গল্পের নাম : মেঘের খামে রোদ (Meger Khame Rod) লেখক: সাকিব হোসেন _-_ বাঙলার এক কোনে একটি গ্রাম শিমুলপুর। গ্রামটি একটি নাচতে নাচতে বয়ে যাওয়া ছোট্ট নদীর তীরে অবস্থিত। গ্রামের মানুষ গুলো যেমন সহজ সরল এবং তেমনই খুবই দরিদ্র। গ্রামের মাটির গন্ধ আর কাঁচা ঘাসের শিশিরে ভেজা শিউলিমাখা ভোর তখনো গ্রামটাকে পুরোপুরি জাগিয়ে তোলেনি। রুপোলী নদীর পাশেই পশ্চিমপাড়া প্রাইমারি স্কুল। পুরোনো ইটের দেয়াল, জং ধরা টিনের চাল, আর উঠোনের এককোণে দাঁড়িয়ে থাকা মস্ত এক আমগাছ। এই স্কুলেই পড়ত অজয় আর বৃষ্টি। অজয় ছিল একটু লাজুক টাইপের ছেলে। ছেঁড়া চটির ফিতে বারবার বাঁধতে বাঁধতে স্কুলে দেরি করে আসাটা ছিল তার নিত্যদিনের অভ্যাস। আর বৃষ্টি? ঠিক তার উল্টো। চোখেমুখে তার একরাশ চঞ্চলতা, মাথায় দুটো ঝুঁটি বেঁধে যখন সে স্কুলের বারান্দা দিয়ে হেঁটে যেত, মনে হতো যেন লালন শাহের সুর ভেসে আসছে বাতাস থেকে। ক্লাসফাইভের শেষ বেঞ্চ দুইজনের বন্ধুত্ব শুরু হয়েছিল একটা ভাঙা পেন্সিল কাটার দিয়ে। ক্লাসফাইভের শেষ পরীক্ষার দিন বৃষ্টির পেন্সিল শিস ভেঙে গিয়েছিল। কাঁদতে বসেছিল সে। অজয় চুপচাপ নিজের পকেট থেকে তার একমাত্র পেন্সিল কাটারটা বের করে এগিয়ে দিয়েছিল। সেই থেকে শুরু। স্কুলের টিফিনের সময় ঝালমুড়ি খাওয়া, মেটে রাস্তায় সাইকেলের পেছনে দৌড়ানো, আর নদীর ঘাটে বসে কাদা দিয়ে পুতুল বানানো—সবকিছুতেই দুজন দুজনের ছায়া। অজয় আঁকতে ভালোবাসত। ক্লাসের ফাঁকে ছেঁড়া খাতায় সে লুকিয়ে বৃষ্টির ছবি আঁকত। আর বৃষ্টি সেই ছবিগুলো যত্ন করে লুকিয়ে রাখত তার বাংলা বইয়ের ভেতর। \"তুই তো ভালো আঁকিস অজয়! বড় হয়ে আমার একটা অনেক বড় ছবি এঁকে দিবি?\" \"দেবো। কিন্তু তার জন্য তোকে একটা আমসত্ত্ব দিতে হবে!\" বৃষ্টি হেসে উঠত। সেই হাসিতে নদীর জলে যেন আলো ঠিকরে পড়ত। হালকা ঠান্ডা হাওয়া উঠতো। সেদিন বিকেলে মেঘ জমেছিল। ওরা দুজন বাড়ির দিকে চলে গেলো। সময় কাটছিল তার নিজস্ব নিয়মে। কিন্তু গ্রামের অভাব-অনটনের সংসারগুলোর জীবন অত সহজে চলে না। বৃষ্টির বাবা ছিলেন একজন দিনমজুর। পরপর দুই বছর বন্যা হয়ে ফসল সব নষ্ট হয়ে গেল। দেনার দায়ে ডুবে যাওয়া পরিবারটি সিদ্ধান্ত নিল, গ্রাম ছেড়ে তারা শহরের দিকে চলে যাবে—বড় কোনো কাজের খোঁজে। যেদিন বৃষ্টি প্রথম কথাটা অজয়কে বলল, সেদিন আকাশে কোন মেঘ ছিল না, কিন্তু দুজনের মনেই ঝেঁপে বৃষ্টি নেমেছিল। স্কুলছুটির পর আমগাছের গোড়ায় দুজন বসেছিল চুপচাপ। কেউ কোনো কথা বলছিল না। \"কবে যাবি?