#গল্পভালোবাসার প্রতিদান আফছানা খানম অথৈ জেবা সবেমাত্র অনার্স শেষ করেছে।বড় ভাই বাদল কোনোমতে টেনেটুনে এইচ এস সি পাশ করেছে।বাবার স্বপ্ন ছেলেকে বিদেশ পাঠাবে।কিন্তু ছেলে যাবে না।এবার বাবা সিদ্ধান্ত নিলো জেবাকে বিদেশ পাঠাবে। জেবা আর অমত করল না।বাবার স্বপ্ন পূরণ করতে বিদেশ যেতে রাজী হয়ে গেল।সময়ের গন্ডি পেরিয়ে সে বিদেশ চলে গেল।এদিকে পরিবারের সবাই তার বিদেশ যাওয়ার খবর এলাকায় ছড়িয়ে বেড়াচ্ছে।আর গর্বে বুক ফুলিয়ে হাটছে।জেবা মাস শেষ হলে বেতন পাঠিয়ে দেয় বাবার একাউন্টে।আর বাড়ির সবাই এই টাকা দিয়ে আমোদ ফুর্তি করে।প্রায় দু\'বছর পার হয়ে গেল।জেবার কোম্পানির অনেক লোকসান হলো।কোম্পানি চালানোর মতো অবস্থান তাদের আর নেই।তাই কোম্পানি বন্ধ করে দিলো মালীক।তবে কর্মচারীদের পাঠানোর ব্যবস্থা করে দিলো।জেবা কাউকে না জানিয়ে হঠাৎ দেশে চলে আসল।মা বাবার আনন্দ আর ধরে না।মেয়ে বিদেশ থেকে ফিরেছে।সবাই তার কাছে টাকা চাইছে।জেবা খালী হাতে ফিরেছে,একথা শুনলে সবাই মনে কষ্ট পাবে।তাই সে কাউকে কিচ্ছু বলছে না।এদিকে জেবাকে বিয়ে করার জন্য ছেলেরা লাইন ধরেছে।একটার পর একটা প্রস্তাব আসতে শুরু করেছে।কারণ সে বিদেশ থাকে অনেক টাকা মাইনে পায়।জেবা এসবের কিছুই জানে না।আজ তাকে দেখতে এসেছে এক পাত্রপক্ষ। তাদের মেয়ে পছন্দ হয়ে গেছে।তারা বিয়ে করতে প্রস্তুত।কিন্তু জেবা বিয়েতে রাজী হচ্ছে না।কিন্তু পাত্র তাড়াহুড়া করছে।তাড়া করার কারণ জানতে চাইলে,সুমন বলে,জেবা তুমি কদিন পর বিদেশ চলে যাবা।তাই আমি চাই বিয়ের কাজটা তাড়াতাড়ি সেরে ফেলতে।মাত্র কটা দিন আমরা দুজন একসঙ্গে থাকব।সুমন সাহেব আমি আর বিদেশ যাব না।কেন যাবে না?আমি যে কোম্পানিতে চাকরী করতাম ওই কোম্পানি বন্ধ হয়ে গেছে।বলো কী! যা সত্যি তাই বলেছি।বিদেশ যাওয়ার লোভে সুমন তাকে বিয়ে করতে চাইছে।এখন যখন সে যাবে না বলছে।তখন তারা বিয়ে ভেঙ্গে দিয়ে চলে গেছে।পরিবারের লোকজন এই প্রথম শুনল সে আর বিদেশ যাবে না।সবাই তার উপর খুব রেগে গেল।কেউ তার সাথে আর আগের মতো কথাবার্তা বলে না।আগের মতো আদর যত্ন করে না।অনাদর অবহেলায় জর্জরতি জেবা।তার উপর সবাইর মানসিক নির্যাতন এতটাই বেড়ে গেছে।এই বাড়িতে থাকা আর সম্ভব হচ্ছে না।তাই কাউকে কিছু না বলে সে বাড়ি থেকে উধাও হয়ে যায়।টেবিলের উপর একটা চিরকুট লিখে রেখে যায়।শ্রদ্ধেয়বাবা মা আমার সালাম নিবেন।সবাই ভালো থাকবেন এই কামনা করি।বাবা মা, তোমরা সবাই আমার উপর এমন অবিচার করবে ভাবতে পারিনি।তোমাদের স্বপ্নপূরণ করতে আমি বিদেশ গেলাম।প্রতি মাসের মাইনের টাকা তোমাদের জন্য পাঠিয়েদিলাম।নিজের জন্য কিছুই রাখলাম না।অথচ তোমরা সবাই আমার ভালোবাসার প্রতিদান এভাবে দিলে?আমাকে দূর দূর...।আমার কি অপরাধ ছিল?আমি তোমাদের সবাইকে মন প্রাণ দিয়ে ভালোবেসেছিলাম।মেয়ে হয়ে ছেলের দায়িত্ব পালন করেছিলাম।আর সেই তোমরা আমাকে এমন অবহহেলা করলে?আমি ভেবে দেখেছি এ বাড়িতে থাকা আর সম্ভব নয়।তাই তোমাদের না জানিয়ে চলে এলাম অনেক অনেক দূর...।আর কখনো জীবিত থাকা অব্দি তোমাদের সাথে দেখা করব না।যোগাযোগ করব না।ভালো থেকো সুখে থেকো।খোদাপাকের কাছে এই দোয়া করি।ইতিতোমাদের অবহেলিত মেয়েজেবা।চিরকুট পড়ার পর সবাই তাদের ভুল বুঝতে পারে।কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে বাবা মা ভাই বোন সবাই
0 Comments