বৃষ্টি এলো দুঃখ নিয়েনিজামুল হাসান সুমন পাইকপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ে। নিয়মিতই সে বিদ্যালয়ে যায়। বিস্তীর্ণ সবুজ ক্ষেতের মাঝে সারি সারি ধান গাছ পাশে রেখে আইল দিয়ে হেঁটে যায়। সাথে থাকে গ্রামের অন্যান্য ছেলেমেয়েরা। টিফিনের জন্য সে সময় দেওয়া হত তিন বা চার টাকা। এ টাকায় তখন শন পাপড়ি, গুলগুলি পাওয়া যেত। যাতায়াত ছিল নেহায়েত কষ্টের রোদ-বৃষ্টি, ঝড়তুফান, কাঁদা-পানি মাড়িয়ে বিদ্যালয়ে যেতে হত বগলে বই রেখে। সুমন একদিন বিদ্যালয় ছুটি শেষে বের হয়ে দেখল প্রচুর বৃষ্টি আসছে। নিরুপায় হয়ে বই পলিথিনে ঢুকালো তারপর বগলে বই ধরে দিল ভোঁ দৌড়। যবুথবু হয়ে ভিজে বাড়িতে পৌছালো সে। কিন্তু এরপরই ঘটলো এমন দুর্ঘটনা যা সুমনের জীবনকে উলটপালট করে দিয়েছিল। তীব্র বৃষ্টিতে ভেজার দরুন শরীর কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসল যা স্হায়ী হল দুই মাস। জ্বরের আধিক্যের কারণে তার শরীর শুকিয়ে গিয়েছিল। পরিবার, বন্ধুবান্ধব, আত্নীয়-স্বজন সবাই চিন্তিত ছিল তাকে নিয়ে। পুরো গ্রামে তার অসুস্থতার খবর ছড়িয়ে পড়েছিল। চারিদিকে ডাক্তার, কবিরাজ কোনো কিছুতেই কিছু হচ্ছিল না। অনেক খোজাখুজির পর একজন ভালো ডাক্তারের খোঁজ পায়। সুমনের বাবা ডাক্তারের কাছে সবকিছু খুলে বলেন। ডাক্তার সব শুনে সুমনের বাবাকে আশ্বস্ত করেন এবং তাকে বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে কিছু ঔষধ লিখে দিল। বিদায়ের সময় বলে দিল ঔষধ খাওয়াতে যেন কোন গাফিলতি না করে। দীর্ঘদিন ঘরে বন্দী থেকে সব নিয়মকানুন মেনেছে সুমন। সুস্থ হয়ে উঠেছিল সে কিন্তু আগের মত আর স্বাভাবিক হতে পারেনি। সেইদিনের বৃষ্টি তার চলার গতিকে স্লথ করে দিয়েছিল। এখনো বৃষ্টি হয়, মেঘের গর্জন শুনে সুমন কিন্তু পাখির মতো ডানা মেলে উড়তে পারে না। পারেনা বন্ধুদের সাথে দাপিয়ে বেড়াতে ডাকাতিয়া নদীটায়।
0 Comments