ভোর ৫টা—তিন বন্ধু, এক ঝকঝকে ভ্রমণ আর ড্রিম হলিডে পার্কের অপ্রত্যাশিত মুহূর্ত। ঠান্ডা হাওয়া, হাসি-মজা, ঝগড়া, বৃষ্টি আর রাইডের উত্তেজনা—সব মিলিয়ে এমন এক অভিজ্ঞতা যা চোখে দেখা এবং মনে লেগে থাকবে। কিন্তু কি হয়েছিল কটেজে? কে শেষ পর্যন্ত বাঁচল ভিজে থাকা আবতাহিকে জাগিয়ে তুলতে গিয়ে?
ভোরের ধোঁয়াশায়: ড্রিম হলিডে পার্কের অপ্রত্যাশিত মুহূর্ত!!
ভ্রমন কাহিনী ভোর ৫টা বাজে। এলার্মের শব্দে ঘুম ভাঙে। দেখি রূপালি সূর্যের কিরণ যেন এলার্ম ক্লকটিকে চকচকিয়ে দিচ্ছে। আমি চঙ্কি থেকে নামতে গিয়ে পিচলে যাই। মনে হচ্ছিল হাটুর হাড়টা ভেঙেছে। খোঁড়াতে খোঁড়াতে বাইরে বেরিয়ে আসি। ৩বন্ধুর ১বন্ধু ছিল একটু বোকা, নাম তার আবতাহি। তখন হাড়কাঁপানো ঠান্ডা, আমি গেলাম বাসস্ট্যান্ডে। ৬টার দিকে বাস। এরই মধ্যে আমার দুই বন্ধু এসে হাজির, তানভির ও অলিউল্লাহ। আকাশ নীল হচ্ছে, ভোর হতে যাচ্ছে, এরই মাঝে অলিউল্লাহ বলে উঠলো, \"আবতাহি কোই?।\" উত্তরে তানভির, বাস ছাড়তে দেরি নেই।\" আমি সঙ্গে সঙ্গে তাকে ফোন দিলাম, শুনলাম সে ঘুম দিচ্ছে কম্বলের মধ্যে শুয়ে শুয়ে নাক ডেকে ডেকে। আবতাহি বললো \"আরেক টু পরে উঠি, বাইরে অনেক ঠান্ডা।\" আমি ভেবে দেখলাম হাড়কাঁপানো শীতে বাইরে বের হওয়া সোজা বেপার নয়। যাইহোক ৬টা বাজার ঠিক ৫মিনিট আগেই বড় একটি ঝাকুনি দিয়ে বাসটি আমাদের নিয়ে রওনা হলো \'ড্রিম হলিডে পার্কের উদ্দেশ্যে\' (Dream Holiday Park) যা নরসিংদী জেলার পাঁচদোনার চৈতানাত ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে অবস্থিত। কমলাপুরের একটু সামনে মেইন রোডে যানজটে পরে যাই। জানালা দিয়ে দেখি একটি মোটা ছেলে দৌড়িয়ে আমাদের কাছেই আসছে, বড্ড চেনা চেনা লাগে। সে খুব হাঁপিয়ে গিয়েছে। সে আর কেউ নয়। আবতাহি বাসে উঠে বসে, উপস্থিত জনগণে হাসে, হেলপার যাচাই করে তাকে বলে উঠে, কাঙ্খিত স্থানটি কত বড়? উত্তরে আবতাহি, \"অনেক বড়?\" বাস চালক: কত বড়? আবতাহি: জানি না! মুচকি হাসি হেসে আমি বলি প্রায় ৬০ একর। সাথে সাথে কী ভেবে যেন সকলে আবতাহির দিকে তাকালো। পথে পথে টোল দিতে গিয়ে দেখলাম রাস্তার দু\'ধারে সুন্দর ফুলের গাছ; যা থেকে অনবরত এক ভিন্ন অন্তরশীতল গন্ধ ভেসে ভেসে নাকে এসে আসে। আমরা গন্তব্যে আনুমানিক দেড় ঘন্টার আগেই পৌঁছালাম। ঢুকেই দেখি এখানে রয়েছে বিভিন্ন ধরণের ওয়াটার বাম্পার কার, রাইডার ট্রেন, বাইসাইকেল, রকিং বর্ম, স্পিডবোট, সোয়ানবোট, জেড ফাইটার, নাগেট ক্যাসেল, এয়ার বাইসাইকেল ইত্যাদি বলে শেষ করার মত নয় এমন অনেক জিনিস। অস্ট্রেলিয়ার বিখ্যাত ইমু পাখি ছিল আশ্চর্যজনক দৃষ্টি আকর্ষণ। হঠাৎ ওপাস থেকে চিৎকার তানভির বলে উঠলো ওটার পার্ক। বলা মাত্রই সে ঝাপ দিল! অন্যদিকে আবতাহি পিছলিয়ে পানিতে পড়ে গেলো। পাশে তাকিয়ে দেখি এখানে চাইনিজ বাংলা খাবার সহ চটপটি, ফুচকা ও আইসক্রিম পাওয়া যায়। দর্শনার্থীদের জন্য সেখানে খুপড়ি ঘর ছিল। আমরা সেখানে বসে চিকেন লেগ, ফ্রাইড-রাইস খেলাম, আবতাহি বলে উঠলো, \"এই বাটির মধ্যে কতগুলো রাইস আছে, তা বলতে পারলে আমি তাকে ২লাখ টাকা দিব।\" আমি শিখিয়ে দেওয়ায় অলিউল্লাহ বলে উঠলো, \"৯কোটি ৩০ লক্ষ ৭শত ১৯৮টি ভাত রয়েছে।