*পুরুষাতংক (অনুগল্প-১)*কফিলউদ্দিনকে দেখতে পেয়েই মহুয়া লীলাবতী আতংকে চুপসে গেল হঠাৎ। যেন সুনীল আকাশ আচমকা বিনা কারণে মেঘাচ্ছন্ন। কফিলউদ্দিন নিজেকে সামলে নিয়ে আদুরে কন্ঠে সকল বাচ্চাদের উদ্দেশ্যে বলল- তোমরা সবাই কেমন আছো?সব বাচ্চারা এক সঙ্গে চেঁচিয়ে ওঠল- ভালো আছি, ভালো আছি, ভালো আছি!শুধু মহূয়া লীলাবতী আতংকভরা দৃষ্টিতে এখনও তাকিয়ে আছে আংকেল কফিলউদ্দিনের দিকে। কফিলউদ্দিন দেখেও না-দেখার ভান করার চেষ্টা করেও নিজেকে সামলাতে পারছেন না। মনের ভেতরটা কেমন যেন খচখচ করছে। তিনি দৃষ্টি রাখতেও পারছেন না আবার সরাতেও পারছেন না। কেমন যেন যবুথবু হয়ে যাচ্ছেন ক্রমশঃ প্রৌঢ় কফিলউদ্দিন এই অষ্টমবর্ষী মেয়েটির সামনে।মহুয়া লীলাবতী এতক্ষণ বন্ধু-বান্ধবীদের সাথে খেলায় মেতেছিল। কংকনার বাবাকে দেখেই সে কিংকর্তব্যবিমূঢ় আর আতংকগ্রস্ত। কংকনার মা পাশেই সোফায় বসে ম্যাগাজিনটা বেশ মনোযোগ দিয়ে পড়ছিলেন। স্বামী কফিলউদ্দিন আসাতেও কোনরকম ব্যাঘাত ঘটেনি। কিন্তু মহুয়া লীলাবতীর প্রাণোজ্জ্বল কন্ঠস্বর শুনতে না পেয়ে এবং কেমন যেন একটা অচেনা, অজানা পরিবেশের আঁচ পেয়ে ম্যাগাজিন থেকে চোখ তুলে তাকালেন- মহুয়া লীলাবতীর দৃষ্টিজোড়া দেখেই তিনি আৎকে ওঠলেন। মহুয়া লীলাবতীর আতংকভরা চোখের সীমানায় হেঁটে হেঁটে পৌঁছে গেলেন স্বামীর দৃষ্টিতে।স্বামীর দৃষ্টিতে এসেই মনোয়ারা বেগম হতবাক। স্বামীকে এমন আতংকগ্রস্ত এর আগে কখনও দেখেননি। আর মহুয়া লীলাবতীতো আতংকে কাঁপতে কাঁপতে লাল হয়ে আছে। মনোয়ারা বেগম সবই নিমেষে বুঝে গেছেন। কিন্তু নিজেকে সামলে নিয়ে তিনি উঠে গিয়ে মহুয়া লীলাবতীকে জড়িয়ে ধরে আদর করতে করতে বললেন- মামণি, তোমার খারাপ লাগছে!- এই বলে আবার জড়িয়ে ধরে নিজের বুকের কাছে আগলে নিলেন। কিন্তু মহুয়া লীলাবতী বাচ্চা কবুতরের মতো থরথর করে কাঁপছে। স্বামী কফিলউদ্দিনের দিকে তাকাতেই তিনি মাথা নিচু করে কিছু না বলেই চলে গেলেন। স্বামীর দৃষ্টি পড়েই সবকিছু বুঝে গেছেন মনোয়ারা বেগম। আর মনে মনে আওড়ালেন- গতকাল বাসায় ছিলাম না। নিশ্চয়ই কিছু একটা করেছে! বজ্জাত পুরুষ! মেয়ের বয়সী শিশুটাকে বাদ রাখেনি! ****ভালোবাসার অনুভব (অনুগল্প-২)*আজ মনটা বেশ অশান্ত লাগছে ময়ূখের। কী যেন নেই, নেই লাগছে সর্বক্ষণ। এমনতো হবার কথা নয়। মধুছন্দার সাথে পরিচয় মাত্র সপ্তাহ খানেকের। পরিচয় হবার পর অনেক কথাও হয়েছে প্রতিদিন। যেমন কথা হয় অন্যান্য প্রতিবেশীদের সাথে। এর বেশি কিছু নয়। মধুছন্দা বেড়াতে এসেছিল পাশের বাড়িতে। প্রতিবেশীর দূর-সম্পর্কের আত্মীয়া। এই এখানে নদীর