\"—অজয় মাটি থেকে একটা শুকনো পাতা তুলতে তুলতে শুধাল। \"পরশু সকালে। বাবা বলল ওখানকার স্কুলে নাকি আবার ভর্তি করিয়ে দেবে...\" বৃষ্টির গলা কাঁপছিল। সে তার স্কুলব্যাগ থেকে একটা ছোট্ট পুরোনো ডায়েরি বের করল। ডায়েরির পাতায় শুকনো একটা শিউলি ফুল আর অজয়ের আঁকা সেই প্রথম ছবিটা রাখা। বৃষ্টি অজয়ের হাতে ডায়েরিটা দিয়ে বলল, \"তুই এটা রাখ। যখনই আমার কথা মনে পড়বে, খুলবি। আর শোন... তুই পড়াশোনা ছাড়বি না কিন্তু।\" অজয় কিছু বলতে পারল না। তার গলার কাছে কী যেন একটা দলা পাকিয়ে আসছিল। শেষ ঘণ্টা পরদিন স্কুলে বৃষ্টি এল না। প্যাকিং চলছিল তাদের ঘরে। অজয় সারাদিন ক্লাসে বসে রইল একলা। শেষ বেঞ্চের যে কোনটায় বৃষ্টি বসত, সেই জায়গাটা খালি। টিফিনের ঘণ্টা বাজল, কিন্তু অজয় নদীর ঘাটে গেল না। পরদিন খুব ভোরে, যখন কুয়াশার চাদর সরিয়ে সূর্য উঠছিল, অজয় দৌড়ে গেল স্টেশন রোডের দিকে। দূরে গরুর গাড়িতে বৃষ্টির জিনিসপত্র তোলা হচ্ছিল। বৃষ্টি গাড়ির পেছনে বসে ছিল, তার পরনে ছিল সেই পুরোনো স্কুলের নীল জামাটা। অজয়কে দেখতে পেয়ে সে হাত নাড়ল। অজয় পকেট থেকে তার সবথেকে প্রিয় জিনিসটা বের করল—একটা কাঠের ছোট পাখি, যেটা সে নিজে হাতে বৃষ্টির জন্য কেটে কেটে বানিয়েছিল। গরুর গাড়িটা চলতে শুরু করলে অজয় পেছনে পেছনে দৌড়াতে লাগল। \"বৃষ্টি! এটা নিয়ে যা!\" অজয় চিৎকার করে উঠল। গাড়িটা থামল না। বৃষ্টি হাত বাড়িয়ে পাখিটা ধরে নিল। তার চোখ দিয়ে তখন জল গড়িয়ে পড়ছে। অজয় নদীর ধারের মেটে রাস্তায় দাঁড়িয়ে রইল, যতক্ষণ না গরুর গাড়িটা ধুলোর আড়ালে মিলিয়ে গেল। নিঃশব্দে কেটে যাওয়া দিনগুলো বছরের চাকা ঘোরে নিজের নিয়মেই। ঋতু বদলায় শিমুলপুরে। বর্ষায় রুপোলী নদী উপচে পড়ে, আবার শরতে নদীর কোল ঘেঁষে ফোটে কাশফুল। কিন্তু পশ্চিমপাড়া প্রাইমারি স্কুলের সেই আমগাছটার নিচে অজয়ের একাকীত্ব এক চুলও কমে না। অজয় এখন হাইস্কুলে পড়ে। কাঁধে বেশ ভারী একটা ব্যাগ, পরনে সাদা শার্ট আর নীল প্যান্ট। কিন্তু শার্টের পকেটে সেই পুরোনো পেন্সিল কাটারটা আর ব্যাগের সবচেয়ে ভেতরের পকেটে সযত্নে মুড়ে রাখা বৃষ্টির দেওয়া সেই ডায়েরিটা এখনো থেকে গেছে। বৃষ্টি চলে যাওয়ার পর প্রথম প্রথম অজয় প্রতিদিন ডাকপিয়ন নাদিম কাকার পানে চেয়ে থাকত। নাদিম কাকা দূর থেকে সাইকেলের ঘণ্টা বাজিয়ে গ্রামে ঢুকলেই অজয়ের বুকটা ধক করে উঠত। দৌড়ে গিয়ে জিগ্যেস করত, \"নাদিম কাকা, আমার কোনো চিঠি আছে?