\" আবতাহি: হয় নাই। তানভির: তুই গুনে দেখ, হইছে। তাদের মাঝে তুমুল ঝগড়া। অবশেষে আমি ঝগড়া থামাতে সফল হলাম। আমরা স্পিডবোর্ড সহ বিভিন্ন রাইডগুলো উপভোগ করি, কাল ৮টা বাজে ট্রেন, সকাল সকাল উঠতে হবে। ১০টার আগেই বাড়ি ফিরতে হবে। শুনেছি এখানে ৪টি বিলাসবহুল কটেজ রয়েছে। দেখি প্রতি ইউনিট ভাড়া ৫০০০ আর পুরো কটেজে ১০,০০০ টাকা। রাত ঠিক ঘড়ির কাঁটায় ২টা। চারিপাশে নির্জন, জনমানবহীন, হঠাৎ দরজার ওপাশ থেকে ঠক-ঠক শব্দ। আবতাহি দেখে আমরা ঘুমিয়ে। আসতে আসতে দরজায় উঁকি মারে, কিন্তু খুলেনা। \'দিবা রাত্রি\' নামের কটেজে রাত্রি পার করে ভোরের আলো জাগ্রত করলাম। নিস্তব্ধ ভোরে কিবিং বিরিং শব্দে ঘুম হতে উঠি। পাশে থাকা টেবিলের এলার্ম ক্লকটি বন্ধ করি, সকলে দেখি আবতাহি ভিজা বেডে ঘুম দিচ্ছে। তাকে জোর পূর্বক জাগ্রত করি। আমি কিছু বলতেই সে বলে উঠে; আবতাহি: আমি বিছানায় মুতেছি, সারারাত ভূতের ভয়ে ঘুমাতে পারিনি। অলিউল্লাহ: দরজা বা ফটক হলো অভ্যন্তরীন পরিসর ও বহিঃপরিসর, এই দুয়ের ভেতর গমনাগমনের জন্য দেয়ালে অবস্থিত ছিদ্র, যা সাধারণত ৭ফুট উঁচু এবং প্রয়োজন ভেদে চওড়া হয়ে থাকে। তানভির: তো!? অলিউল্লাহ: আমিই কাল রাতে ফটকে ঠক ঠক করেছিলাম। তানভির: ভালো করছোস। আমার ৩বন্ধুর মাঝে ঝগড়া লেগে গেলে আমি ঝগড়ার অবসান ঘটাতে সফল হই। ৭টায় বের হলাম, ট্রেনস্টেশনে গেলাম। ৮টা বাজতে ২৫ মিনিট, আমরা স্টেশনে হাজির। আমরা এই ২৫ মিনিট নষ্ট হতে দেইনি। গল্প করেছি, ভ্রমণ অভিজ্ঞতা একে অন্যকে শেয়ার করেছি, একে অন্যের থেকে নতুন জিনিস শিখেছি। পাশাপাশি চিপস, ঝালমুরি, চটপটি তো রয়েছেই, সকলে গপাগপ খেয়েছি। ঠিক ৮টায় ট্রেন এসে হাজির। জাপানের মত আমরা একে একে ট্রেনে উঠে বসি। জারানার পাশে প্রকৃতির এই অপূর্ব রূপ দেখতে থাকি। হঠাৎ দমকা হাওয়া সহ বৃষ্টি নামতে লাগলো। সকলে মিলে আবার এক মজায় মেতে উঠলাম, এটি একটি খুবই মজার অভিজ্ঞতা ছিল যা মনে রাখার মতো, বিশেষ করে এই মনোরম পরিবেশে। সত্যিই, এই অভিজ্ঞতা সারাজীবন আমার মনের খাতায় লেখা থাকবে.., কিন্তু পরের ভ্রমণে আমরা কী দেখব, তা এখনও অজানা.... --হাসিন রায়হান অর্ণব!!.
Related Story
Tags
- ভ্রমণ,
- রহস্য,
- পার্ক
- অভিজ্ঞতা,
- ড্রিম
- হলিডে
- পার্ক,
- বন্ধুত্ব,
- অ্যাডভেঞ্চার,
- হাসি-মজা,
- গল্প,
- মজার
- অভিজ্ঞতা
- মানুষ
- মানুষের
- মন
- #অন্যায়
- #প্রতিবাদ
- #সংগ্রাম
- #মুক্তি
- #ন্যায়
- #অধিকার
- #বিদ্রোহ
- #জনরোষ
- #স্বাধীনতা
- #সংগ্রামীসঙ্গীত
- #ইতিহাস
- #বিপ্লব
- #বীরত্ব
- #সাহস
- #ন্যায়েরজ্বলন
- কারাগার,
- জেলের
- জীবন,
- অন্যায়,
- প্রতিবাদ,
- মুক্তি,
- আশা,
- সংগ্রাম,
- সাহস,
- মানবিকতা
- জলরাশি,বাংলা_উপন্যাস,জেলের_জীবন,নদী_এবং_প্রকৃতি,ধৈর্য_এবং_সাহস,বন্ধুত্ব_এবং_ভালোবাসা,স্বপ্ন_এবং_পরিশ্রম,সাহসিক_গল্প,জীবনের_শিক্ষা,
- ডিজিটাল_স্বপ্ন,
- কবিতা,
- বাংলা_কবিতা,
- প্রযুক্তি,
- ডিজিটাল_যোগাযোগ,
- ভালোবাসা,
- গ্রাম_শহর,
- হৃদয়স্পর্শী,
- মানবিক_অনুভূতি,
- স্ক্রিন_লাইফ,
- নতুন_ভোর,সংবেদনশীল_লেখা,
- মমতা,স্মৃতি
0 Comments