ধারেই পরিচয় হয়েছিল। পরিচয়, প্রতিদিন দেখা-সাক্ষাৎ যথানিয়মে তারপর টুকটাক কথাবার্তা; যেমন ভোর হয়, সূর্য ওঠে পূব আকাশে, পাখির কিচিরমিচির, দুপুর পেরিয়ে গোধূলী আর পাখিদের নীড়ে ফেরা ঠিক তেমনই। ওদের দু\'জনার কথাবার্তায় এর চেয়ে বেশি কিছুই ছিল না। অথচ আজ মধুছন্দা নেই; ময়ূখের মনে হচ্ছে কী যেন নেই। মনের ভেতর একটা অদৃশ্য টান কেমন যেন ছন্দহারা করে তুলছে প্রতিমুহূর্তে। প্রথম দেখাতেই মধুছন্দা মিষ্টি হেসে ময়ূখের সাথে প্রাণ খুলে কথা বলে। ময়ূখও তেমনি।দু\'জনার কথাবার্তায় অন্যরকম কোন টান বা মোহ ছিল না। তবে এটুকু ঠিক, ময়ূখ মনের ভেতর একটা হালকা পুলক অনুভব করতো। যখন মধুছন্দার সাথে কথা বলতো, মনে হতো পৃথিবীর সবকিছুই সুন্দর; নদীর বুকে বয়ে চলা স্রোত, ঝিরঝির বাতাস অথবা শান্ত দুপুরের ঘুঘু ডাকা সবই অপূর্ব সুন্দর লাগতো। এখন যেন সবকিছুই ছন্দহারা মনে হচ্ছে।গতকাল বিকেলেও ঠিক এইখানে, নদীর ধারে বসে ওরা দু\'জন কথা বলেছিল। কথায় কথায় বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা হয়েছিল। মধুছন্দা মিষ্টি হেসে বারবার তাকিয়েছিল। ময়ূখের হৃদয় ধুয়েছিল এক অজানা ভালোলাগায়। কথা হয়েছিল পূর্ণিমার চাঁদ নিয়ে, গোলাপের রঙ নিয়ে, রঙধনুর হাসি নিয়ে, মেঘলা আকাশের ছবি নিয়ে, পূর্ণিমার মমতা জড়ানো স্নিগ্ধতা নিয়ে আরও কত কী! মধুছন্দার কোন কথাই শ্রুতিকটু লাগেনি। কোন মুহূর্তই এলোমেলো মনে হয়নি। হাওয়ার তালে তালে নেচে-ওঠা মধুছন্দার চুলগুলো যেন ময়ূখের দৃষ্টি নিয়ে লুটোপুটি খেয়েছিল। এসব নিছক ভালোলাগার অনুরণন ছিল। কিন্তু না! এখন, ঠিক এই মুহূর্তে ময়ূখ যেন হঠাৎ বেসামাল হয়ে ওঠল।; যখন শুনতে পেল মধুছন্দা আজ সকালেই চলে গেছে। মনে মনে একবার উচ্চারণ করলো- মধুছন্দা, তুমি এভাবে চলে গেলে? আমাকে বলতে পারতে!আহত পাখির মতো ছটফট করছে ময়ূখ। মনটা এমন উচাটন কেন? নিজেই নিজেকে প্রশ্ন করে। এমনতো হবার কথা নয়- ভালোবাসার কোন স্পর্শতো ওদের মাঝে ছিল না। কখনও এমন কোন কথা হয়নি যে, একজন অন্যজনকে ভালোবাসে অথবা অনুভব করে। তাহলে? অস্থিরচিত্তে ময়ূখ জোছনা ছড়ানো চাঁদের দিকে তাকায়। বিকেল গড়িয়ে কখন সন্ধ্যা হয়ে গেছে সে একদমই টের পায়নি। চাঁদের প্রতিচ্ছবি নদীর ঢেউয়ের বুকে ঝলকে ঝলকে তাল মিলিয়ে রূপ বিলোচ্ছে। যেন ময়ূখের মনের প্রতিচ্ছবি। মুহূর্তেই মধুছন্দার হাসি যেন ওর মনের ভেতর-জগৎ ওলটপালট করে দিলো। চোখজোড়া বন্ধ করে ময়ূখ অনুভব করছে আর মনে মনে উচ্চারণ করে চলছে...