\" নাদিম কাকা চশমার ওপর দিয়ে তাকিয়ে দয়াচ্ছন্ন গলায় বলতেন, \"না রে অজু, আজকেও তোর নামে কিছু নাই।\" চিঠি কোনোদিন আসেনি। শহরের কোনো অজানা গলিতে, বড় বড় দালানের ভিড়ে হয়তো বৃষ্টির ডায়েরি লেখার সময় হয় না। নাকি শহরের ধুলোবালি গ্রামের সেই কাঁচা ঘাসের গন্ধ আর দুটো ঝুঁটি বাঁধা শৈশবকে ভুলিয়ে দিয়েছে? অজয় উত্তর জানে না, জানতে চায়ও না। সে শুধু বিশ্বাস করতে ভালোবাসে, বৃষ্টি যেখানেই থাকুক, ডায়েরির ভেতর শুকিয়ে যাওয়া শিউলি ফুলটার মতো সে-ও স্মৃতিগুলোকে আগলে রেখেছে। অজয়ের আঁকার হাত আরও পাকা হয়েছে। এখন সে শুধু ছেঁড়া খাতাই নয়, গ্রামের ছাতিম গাছের ছালে, ভাঙা কুলোর গায়ে কিংবা নদীর চরের ভিজে বালিতে একমনে শুধু একটা মুখই এঁকে যায়। দুটো ঝুঁটি, জলছাপ পড়া চোখ আর হাতে ধরা একটা ছোট্ট কাঠের পাখি। গ্রামের বড় বড় বয়স্ক মানুষরা বলত, \"অজু ছেলেটা বড় লাজুক, পড়াশোনায় ভালো, কিন্তু সারাদিন একা একা নদীপারে কী যে ছাইপাশ আঁকে!\" অজয় কারো কথায় কান দিত না। সে আঁকত, কারণ ছবিগুলোই ছিল বৃষ্টির সাথে কথা বলার তার একমাত্র মাধ্যম। _-_শহরের কোলাহল ও হারিয়ে যাওয়া রোদ্দুর_-_ অন্যদিকে, ইট-কাঠের শহর কলকাতায় বৃষ্টির দিনগুলো শিমুলপুরের মতো রঙিন ছিল না। একটা ছোট বস্তির মতো ঘরে তাদের দিন কাটত। বাবা কারখানায় কাজ নিয়েছিলেন, মা লোকের বাড়িতে কাজ করতেন। শহর বৃষ্টিকে নতুন স্কুল দিয়েছিল, কিন্তু গ্রামের মতো খোলা মাঠ দেয়নি। দেয়নি রূপোলী নদীর শান্ত জল বা ক্লাসের শেষ বেঞ্চের অজয়কে। শহরে আসার কয়েক মাসের মধ্যেই এক তীব্র ঝড়ে তাদের সব উল্টে গিয়েছিল। যে ডায়েরিতে অজয়ের দেওয়া ছবিটা আর শুকনো শিউলি ফুলটা ছিল, দুর্ঘটনাবশত সেই ডায়েরিটা ঘরের এক কোণে জল পড়ে নষ্ট হয়ে যায়। বৃষ্টি সেদিন অঝোর ধারায় কেঁদেছিল। সে অজয়কে চিঠি লিখতে চেয়েছিল অনেকবার, কিন্তু গ্রামের তো নির্দিষ্ট কোনো পোস্টাল ঠিকানা তার জানা ছিল না! শুধু জানত—\'শিমুলপুর গ্রাম, পশ্চিমপাড়া\'। সেই অসম্পূর্ণ ঠিকানায় পাঠানো দুটো চিঠি হয়তো ডাকঘরের কোনো অন্ধ গলিতেই ধুলো জমে হারিয়ে গিয়েছিল। বৃষ্টির হাতের সেই কাঠের পাখিটা অবশ্য হারিয়ে যায়নি। পড়ালেখার টেবিলের সামনে, একটা ছোট কাচের বয়ামে সে পাখিটাকে রেখে দিয়েছিল। যখনই শহরের যান্ত্রিক জীবনে নিঃশ্বাস আটকে আসত, বৃষ্টি পাখিটার গায়ে হাত বোলাত। কাঠের খোদাই করা কাঁচা খাঁজগুলোতে হাত ছোঁয়ালেই সে যেন শুনতে পেত—\"বৃষ্টি! এটা নিয়ে যা!