মানব এবং জলপরীর নিষিদ্ধ প্রেমের সূচনা। ভূমি এবং জলের সৃষ্ট সকল বাঁধাএবং প্রকৃতির নিয়মের উর্ধে গিয়ে পরিণীতি পাওয়া প্রণয় কাহিনী।
উপন্যাস: Abyssfal (সূচনা পর্ব )
“মৎসকন্যা…” তীব্র আলোর ঝলকানি সহ্য না করতে পেরে দৃষ্টি ফিরিয়ে নেয় লুসিয়ান। কিন্তু কৌতহল অনেক আগেই নিজের সীমা অতিক্রম করে ফেলেছে। আবারও চোখ মেলে তাকাতেই বিস্ময়ে তাঁর শরীর জমে যায়। মাঝরাতে সাগরের তীরের জায়গাটা পূর্ণিমার চাঁদের আলোয় ঝিলমিল করছে। যেনো পানির উপরে অসংখ্য মুক্তার স্তর এসে জোস্না বিলাসে বসেছে। তবে সেই আলোকেও যেনো ছারিয়ে গিয়েছে তীরে উঠে আসা Mermaid - টির (মৎসকন্যার) গাঁয়ের উজ্জ্বলতা। চোখ ধাঁধানো, নমনীয় নারী দেহ। গাঁয়ের ফর্সা চামড়ার সৌন্দর্য আরো ফুটিয়ে তুলেছে লাল চুল গুলো। “কে তুমি?. …” লুসিয়ানের প্রশ্নের কোনো উত্তর আসে না। দৃষ্টি এখনো স্থির জ্বল জ্বল করা সমুদ্র নীল চোখ জোড়াতে। বুকে অসহনীয় ব্যথা অনুভব করে লুসিয়ান। কিন্তু হঠাৎ Mermaid টি তীব্র চিৎকার করে উঠে। চোখ জোড়া বেয়ে রক্তিম তরল গড়িয়ে পরে মিলিয়ে যেতে থাকে টাইরেনিনের বুঁকে জমিয়ে রাখা সবুজাভ-নীল জ্বলরাশির ঢেউয়ের সঙ্গে।। করুন সেই চিৎকার গিয়ে ধাক্কা দেয় লুসিয়ানের হৃদয়ে। শরীর অসার হয়ে আসে। পা দুটো সামনের দিকে চলতে মর্জি দিচ্ছে না। তবুও লুসিয়ান সামনের যাওয়ার চেষ্টা করে। যাওয়ার পথে পা দুটোকে পাথরের মতো ভারী মনে হয় তাঁর। যেনো কেউ ভারী কোনো পাথরের সঙ্গে তাঁর পা দুটোকে বেঁধে দিয়েছে। লুসিয়ান এক পলক পায়ের দিকে তাকায়। এরপর সামনে তাকাতেই চোখে পরে বিশাল ঢেউ! ধেয়ে আসছে উপকূলে। এবারে ভারী পা দুটো নিয়ে এগিয়ে যেতে দ্রুত চেষ্টা করে সে। কিন্তু নড়তে না পেরে অসহায়ের মতো চিৎকার করে সতর্ক করার চেষ্টা করে Merfolk- টিকে, “সরে যাও…” তাঁর চিৎকার শুনে Mermaid টি কান্না থামিয়ে স্থির হয় খানিকটা। কিন্তু কিছু বুঝে উঠার আগেই দানবীয় আকৃতির জ্বলস্রোতটি তাঁকে ভাসিয়ে নিয়ে যায়। মুহূর্তেই দৃষ্টির আড়ালে চলে যায় Mermaid - টি। লুসিয়ানের হৃদয় দুমড়ে মুচড়ে যায়। হাঁটু গেড়ে বসে পরে বালির উপর। গলা ফাটিয়ে চিৎকার করতে থাকে, “লিরিয়া..!” *****--- হঠাৎ পানির আক্রমণে ঘুম ভেঙে যায় লুসিয়ানের। ধর-ফড়িয়ে উঠে বসে বিছানায়। হৃদয় তাঁর এখনো কাঁপছে। সেই কম্পন শুধু হৃদয় পর্যন্ত থেমে থাকেনি শরীরের প্রত্যেকটি অংশে ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে থেকে থেকে কেঁপে উঠছে সে। “ লুই! ঠিক আছো তুমি?? “ পরিচিত কণ্ঠ শুনে সামনে