তোমার বাড়িয়ে দেয়া হাতআমি স্পর্শ করিনিস্পর্শ করেছি তোমার হৃদয়,তোমার হাত ছুঁয়ে আমি আকাশ দেখিনিদেখেছি মহাকাল আর তোমার নয়ন যুগলখানিএভাবেই পেয়েছি ভালোবাসা আর তোমাকে বোধহয়!নয়ন সমুখে তুমি নেই জানিতুমি আছো আমার মনের আকাশেঅঝোর রাশি জোছনাখানি মাখামাখিএভাবেই থেকো প্রিয়তমা কাছে এবং সহাসে! ****মুক্তিযোদ্ধা (অনুগল্প-৩)*যুদ্ধ ফেরৎ হাবিব ও কিংশুক হাঁটছে বীরের বেশে। দূর থেকেই দেখতে পেল গ্রামের মুখেই বাঁশের খুঁটিতে নতুন দেশের স্বাধীন পতাকা ওড়ছে। বুকের ভেতর চেপে থাকা কষ্ট কিছুটা হলেও লাগব হয়ে আসে। কিন্তু গ্রামের বুকে পা রেখেই দু\'জন নিঃস্তব্ধ ও নির্বিকার।...কাবিল মিয়া, মেয়েটাকে সসম্মানে বাড়িতে ছেড়ে এসো। কাবিল মিয়া অবাক।জোরে ধমক দিয়ে পাকসেনা বলে- যা বলছি তাই কর। বীজ ঢুকিয়ে দিয়েছি। আমাদের বীজ এখানে ছড়িয়ে পড়ুক। ওরা আমাদের রক্তের টানই টানবে।কিন্তু হুজুর!কোন কিন্তু নয়। যাও ওকে ওর বাড়িতে রেখে এসো!নিরুপমা জানে না কেন তাকে ছেড়ে দেয়া হচ্ছে। সে-তো কিংশুকের কোন ইনফরমেশনই দেয়নি। পাকসেনার ধমকে কাবিল মিয়া নিরুপমাকে নিয়ে আসে। সারারাত নিজের কাছে রেখে ভোর বেলায় ওদের বাড়িতে ফেলে আসে।মা-বাবার অসহায় দৃষ্টির দিকে তাকিয়ে নিরুপমা সব ভুলতে চেষ্টা করে। কিংশুকের ভালোবাসার কথা ভেবে নিজেকে সামলে নেয়। কিন্তু যখনই নিজের ভেতর অন্য একটি প্রাণের টের পায় তখন নিরুপমা নিজেকে আর সামলাতে পারেনি।লাশটা এখনও গাছে ঝুলছে। হাবিব ও কিংশুক ভীতসন্ত্রস্ত পায়ে এগিয়ে আসে। কিংশুক কান্নায় ভেঙে পড়ে। হাবিব চিৎকার করে বলে- কোন্ শুয়োরের বাচ্চা এমন সর্বনাশ করল!কানাঘুষায় সব কারণই জানতে পারল। হাবিব কিংশুকের বন্দুকটা ওর হাতে তুলে দিয়ে বলে- চল, আমার সাথে চল! উঠানের সামনেই কাবিল মিয়ার মুখোমুখি হয় ওরা।কাবিল মিয়া বলে- আব্বাজান! ফিরে এসেছো!সাবধান! আমাকে ছোঁবে না তুমি। কেন আব্বাজান!জবাব না দিয়েই হাবিব কাবিল মিয়াকে টেনে-হেঁছড়ে নিয়ে চলে।আব্বাজান! তোমার কী হয়েছে?- কাবিল মিয়া অবাক। কিংশুকও ভাষাহীন।হাবিব ডাক দেয়- কিংশুক দাঁড়িয়ে আছিস কেন? উনি তোর বাবা হন!কাবিল মিয়ার কাতর কন্ঠ- হ্যাঁ আব্বাজান!কোন কথা না বলে হাবিব ওর আব্বাকে টেনে হেঁছড়ে নিয়ে চলে ঝুলন্ত নিরুপমার লাশের কাছে। লাশটা দেখিয়ে হাবিব বলে- ওকে চিনতে পারছো আব্বাজান!একবার তাকিয়েই কাবিল মিয়া দৃষ্টি সরিয়ে নিয়ে একদলা থুথু ফেলে বলে- ওটাতো নষ্টা মেয়েছেলে!হাবিব নিজেকে আর সামলাতে পারলো না- ওটা নষ্ট মেয়ে! কে নষ্ট করেছে?- বলেই এক ধাক্কায় কাবিল মিয়াকে মাটিতে ফেলে দিল। তারপর কিংশুককে বলল- নে... এবার গুলি চালা!