\" অজয়ের সেই আকুল আর্তনাদ। বহু বছর পর: ক্যানভাসে আঁকা শিমুলপুর দেখতে দেখতে দশটি বছর কেটে গেছে। অজয় এখন আর শিমুলপুরের সেই ছেঁড়া চটির ফিতে বাঁধা লাজুক ছেলেটি নেই। শহরের আর্ট কলেজে পড়ালেখা শেষ করে সে এখন একজন উঠতি চিত্রশিল্পী। তার প্রথম একক প্রদর্শনী আয়োজিত হয়েছে শহরের নামকরা এক আর্ট গ্যালারিতে। অজয়ের সমস্ত প্রদর্শনীর থিম ছিল একটাই—\'মেঘের খামে রোদ\'। গ্যালারির দেয়ালে টাঙানো সারি সারি ক্যানভাস। কোনোটায় ভোরের শিশিরভেজা শিমুলপুর, কোনোটায় নদীর ঘাটে কাদা দিয়ে পুতুল বানানোর দৃশ্য, আবার কোনোটায় নদীর মেটে রাস্তায় ধুলো উড়িয়ে চলে যাওয়া গরুর গাড়ি আর তার পেছনে দৌড়ানো এক বালকের ছবি। কিন্তু প্রদর্শনীর ঠিক মাঝখানের সবচেয়ে বড় ক্যানভাসটা একটা লাল কাপড়ে ঢাকা ছিল। সন্ধ্যা নামতেই গ্যালারিতে মানুষের ভিড় জমে উঠল। নামীদামী সব শিল্পবোদ্ধা, সাংবাদিক আর দর্শনার্থী এসেছেন অজয় সেনের ছবি দেখতে। অজয় শান্ত হয়ে এককোণে দাঁড়িয়েছিল। তার পরনে পাঞ্জাবি, কিন্তু চোখের কোণে এখনো সেই শিমুলপুরের নিষ্পাপ সরলতা। এমন সময় গ্যালারিতে ঢুকলেন এক তরুণী। পরনে সাধারণ একটা সুতির শাড়ি, চুলে আলতো করে বাঁধা খোঁপা। দর্শনার্থীদের ভিড় ঠেলে সে একে একে ছবিগুলো দেখছিল। প্রতিটি ছবির সামনে গিয়ে সে থমকে দাঁড়াচ্ছিল। তার চোখে ফুটে উঠছিল এক অবিশ্বাস্য বিস্ময় আর জলছবি। মেয়েটি প্রতিটি ক্যানভাসে যেন নিজের হারিয়ে যাওয়া শৈশবকে দেখতে পাচ্ছিল! সেই ভাঙা পেন্সিল কাটার, সেই আমগাছ, সেই নদীর ঘাট... হঠাৎ তরুণীর দৃষ্টি গিয়ে পড়ল ঘরের মাঝে লাল কাপড়ে ঢেকে রাখা প্রধান ছবিটার ওপর। সে আস্তে আস্তে পা ফেলে ছবিটার সামনে এসে দাঁড়াল। পাশে দাঁড়িয়ে থাকা অজয় তখনো তাকে খেয়াল করেনি, সে অন্য এক সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছিল। মেয়েটি কাঁপানো হাত বাড়িয়ে লাল কাপড়টা আস্তে করে সরিয়ে দিল। ক্যানভাসটা উন্মুক্ত হতেই গ্যালারির আলো যেন থমকে গেল। বিশাল এক ক্যানভাসে আঁকা—একটি ছায়াসুনিবিড় মেটে রাস্তা। নদীর কোল ঘেঁষে কুয়াশাচ্ছন্ন ভোর। রাস্তার মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে দুটো ঝুঁটি বাঁধা এক কিশোরী, যার হাতে একটা কাঠের পাখি। আকাশে মেঘ কেটে গিয়ে এক চিলতে রোদ এসে পড়েছে মেয়েটির মুখের ওপর। আর ছবির ঠিক নিচে ছোট করে লেখা: \"তোকে আমসত্ত্ব দিতে হবে না বৃষ্টি, শুধু একবার এসে দেখে যা, তোর ছবিটা আমি আঁকতে পেরেছি।