তাকায় লুসিয়ান। হাতে কাঠের তৈরী বালতি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে তাঁর বন্ধু সেয়বার। ভ্রু কুঁচকে যায় লুসিয়ানের। কণ্ঠে বিরক্তি মিশিয়ে উত্তর করে, “হুম..!” “আবার ও কী সেই স্বপ্নটা এসেছিলো?” কারো সঙ্গে ব্যক্তিগত বেপারে আলোচনা করতে পছন্দ করে না লুসিয়ান। কিন্তু প্ৰিয় বন্ধু হওয়াতে সেই বিরক্তিটা নিজের মাঝেই চেপে গেলো সে, স্বাভাবিক হয়ে উত্তর দেয়ার চেষ্টা করে, “আমি পরে কথা বলছি তোমার সাথে, ” লুসিয়ান বিছানা ত্যাগ করে। খালি পায়েই বেরিয়ে আশে নিজের শোয়ার কক্ষ থেকে। পেছনে অবিহেলায় পরে রয় চামড়া দিয়ে বানানো দামি বুট গুলো।লুসিয়ান কে বেরিয়ে যেতে দেখে সেয়রার ও পিছু নেয় তাঁর। হাতের বালতিটাকে মেঝেতে ফেলে রেখে ছুটে রাগচটা বন্ধুর পিছনে। কাঠের তৈরী মেঝের সাথে তাঁর বুটের নিচের অংশের সংঘর্ষে সৃষ্টি হয় ঠক ঠক আওয়াজের। লুসিয়ান ডেকের বাহিরে যাওয়ার উদ্দেশ্যে সিঁড়ি পেরিয়ে হাত দিয়ে মাথার উপরে থাকা ঢাকনার মতো দরজাটার কড়া নারলে উপর থেকে পাহারাদারেরা দরজা খুলে দেয়। বেরিয়ে আশে লুসিয়ান। টাইরেনিনের উপর বয়ে যাওয়া হাওয়ার ঝাপ্টা লাগে তাঁর শরীরে। পরনের শার্টটা খানিকটা উড়ে যায় তাতে। উন্মুক্ত হয় তাঁর শক্ত-পক্ত দেহখানা। *********--- পরিচিতি: পশ্চিম ভুমধ্যসাগরের অংশ টাইরেনিন সাগরের(Tiranian sea) বিশাল সবুজাব-নীল জলরাশির ২৫০ মিটার নীচে। মানব জাতির আয়ত্তের বাহিরে অবস্থিত Merfolk- দের রাজ্য রেগনুম থ্যালাসেরিয়া।। থ্যালাসেরিয়ান- দের(থ্যালাসেরিয়ার অদিবাসী ) মতে সৃষ্টির পর বিখ্যাত Merfolk পরিবার– টাইডবর্ন রাজ্যের শাসক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন। এরপর থেকে হাজার বছর ধরে চলে আসছে সেই রীতি। টাইডবর্ণ-দের অধীনে শাসিত হচ্ছে থ্যালাসেরিয়া। থ্যালাসেরিয়ার হৃদয় হিসেবে পরিচিত বিখ্যাত রে-জিয়া টাইডবর্ন( টাইডবর্নদের প্রাসাদ)। রে-জিয়া টাইডবর্ন-কে টাইডবর্নদের ক্ষমতা এবং অভিযজাত্যের প্রতীক । প্রাসাদের চারপাশে বিশাল জ্বলরাশি ঘূর্ণির ন্যায় থাকে সবসময়। বাহির থেকে দেখলে মনে হবে, রে-জিয়া নিজেই শ্বাস নিচ্ছে। বর্তমানে প্রাসাদ এবং থ্যালাসেরিয়ার ১৮২ তম অধিপতি হচ্ছেন রাজা দ্বিতীয় থ্যালানর টাইডবর্ন (Rex Thalanor Tideborn-।।) রাজ্যের সকল নিয়ম প্রণয় করা হয়ে থাকে রাজ্য পরিষদ কন-সিলি-উম থ্যালাসেরিয়া থেকে। এর নিয়ন্ত্রণ হয় রাজা থ্যালানরের নেতৃত্বে। রাজা থ্যালানোর একটি পুত্র সন্তান এবং দুইটি কন্যা সন্তানের পিতা। তাঁর প্রথম বৈবাহিক জীবনে সুখের রেশ মাত্র