কিংশুক অবাক হতেও অবাক হচ্ছে- তাই বলে নিজের বাবাকে মারবি!হাবিবের স্পষ্ট উচ্চারণ- শরীরের কোন অংশ পঁচে গেলে কেটে ফেলাই উচিত। নয়তো সারা শরীরে পচন ধরবে। আর সে আমার আব্বা হতেই পারে না। আমি স্বীকার করি না। গুলি চালা এবার!কিংশুকের দৃষ্টি অবনত হয়ে আসে। কিন্তু হাবিব নিঃস্তব্ধতা ভেঙে ট্রিগারে আঙুল চাপে... কাবিল মিয়া মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।তাই বলে তোর আব্বাকে মেরে ফেললি!সে আমার আব্বা হবার যোগ্য নয়। আর ওদের বাঁচিয়ে রাখলে দেশটা শেষ করে ফেলবে। আগাছা অংকুরেই বিনাশ করা ভালো।কিংশুক হাবিবকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়ে।****মিস্টার বাইক ১৩৩৯৭০ (অনুগল্প-৪)*শয়তানের বাচ্চা, ঐ শয়তানের বাচ্চা! টিপ পরছোস ক্যান?- মটর বাইক ১৩৩৯৭০-এর উপর বসে থাকা পুলিশের পোশাক পরিহিত পুলিশের কন্ঠস্বর সকালের শান্ত সকালকে খান খান করে দেয়।সুলতা শুনতে পেয়েও না-শোনার ভান করে পাশ কেটে চলে যায়। মন খারাপের তালে তালে কোনরকম এগিয়ে চলে।কন্ঠস্বরটা আবারও ভেসে আসে পেছন থেকে- ঐ শয়তানের বাচ্চা! টিপ পরছোস ক্যান?ভীষণ রাগ আর কষ্ট হচ্ছে সুলতার। ভাবতেও ভীষণ অবাক লাগছে- স্বাধীন, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের একজন সরকারি পুলিশসদস্য হয়ে প্রকাশ্য দিবালোকে এভাবে একজন মহিলাকে হেনস্তা করতে পারে! তাছাড়া আমিতো কোন অপরাধ করিনি- টিপ পরা কী অপরাধ? অশালীন? কুরুচিপূর্ণ? নানান প্রশ্ন মাথায় ঘুরপাক খেতে থাকে। সুলতার ইচ্ছে হচ্ছিল- কাছে গিয়ে দু\'গালে ঠাস ঠাস করে চড় বসিয়ে দিতে। কিন্তু পরক্ষণই ভাবে- সরকারি কর্মচারির গায়ে হাত-তোলা অনুচিত। ভাবতে ভাবতে মনের ভেতরটা কষ্টের কালো মেঘে আচ্ছন্ন হয়ে আসে- মনের ভেতর যেন কষ্টের পাহাড় ধীরে ধীরে বড় হচ্ছে। কিন্তু সুলতা নিরুপায় হরিণীর মতো ছটফট করতে থাকে। কারণ সে জানে প্রতিবাদ করতে গেলেই হেনস্থা হতে হবে। অভিজ্ঞতা তাই বলে- তার ওপর সে সরকারি কর্মচারি।আর এদিকে মিস্টার বাইক ১৩৩৯৭০ ( হতবিহ্বল সুলতা পুলিশের নেম-প্লেটে তাকাতে ভুলে গেছে তাই পুলিশসদস্যকে মিস্টার বাইক ১৩৩৯৭০ নামেই বললাম কারণ বাইকের নম্বরে সুলতার চোখ পৌঁছেছে।) পায়ের উপর পা তুলে দোলাতে দোলাতে সময়কে যেন নাচাচ্ছে- মনের ভেতর রাগের মাত্রা তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। সত্যি বলতে কী বিধর্মীদের দেখলেই মিস্টার বাইক ১৩৩৯৭০ –এর মাথার রক্ত গরম হয়ে ওঠে- এই যে চোখের সামনে দিয়ে সিঁদুর পরে, হাতে শাঁখা পরে, কপালে টিপ লাগিয়ে যাচ্ছে তা\' কোনমতেই সে মেনে নিতে পারছে না। কেন যেন মনে হচ্ছে ওটাকে মাটির সাথে পিষে মিশিয়ে দিতে। রাগে সারাশরীর থরথর করে কাঁপছে! মনের ঝাল মেটাতে আবারও উচ্চারণ করে- ঐ শয়তানের বাচ্চা! টিপ পরছোস ক্যান?