ধার দেওয়া কাচের শিশিটি বের করল।
কালদ্রুম চিৎকার করে বলল, ‘ওটা কোথায় পেলে? ওটা আমাকে দাও!’
‘কেন? তুমি কি সত্যকে ভয় পাও?’
কালদ্রুমের চোখে প্রথমবারের মতো আতঙ্ক দেখা দিল।
নীলিমা শিশিটির মুখ খুলল।
তার ভেতর থেকে একটি স্বচ্ছ অশ্রুবিন্দু বেরিয়ে বাতাসে ভাসতে লাগল।
হঠাৎ চারপাশের দেয়ালে অসংখ্য দৃশ্য ফুটে উঠল।
নীলিমা দেখতে পেল, বহু বছর আগে কালদ্রুমও একজন সাধারণ মানুষ ছিল। সে ছিল এক ছোট্ট রাজ্যের রাজপুত্র।
এক ভয়াবহ খরায় তার রাজ্যের ফসল নষ্ট হয়েছিল। মানুষ ক্ষুধার্ত হয়ে পড়েছিল। তখন সে রাতের রানীর কাছে সাহায্য চেয়েছিল।
রাতের রানী বলেছিলেন, প্রকৃতির নিয়ম বদলানো যায় না, তবে মানুষ একে অন্যকে সাহায্য করলে বিপদ কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।
কিন্তু কালদ্রুম অপেক্ষা করতে পারেনি। সে জোর করে জাদু শিখতে চেয়েছিল। ব্যর্থ হয়ে তার মনে জন্ম নিয়েছিল ক্রোধ। সেই ক্রোধই তাকে ধীরে ধীরে ছায়ার জাদুকরে পরিণত করেছিল।
অশ্রুবিন্দুটি তার অতীতের সব স্মৃতি ফিরিয়ে আনল।
কালদ্রুম কাঁপতে কাঁপতে বলল, ‘বন্ধ করো! আমি আর এসব দেখতে চাই না!’
নীলিমা শান্ত গলায় বলল, ‘তুমি দুঃখ পেয়েছিলে, তাই বলে সারা পৃথিবীকে দুঃখী করে রাখার অধিকার তোমার নেই।’
কালদ্রুম চিৎকার করে উঠল, ‘তুমি আমাকে কীভাবে হারালে? তুমি তো আমার সঙ্গে যুদ্ধই করোনি!’
নীলিমা বলল, ‘তোমাকে হারাতে আসিনি। তোমার ভেতরের হারিয়ে যাওয়া মানুষটিকে ফিরিয়ে আনতে এসেছি।’
প্রথমবারের মতো কালদ্রুমের চোখ দিয়ে অশ্রু ঝরল।
তার অশ্রু মাটিতে পড়তেই কালো সিংহাসন ভেঙে গেল। কাচের খাঁচাটি খুলে গেল। রাতের রানী মুক্ত হলেন।
আর কালদ্রুমের শরীর থেকে কালো ছায়া সরে গিয়ে প্রকাশ পেল এক ক্লান্ত, অনুতপ্ত বৃদ্ধ মানুষ।
রাতের রানী নীলিমার সামনে এসে দাঁড়ালেন।
তিনি বললেন, ‘তুমি তিনটি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছ। সাহস দিয়ে ভয়কে, বুদ্ধি দিয়ে মিথ্যাকে, আর মমতা দিয়ে ঘৃণাকে জয় করেছ।’
তিনি নীলিমার কপালে হাত রাখলেন।
সঙ্গে সঙ্গে আকাশের সূর্য ধীরে ধীরে অস্ত গেল।
শত শত বছর পর নিশিপুরের আকাশে নেমে এল রাত।
পূর্ব আকাশে উঠল একটি বিশাল নীল চাঁদ। তার আলোয় নদীর পানি রুপালি হয়ে উঠল। গাছের ডালে ডালে নতুন পাতা গজাল। ফুলগুলো সুবাস ছড়াতে শুরু করল। ক্লান্ত মানুষ গভীর ঘুমে তলিয়ে গেল।
শিশুরা প্রথমবারের মতো স্বপ্ন দেখল।
রাজা অরুণদেব মেয়েকে বুকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে লাগলেন।
কিন্তু নীলিমা কোনো সোনার মুকুট বা রাজকীয় পুরস্কার চাইল না।
সে শুধু বলল, ‘বাবা, আমাদের রাজ্যে যেন আর কখনো কেউ একা কষ্ট না পায়।’
রাজা ঘোষণা করলেন, রাজ্যের প্রতিটি অসহায় মানুষের পাশে রাজপ্রাসাদ দাঁড়াবে।
আর কালদ্রুম?
সে নিজের অপরাধের প্রায়শ্চিত্ত করতে রাজ্যের অনুর্বর জমিতে গাছ লাগাতে শুরু করল। সে আর কখনো জাদু দিয়ে পৃথিবী শাসন করতে চাইল না।
বছর কয়েক পর নিশিপুর হয়ে উঠল পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর রাজ্য।
প্রতি বছর নীল চাঁদের রাতে রাজ্যের শিশুরা প্রাসাদের বাগানে জড়ো হতো। রাজকন্যা নীলিমা তাদের শোনাত এক সাহসী মেয়ের গল্প, যে তলোয়ার দিয়ে নয়, নিজের হৃদয়ের আলো দিয়ে অন্ধকারকে পরাজিত করেছিল।
আর সেই রাতের আকাশে নীল চাঁদ জ্বলজ্বল করে যেন আজও বলে—
‘যে হৃদয় অন্যের দুঃখ বুঝতে পারে, পৃথিবীর সবচেয়ে বড় জাদু তারই হাতে।’
অনেক অনেক দিন আগের কথা। সাত পাহাড়, তেরো নদী আর এক বিশাল বরফের সমুদ্রের ওপারে ছিল এক অদ্ভুত রাজ্য—নিশিপুর।
সেই রাজ্যের আকাশে সূর্য উঠত, পাখিরা গান গাইত, ফুল ফুটত, নদীতে মাছেরা খেলা করত। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, রাজ্যটির আকাশে কখনো রাত নামত না। দিনরাত সেখানে সূর্যের আলো জ্বলজ্বল করত।
শুনতে ভালো মনে হলেও এই চিরদিনের আলোই ছিল রাজ্যের সবচেয়ে বড় অভিশাপ।
কারণ, রাত না থাকায় গাছের ফল পাকত না, ফুলের সুবাস হারিয়ে যাচ্ছিল, মানুষ ঘুমাতে পারত না। আর রাজ্যের কোনো শিশুই স্বপ্ন দেখতে পারত না।
রাজা অরুণদেবের একমাত্
0 Comments