ছিল না। বাবার অবাধ্য হয়ে বিয়ে করেছিলেন দীর্ঘ দিনের প্রণয়ের সম্পর্কে থাকা রাজ চিকিৎসকের মেয়ের সঙ্গে। বিয়ের পর নানা সংগ্রামের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হতে থাকে তাঁর জীবন। এরপর তাঁদের ঘর আলো করে আসে রাজকুমারী লিরিয়া থ্যালাসা। রাজ্যে জুড়ে আসে সুখের বার্তা। সেই সুখ ও বেশী দিন স্থায়ী হয়ে উঠেনি। লিরিয়ার জন্মের বছর খানেক পরেই মৃত্যুবরন করেন রানী। এবারে সম্পূর্ণ ছন্নছাড়া ছাড়া হয়ে উঠেন রাজা থ্যালানর। স্ত্রীর রেখে যাওয়া একমাত্র স্মৃতি টাকে আঁকড়ে ধরে কত যে তাঁর আকুতি। মেয়েকে বুঁকে জড়িয়ে স্ত্রীকে ডাকতো একটিবার এসে তাঁদের দেখার জন্য। লিরিয়া এবং তাঁর মাঝে কতটা মিল রয়েছে জানার জন্য। কিন্তু সেই অনুরোধ একটিবারের জন্যেও পুরোন হয়না। বিশেষ নিয়মে রাজ্য রক্ষার্থে আবার ও রাজা থ্যালানর কে বিয়ে করানো হয়। এবারে তিনি বাবার পছন্দ অনুযায়ী রাজ পুরোহিতের মেয়েকে বিয়ে করেন। সঙ্গে গ্রহণ করেন তাঁর সন্তানদের। মেয়ে নেরেইয়া কোরালাইন এবং ছেলে জোসেফ কোরেল। প্রিন্স জোসেফ প্রিন্সেস লিরিয়ার মাঝে বছর দশেক এর ব্যবধান। এবং প্রিন্সেস লিরিয়া এবং প্রিন্সেস নেরেইয়ার মাঝে বছর দুয়েকের পার্থক্য। ********---- “লাল চুলের সুন্দরী Merfolk - প্রিন্সেস থ্যালাসিয়া। তাঁর গাঁয়ের রং রক্তিম ফর্সা, ঠিক যেনো মুক্ত ঝরছে। তাঁর স্কেল সবুজাব নীল রঙের যা টাইরেনিন সাগরের সকল Merfolk- দের মাঝে অন্যতম বিরল এবং আকর্ষণীয়। আর চোখ দুটো…” “ব্যাস হয়েছে মামনি! এতো রূপ থেকেও কী লাভ যদি আমি এই সমুদ্রেই বন্ধী থাকি? একটু বাহিরে গেলে ক্ষতিই বা কী? ” প্রিন্সেস লিরিয়ার কথা শুনে কপালে অসংখ্য ভাঁজের সৃষ্টি হওয়ার কথা ছিলো ন্যানি অ্যাকুয়েরার। বিস্ময়কর ঘটনা এইযে ন্যানি একটুও অবাক হননি। তিনি পুনরায় মুচকি হেঁসে তাঁর কোলের উপর মাথা রেখে শুয়ে থাকা অপরূপা রমণীর দিকে তাকান। “ প্রকৃতি! আমরা প্রকৃতির কাছে সীমাবদ্ধ সোনা…চাইলেও সেই নিয়ম ভাঙা সম্ভব না। ” “তবে আমাদের অর্ধ-মানবের মতো করে কেনো সৃষ্টি করা হলো? এটাকি বৈষম্য নয়?? “ ন্যানি আবারও হাল্কা হেঁসে ফেলেন লিরিয়ার কথায়। মেয়েটার কৌতহল অনেক বেশী। যেখানে গিয়ে সকলের সীমা শেষ হয়। সেখান থেকেই লিরিয়ার সকল ইচ্ছেরা ডানা মেলতে শুরু করে।