সুলতা এবার নিজেকে আর সামলাতে পারেনি। পেছন ফিরে মিস্টার বাইক ১৩৩৯৭০-এর মুখোমুখি হয়ে দাঁড়ায় এবং বলে- হ্যালো মিস্টার, আপনি এমন করছেন কেন?ঐ মালাউনের বাচ্চ।, তোর সাহস কম নয়! আমার মুখের ওপর কথা বলছিস!- মিস্টার বাইক ১৩৩৯৭০ চোখ রাঙিয়ে বলে।আমি টিপ পরেছি, আপনার কোন সমস্যা?- বেশ দৃঢ়চিত্তে সুলতা বলে।মিস্টার বাইক ১৩৩৯৭০ একবার কপালের টিপে তাকাচ্ছে আবার সিঁদুরে তাকাচ্ছে আবার একপলক তাকাচ্ছে হাতের শাঁখাতে। তারপর দাঁত কটমট করে বলে- যেদিকে যাচ্ছিলি সেদিকে যা, নইলে গাড়ির তলে পিষে মারবোসুলতা চোখজোড়া বড়বড় করে তাকিয়ে প্রতিবাদ জানায়।মিস্টার বাইক ১৩৩৯৭০ গাড়িতে বসেই গালি দিয়ে বলে- ঐ মাগী, যেদিকে যাচ্ছিলি সেদিকে যা, নইলে গাড়ির তলে পিষে মারবোসুলতার ইচ্ছে হচ্ছিল জুতাপেটা করার। নিজেকে সামলে নিয়ে বলে- বেয়াদব কোথাকার এই দাঁড়ালাম, সাহস থাকে তো পিষে দে!- বলেই সুলতা বুক টানটান করে দাঁড়ায়।কথা নেই বার্তা নেই মিস্টার বাইক ১৩৩৯৭০ মটরবাইক স্টার্ট করেই সুলতার গায়ের উপর চালিয়ে দিলো। সুলতা নিজেকে সামলে নিয়ে একটু সরে দাঁড়ালো- সরে না দাঁড়ালে সত্যি সত্যি এতক্ষণে মটর সাইকেলের তলায় পিষে যেত। মটর সাইকেলের ধাক্কায় সুলতা মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। হাতের শাঁখা ভেঙে গিয়ে মাটিতে লুটাচ্ছে। পা ছঁড়ে গেছে। সুলতার আহত দেহ মাটিতে গড়ানো, হতবিহ্বল চোখজোড়া ক্রমশঃ মৃয়মান মটরবাইকে- কিংকর্তব্যবিমূঢ় মুহূর্তে সে লুটোপুটি খাচ্ছে। যেন একটুকরো বাংলাদেশ আহত হয়ে কাঁতরাচ্ছে!শেষ
স্বামীর দৃষ্টিতে এসেই মনোয়ারা বেগম হতবাক। স্বামীকে এমন আতংকগ্রস্ত এর আগে কখনও দেখেননি। আর মহুয়া লীলাবতীতো আতংকে কাঁপতে কাঁপতে লাল হয়ে আছে। মনোয়ারা বেগম সবই নিমেষে বুঝে গেছেন। কিন্তু নিজেকে সামলে নিয়ে তিনি উঠে গিয়ে মহুয়া লীলাবতীকে জড়িয়ে ধরে আদর করতে করতে বললেন- মামণি, তোমার খারাপ লাগছে!- এই বলে আবার জড়িয়ে ধরে নিজের বুকের কাছে আগলে নিলেন। কিন্তু মহুয়া লীলাবতী বাচ্চা কবুতরের মতো থরথর করে কাঁপছে। স্বামী কফিলউদ্দিনের দিকে তাকাতেই তিনি মাথা নিচু করে কিছু না বলেই চলে গেলেন। স্বামীর দৃষ্টি পড়েই সবকিছু বুঝে গেছেন মনোয়ারা বেগম। আর মনে মনে আওড়ালেন- গতকাল বাসায় ছিলাম না। নিশ্চয়ই কিছু একটা করেছে! বজ্জাত পুরুষ! মেয়ের বয়সী শিশুটাকে বাদ রাখেনি! ...
0 Comments