জীবনের বত্রিশটি বসন্ত পার করে জিনিয়ার কাছে জীবনটা এখন পুরোই বোঝার মত মনে হয়।এইত কিছুক্ষণ নিজের আধাখেঁচড়া জীবন নিয়ে ভাবছে আর কান্না করতে করতে সংসারের কাজে হাত চালাচ্ছে। ওর এখন আর বসে কান্না করার সময় আছে?? ছেলে স্কুল থেকে ফিরবে,বরকে ভাত দিবে।কি প্রচন্ড মায়া,ওর এই সংসারে। কত সুন্দর সাজানো সংসার, তাও জিনিয়া কাঁদে।কেন কাঁদে? খুলেই বলি।জিনিয়ারা তিন ভাইবোন।বিশে ঘর পেরোনোর আগেই মা দুবোনকে সুপাত্র দেখে বিয়ে দিলেন।আর ভাইটা এবছর পড়া শেষ করল।জিনিয়া নিজেও পড়া শেষ করেছে বেশ কৃতিত্বের সাথেই,বিয়ের পরে।মোটামুটি আর্থিক অবস্থা ভালো। তাহলে জিনিয়ার এত দুঃখ কিসের? দুঃখটা জিনিয়া বিয়ের প্রায় ১২ বছর পরও সংসারটা নিজের হয়নি,এমনকি যে বরকে ও এত ভালবাসে তাও তার হয়নি।জিনিয়াকে সামান্য একটু তেল দিতেও অনুমতি নিতে হয়,ঘুমাতে যেতেও অনুমতি নিতে হয় নয়ত চলে চরম শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। এমনকি ওর বাচ্চাকেও নিজের কাছে রাখতে পারে না।মায়ের কাছে বলেও কুল হয় না,কারণ উনি চান না সমাজে মান সম্মান নষ্ট হোক।তাই এভাবেই জোড়াতালিতে চলছে ওর জীবন।আজকে ঘটনাটা একটু অন্যরকম, বাড়ির ছাদে জিনিয়া অনেকগুলো ফুলের গাছ আর ফলের গাছ লাগিয়েছে,শ্বাশুড়ি সব উপড়ে ফেলেছেন।ওর দুটো মুরগী ছিল,চেপে মেরে ফেলেছেন। কারন , এগুলো জিনিয়ার বর ওকে এনে দিয়েছিলেন, যা উনি সহ্য করতে পারেন নি।কাজ করতে করতে জিনিয়া ভাবছে, জীবন কি এভাবেই চলবে?উত্তরটা অজানা।চলুক জীবন জীবনের পথে,জিনিয়ার ভয়ে।
0 Comments