\" মেয়েটির চোখের কোণ বেয়ে একবিন্দু জল গড়িয়ে পড়ল ক্যানভাসের ফ্রেমের ওপর। তার ব্যাগ থেকে সে হাত বাড়িয়ে বের করল পুরোনো, বিবর্ণ হয়ে যাওয়া একটি কাঠের পাখি—যার ডানা দুটো সময়ের ধাক্কায় একটু ক্ষয়ে গেছে, কিন্তু আদলটা ঠিক আগের মতোই আছে। মেয়েটি পাখিটা ক্যানভাসটার পাশে ধরে ডুকরে কেঁদে উঠল। অজয় কথা বলতে বলতে থেমে গেল। সেই কান্নার শব্দ, আর হাতে ধরা কাঠের পাখিটা দেখে অজয়ের বুকের ভেতরটা কেঁপে উঠল। কত বছর! কত শত রাত জেগে আঁকা স্বপ্ন! অজয় এগিয়ে এল। মেয়েটির সামনে এসে দাঁড়াল। দুজনের মাঝখানে তখন দশ বছরের নীরবতা, অজস্র না-বলা চিঠি আর অভিমানের পাহাড়। \"তুই... পড়াশোনা ছাড়িসনি অজয়?\"—বৃষ্টির গলা কাঁপছিল, ঠিক যেমনটা কেঁপেছিল সেই আমগাছের নিচে বসে শেষ বিদায়ের দিনে। অজয় হালকা হাসল। সেই হাসিতে কোনো অভিমান ছিল না, ছিল একপ্রস্থ শান্ত আলো। সে পকেট থেকে বের করল সেই পুরোনো পেন্সিল কাটার আর ডায়েরির সেই শুকনো শিউলি ফুলের পাপড়িগুলো। \"গ্রামের নদীটা এখনো একইরকম আছে বৃষ্টি। শুধু টিফিনের ঘণ্টার পর শেষ বেঞ্চটা বড্ড খালি লাগত।\"—অজয়ের গলার স্বর ধরে এল। বাইরে তখন শহরের বুকে ঝুম বৃষ্টি নেমেছে। ইটের দেয়াল ভিজছে, গাড়িগুলোর পঁ পঁ শব্দ থমকে গেছে। কিন্তু আর্ট গ্যালারির সেই ছোট্ট কোণটিতে যেন মেঘের খাম খুলে এক চিলতে মিষ্টি রোদ এসে পড়েছে—যে রোদ কখনো হারিয়ে যায় না, যে রোদ শৈশবের ভালোবাসাকে চিরন্তন করে রাখে। _-_সমাপ্ত _-_ _-_সাকিব হোসেন _-_ :)
এই গল্পটি এইটি গ্রামের ছোট্ট দুটি বালক বালিকার প্রেমের অনুভূতি নিয়ে লেখা একটি গল্প বালকটির নাম অজয় এবং বালকটির নাম বৃষ্টি |গল্পে দুজন বালক বালিকা তাদের গ্রামের প্রাইমারি স্কুলে পড়ে মাঝে মাঝে তাদের দেখা হয় টিফিন এ খাবার ভাগ করে নেই বালকটি ছবি আঁকতে ভালোবাসে বালকটি একটু লাজুক কিন্তু বালিকাটি একদম তার বিপরীত | দুজন এর বন্ধুত্ব শুরু হয় শেষ পরীক্ষার দিন পেন্সিল কাটার নিয়ে অভাবেই চলতে থাকে | একবার বন্যায় পর পর দুই বছর সমস্ত ফসল নষ্ট হয়ে যাই বালিকাটিদের এর পর দেনার দায়ে গ্রাম থেকে শহরে চলে যাওয়া।
Need more