রাত গভীর হলেই আমার জানালার বাইরে বাতাসের শব্দ বদলে যায়।সাধারণ বাতাস নয়—ডানার ফিসফিস, যেন আকাশ নিজেই নিঃশ্বাস নিচ্ছে।আমি জানি, সে এসেছে।জানালার কাঁচে হালকা ঠুকঠুক শব্দ হয়। পর্দা সরাতেই দেখি—চাঁদের আলোয় দাঁড়িয়ে আছে এক আশ্চর্য ঘোড়া। শরীর কালচে রুপোলি, চোখ দু’টো জ্বলন্ত অঙ্গারের মতো, আর পিঠ থেকে বেরিয়ে আছে বিশাল, জমকালো পাখা। প্রতিটি পালকে যেন রাতের তারারা ঘুমিয়ে আছে।ওর নাম আমি দিয়েছি—নিশি।আমাদের সম্পর্ক আজ সাত বছরের।কেউ জানে না। জানলেও বিশ্বাস করত না।প্রথম দেখা হয়েছিল আমার জীবনের সবচেয়ে ভয়ংকর রাতে। তখন আমার বয়স পনেরো। গ্রামের বাঁধ ভেঙে নদীর পানি ঢুকছিল। চারদিকে অন্ধকার, বিদ্যুৎ নেই, মানুষের কান্না আর পানির গর্জন মিলেমিশে একাকার।
0 Comments