ছোটো থেকে এমন কত অবান্তর ইচ্ছা তাঁর কাছে প্রকাশ করেছে তাঁর হিসেব নেই। ন্যানির কোনো সারা না পেয়ে লিরিয়া বিরক্তিতে কপাল কুচকায়। কোল থেকে মাথা উঠিয়ে সোজা হয়ে বসে। বেরিয়ে যায় ন্যানির ঘর থেকে। এভাবে হঠাৎ লিরিয়া কে বেরিয়ে যেতে দেখে পেছন থেকে ডেকে উঠেন, “কোথায় চললে? ” লিরিয়া পেছনে না ফিরেই উত্তর করে, “ মানুষ দেখতে…” মুখের কথা সম্পূর্ণ শেষ করার আগেই লিরিয়া থেমে যায়। সামনে দাঁড়িয়ে থাকা সবুজ রঙের Merman- (পুরুষ অর্থে ব্যবহিত )এর দিকে। হৃদয় কেঁপে উঠে লিরিয়ার। শুকনো ঢোক গিলে গলা ভেজানোর চেষ্টা করে সে। ভয়ার্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে, “ কী বলছিলি?.. ” লিরিয়া এতক্ষন মনে মনে প্রার্থনা করছিলো যাতে কথাটা ভাই জোসেফ না শুনেন। কিন্তু কথায় আছে না যেখানে বাঘের ভয়, সেখানেই সন্ধে হয়।এবারেও ঠিক সেটাই হলো। লিরিয়া মনে মনে খানিকটা সাহস জুগিয়ে কিছু বলতে যাবে তাঁর আগেই জোসেফ তাঁর দিকে এগিয়ে আসলে সে এক পা পিছিয়ে যায়। পিঠ ঠেকে যায় দেয়ালে। জোসেফ তাঁর একহাত দেয়ালে রাখে ঠিক লিরিয়ার মাথা বরাবর। তাঁর সমুদ্র নীল চোখের ঠান্ডা দৃষ্টি লিরিয়ার শরীরে কাপন ধরায়। “বেশী বাড়াবাড়ি করিস না! নাহলে এই সুন্দর স্কেলটা ভেঙে গুঁড়ো করতে আমার বেশী একটা সময় লাগবে না। ” “মাইন্ড ইট.. ” খানিকটা বিরতি টেনে শেষের কথা গুলো বলে চলে যায় জোসেফ। কিন্তু তাঁর দেয়া শীতল হুমকি এখনো লিরিয়া কে একই জায়গায় বেঁধে রেখেছে। ************--- “প্রহরী!... ” প্রিন্স জোসেফের কণ্ঠ শোনা মাত্রই প্রাসাদের উত্তর দিকের বারান্দায় উপস্থিত দশজন পাহারাদারেরা তাঁর সামনে সারিবদ্ধ ভাবে দাঁড়ায়। “অন্দরের পাহারা আরো শক্ত করো। একটা পিঁপড়াও বের হতে গেলে যেন আমার অনুমতি নিতে হয়!! ” হুকুম দিয়েই প্রিন্স জোসেফ নিজের কাজের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়েন। কিন্তু যেতে যেতে আরো দুটো হিম শীতল বাক্য ছুড়ে দিয়ে যান, “আর কোনো ভুল করলে অবশ্যই সকলেই সার্কের খাবার হবে…” প্রিন্সের প্রস্থান হতেই প্রহরীরা নিজেদের মতো করে পাহারায় দাঁড়িয়ে যায়। ***********----- দিন গড়িয়ে রাত হয়। সূর্য তাঁর প্রতিদিনের নিয়ম অনুযায়ী অস্ত যায়। আলো কমার সঙ্গে সঙ্গে জাহাজের সকল জ্বলদস্যুরা নোঙ্গর করে দ্বীপে অবস্থান করে। কুড়িয়ে আনা কাঠ দিয়ে খানিকটা আগুন জ্বালিয়ে নিজেদের মতো করে কেউ খাবার বানায়, কেউ পাহারা আবার কেউ বা বিশ্রামের কাজে ব্যস্ত। এদিকে তাঁদের ক্যাপ্টেন লুসিয়ান অরেল্লোস দ্বীপের অপরপাশে বসে আছেন। অর্ধ খালি গায়ে। বাহিরে বহমান হিম শীতল বাতাস গুলোকে যেনো নিজের উন্মুক্ত হৃদয়ের মাঝে আটকে রাখতে চাইছে। এতে করে যদি ভেতরে জ্বলতে থাকা আগুনটা খানিকটা নেভে। লুসিয়ান পাশে পরে থাকা একটা পাথরের টুকরো তুলে নিয়ে