#গল্পদেবর ভাবীআফছানা খানম অথৈবর্তমানে সমাজ ব্যবস্থায় পত্রিকার পাতায়, ফেসবুকে, অনলাইন নিউজে, দেবর ভাবীর প্রেমের দু\'একটা কাহিনী প্রায় সময় প্রকাশ হয়।আজ একটা ব্যতিক্রম প্রেমের সত্য কাহিনী তুলে ধরছি...।সুচনা পরিবারের বড় বউ হয়ে এসেছেন সবেমাত্র।একমাত্র দেবর বয়স আট নয় বছর হবে।শ্বাশুড়ি মারা গেছেন।শ্বশুর আর বিয়ে করেননি।চার জনের ছোট্ট সংসার।ভাবী দেবর রিফাতকে খুব যত্ন করছেন।বড় ভাই তা দেখে খুব খুশি হলেন।তাকে সতর্ক সংকেত দিলেন তার ভাইয়ের যেন কোনো অযত্ন না হয়।ভাবী তা মেনে নিলেন।কয়েক বছর পর শ্বশুর ও মারা গেলেন।ভাবী দেবরকে এতটাই কেয়ার করছেন,যা নিজের স্বামীর চেয়েও বেশী। এক সময় ভাবী সিদ্ধান্ত নিলো রিফাতকে সন্তানের মতো মানুষ করবে।তারা আর কোনো সন্তান নিবে না।স্বামীকে তার মতামত জানালে সে ও তাতে সাপোর্ট করলো।আমরা নাটক মুভিতে দেখি ভাবী দেবরকে সন্তানের মতো ভালোবাসে।অভাব অনটনের সংসারে সন্তান নিলে দেবরকে মানুষ করতে পারবে না।তাই সন্তান নেয় না।অনেক কষ্টে দেবরকে মানুষ করে।অবশেষে দেখা যায় দেবর মানুষ হওয়ার পর ভাই ভাবীকে ভুলে যায়।ভাই ভাবী অনেক দু:খ কষ্ট করে।কিন্তু এবার আমরা তা বাস্তবে দেখতে পেলাম,দেবরকে মানুষ করার জন্য সন্তান নেইনি এক ভাবী।আর স্বামী বেচারাও তা মেনে নিলো।অথচ তাদের টাকা পয়সার কোনো অভাব নেই।দু\'চারটা সন্তান মানুষ করার সামর্থ্য আছে।কিন্তু তবুও সন্তান না নেয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন এই দম্পত্তি।আসলে রহস্যটা কী? সত্যি কী দেবরকে মানুষ করার জন্য,না অন্যকিছু?তা গল্পের শেষ মূহুর্তে জানতে পারবেন। আমরা প্রায়ই দেখি মেয়েদের যখন বিয়ে হয় দু\'এক বছর তারা রোমাঞ্চ করতে পছন্দ করে।এরপর মা ডাক শুনার জন্য, বাচ্চার নেয়ার জন্য উতলা হয়ে উঠে।কারণ মাতৃত্বের স্বাদ গ্রহণ করতে প্রতিটি নারী পছন্দ করে।কোনো কারণে কোনো নারী যদি সন্তান দানে অক্ষম হয়, স্বামী তাকে ছুঁড়ে ফেলে দেয়,পরিবারের লোকজন কটু কথা শোনায়।বাঞ্জা বাঞ্জা,বলে খোটা দেয়।আর ও কত কী, ইত্যাদি ইত্যাদি?অথচ এই নারী দেবরকে মানুষ করার জন্য সন্তান নিচ্ছে না।তাকে সন্তানের চোখে দেখছে।কারণ কী?তার কী মা ডাক শোনার ইচ্ছা নেই?না কী অন্যকিছু?যাক সময়ের গন্ডি পেরিয়ে দেবর অনার্স মাস্টার্স কমপ্লিট করলো।ভাবী কিন্তু এখনো তার পিছু ছাড়ছে না।তার খুব টেক কেয়ার করছে,নিজের হাতে খাইয়ে দিচ্ছে,জামা কাপড় পরিয়ে দিচ্ছে।জামা কাপড় চয়েজ করে দিচ্ছে।অসুস্থ হলে সেবা করছে।তার সাথে রাত কাটাচ্ছে।আর ও কত কী...।এত বড় একটা দেবর তাকে নিজের হাতে খাওয়াতে হবে কেন?তার কী হাত নেই?স্বামী এতদিন কিছু না বললে ও এখন প্রতিবাদ করছে।স্ত্রীকে সতর্ক করছে,রিফাত আগে ছোট ছিল,খাইয়েছ,পরিয়েছ, কিচ্ছু বলিনি।এখন সে বড় হয়েছে, তার কাজ সে নিজে করতে পারবে।তুমি ওসব আর করতে যেওনা।কী বললে ওহ্ আমার ছেলের মতো।আমি ওর কাজ করব নাতো কার কাজ করব?দেবর কখনো ছেলে হয় না।এটা কথার কথা মানুষ বলে।তুমি ওর কাছ থেকে দূরে থাক। আমি ওর বিয়ের ব্যবস্থা করছি।না রিফাত এখন বিয়ে করবে না?কেন করবে না?ওর তো বিয়ের বয়স হয়েছে।ওর বিয়েতে তোমার আপত্তি কিসের?ওহ্ আমার ছেলে,আমি যেদিন বলবে সেদিন সে বিয়ে করবে।এর ব্যতিরেকে নয়।তার মানে তুমি ওর সাথে নষ্টামি করবে এই তো?মুখ সামলিয়ে কথা বলো?এই নিয়ে স্বামী স্ত্রীর মাঝে খুব ঝগড়া হয়।ঝগড়া চরম লেভেলে চলে যায়।