ঢিল ছুড়ে সমুদ্রের বুঁকে। লুসিয়ানের কাছে যদিও ঢিল ছুড়ে মারা স্বাভাবিক। কিন্তু সেই ছুড়ে মারা ইটের টুকরো টুকু সমুদ্রের কতটা গভীরে যাবে তা সম্পূর্ণ অজানা। টুকরোটা একমিটার, দুমিটার, এভাবে করে নিজ গতিতে সম্পূর্ণ ২৫০ মিটার নীচে গিয়ে প্রাসাদের উত্তর দিকের কামরার জানালা দিয়ে প্রবেশ করে। **********---- তখন প্রিন্স জোসেফর কাছে অপমানিত হয়ে এসে বিছানায় শুয়েছিল প্রিন্সেস লিরিয়া। সম্পূর্ণ মনোযোগ দিয়ে নিজের ১১৫ বছরের জীবনটাকে বিশ্লেষণ করছে। কিন্তু আচানক টেবিলের উপরে রাখা ঝিনুকের মূর্তিটা নীচে পরে যেতেই তাঁর ধ্যান ভাঙে। বুক ধড়ফড় করে উঠে। এদিক-সেদিক চেয়ে আওয়াজের উৎস খুঁজতেই চোখে পরে একটা পাথরের টুকরো। লিরিয়া এগিয়ে গিয়ে সেটাকে নিজের হাতে তুলে নেয়। সঙ্গে সঙ্গে আরো একটা পাথর এসে কামড়ায় পড়লে লিরিয়া বিছানার উপর ফেলে রাখা কালো মুকুশটাকে তুলে নিয়ে বেরিয়ে পরে জানালা দিয়ে। হাতের পাথরের টুকরোটার আসার জায়গাটা অনুমান করতে করতে সাঁতরে উপরে উঠে আসতে থাকে। প্রতিবার তাঁর লেজ নড়ার সঙ্গে সঙ্গে জ্বলজ্বল করে উঠতে থাকে পানিতে সৃষ্ট বুদবুদ গুলো। লিরিয়ার মনে আজ অদম্য সাহসেরা হানা দিয়েছে। রক্তিম পাতলা ঠোঁট গুলোর কোনে ফুটে উঠেছে স্বস্তির হাসি। প্রতিমিটার উপরে আসার সঙ্গে সঙ্গে তাঁর বুঁকের ডিপ ডিপ আওয়াজ আরো প্রবল বেগে বাড়তে থাকে। “আরেকটু…!” লিরিয়া আপন মনেই বিড়বিড় করে। প্রায় উপরে আসতেই লিরিয়া হঠাৎ সতর্ক ভঙ্গিতে সরে যায়। তাঁর চোখে পরে সামনে থেকে ধেয়ে আসা পাথরের টুকরোর দিকে। খানিকটা ভীতির পরে আবারও উত্তেজনায় তাঁর শরীর শীতল হয়ে আসে। ধীরে ধীরে এগিয়ে যায় তীরের দিকে। চোখের সামনে দৃশ্যমান হয় তীরে বসে থাকা মানব কে। লিরিয়া স্তব্ধ হয়ে যায়। তাঁর নড়াচড়া সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। সমুদ্র নীল চোখ গুলোর মাঝের সবুজ বলয় গুলো কেমন যেনো বিস্ময়ে চকচক করে উঠে তাঁর। “মানুষ…” লিরিয়া দেখতে পায় পানিতে ভাসমান লম্বা একই রকম দেখতে দুটো অদ্ভুত জিনিস। স্পর্শ করতে গিয়েও থেমে যায় হাত দুটো। ঘুরে ঘুরে দেখতে থাকে সেগুলো কে। আবারও চোখ উপরে তুলে দেখতে চায় মানুষটাকে। শক্ত চোয়াল আর কপাল কুঁচকে বসে আছে লোকটা। খালি গায়ে। লিরিয়া Marfolk এবং মানুষদের মাঝে তেমন কোনো পার্থক্য দেখতে পায় না। হঠাৎ নিজের লেজের কাছে কিছু একটা অনুভব করতে পেরে লিরিয়া ঘুরে তাকায়। কিন্তু সামনে যা দেখে তাঁর জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিলো না সে…. (চলমান...)
0 Comments