স্বামীর সন্দেহ তার স্ত্রীর সাথে ভাইয়ের সম্পর্ক আছে।তাই তার বিয়েতে বাঁধা দিচ্ছে।কিন্তু স্ত্রী সম্পূর্ণ অস্বীকার করছে।আর তা সাপোর্ট করছে রিফাত।রিফাত তার ভাইকে বলছে,ভাইয়া তুমি ভুল বুঝছ,আমি ভাবীকে মায়ের চোখে দেখি,শ্রদ্ধা করি।ভাবীর সাথে আমার কোনো খারাপ সম্পর্ক নেই।তুই মিথ্যে বলছিস।ওর সাথে তোর কোনো সম্পর্ক না থাকলে,এত ঢলাঢলি মাখামাখি করছিস কেন?আমি স্বামী আমাকে ভাত খাইয়ে দেয়না।তোকে খাইয়ে দেয়।আমি স্বামী আমার সাথে রাত কাটাই না।তোর সাথে রাত কাটাই।এরপর ও বলছিস,কোনো সম্পর্ক নেই?মিথ্যাবাদী, লুচ্চা,এইজন্য কী তোকে কোলেপিঠে করে মানুষ করেছিলাম।তুই বের হয়ে যা আমার বাড়ি থেকে।তোর মুখ আর আমি দেখতে চায় না।ভাইয়া ভুলে যেও না।এ বাড়ি তোমার একার না।এতে আমার ও ভাগ আছে।যতদিন ভাবী আছে,ততদিন আমি থাকব।প্রয়োজন হলে তুমি চলে যাও।কী আমি চলে যাব?হ্যাঁ তুমি চলে যাবে।এইনিয়ে দু\'ভাইয়ের মাঝে খুব কথাকাটাকাটি হয়।কেউ কাউকে ছাড় দিয়ে কথা বলে না।এক পর্যায়ে ছোট ভাই বড় ভাইকে পাগল বলে সম্বোধন করেন।সঙ্গে যোগ দেন স্ত্রীও। বড় ভাই খুব ক্ষেপে যান।কিন্তু কোনো সমাধান করতে পারেন না।দেবর ভাবী একসঙ্গে রটনা রটায় সিফাত আহমেদের নামে।তার মাথায় গন্ডোগোল দেখা দিয়েছে।তাই আজে বাজে কথা বলছে।তাকে পাগলের ডাক্তার দেখানো উচিৎ।কিন্তু সিফাত সাহেব সম্পূর্ণ সুস্থ একজন মানুষ।দেবর ভাবী তার পাপ ঢাকার জন্য এসব গুজব ছড়াচ্ছে।সিফাত সাহেব খুব টেনশনে আছেন তাকে পাগল সম্বোধন করাতে। তিনি অনেকের ধারস্থ হোন এই সমস্যার সমাধানের জন্য। কিন্তু ওরা দুজন এক হওয়াতে কিছুই করতে পারছেন না।অবশেষে অপ্রিয় সত্য অনুষ্ঠানে এসে তিনি চুমকি আপাকে সবকথা বলেন।চুমকি আপা তিন জনকে ডাকেন।তিন জনের মুখের কথা শুনেন।স্ত্রী সুচনা সরাসরি বলেন,তার স্বামী বুড়া হয়ে গেছে,মেন্টাল সমস্যা।তাই আজে বাজে কথা বলছে।দেবরকে আমি সন্তানের চোখে দেখি।ওহ্ আমার ছেলের মতো।ওর সাথে আমার কোনো খারাপ সম্পর্ক নেই।আর তা সাপোর্ট করে রিফাত বলেন,ভাবী ঠিক বলেছে,ভাইয়া বুড়া হয়ে গেছে,মাথায় সমস্যা। তাই এসব আজে বাজে কথা বলছে।আসলে আমি ভাবীকে খুব শ্রদ্ধা করি,মায়ের চোখে দেখি।আর এই দেখাকে ভাইয়া খারাপ দৃষ্টিতে দেখছে।আপা ওহ্ সব মিথ্যে বলছে,আমার মাথায় কোনো সমস্যা নেই।ওকে বিয়ে করতে বলেন।সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।না আমি বিয়ে করব না।কেন করবি না?আমি ভাবীকে ছাড়া অন্য কোনো নারীকে সহ্য করতে পারি না।অন্যকোনো নারী এসে মাতব্বরি করুক আমি তা চাই না।আপা বুঝলেন তো ওহ্ কী বলতে চাচ্ছে?আমি দুধকলা দিয়ে এতদিন কাল সাপ পুষেছিলাম।আপা ওরা সব ঠিক করে রেখেছে।তাই ওহ্ আমার সাথে রাত কাটায় না।আমার ভাইয়ের সাথে রাত কাটাই।অনুষ্ঠানে এক অপরকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য ভাষা ব্যবহার করে।এক পর্যায়ে রিফাত বলে,ভাইয়া তুমি বুড়া হয়ে গেছ।কদিন পর মরে যাবা।ভাবীর সাথে তোমার বয়সের ব্যবধান অনেক বেশি।আমি ভাবীর পাশে সারাজীবন থাকতে চাই,বিয়ে করতে চাই।তুমি যেদিকে ইচ্ছা চলে যেতে পার।আপন ভাইয়ের মুখে এমন কথা শোনে সিফাত সাহেব কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।শোকে ক্ষোভে বাকরুদ্ধ...।কথা বলার ভাষা হারিয়ে ফেলেছেন।এতদিন যা সন্দেহ করেছেন আজ তা সত্যে পরিণত হয়েছে।আসলে সত্য কথা হলো দেবর কখনো ছেলে হতে পারে না।দেবর হচ্ছে নন মাহারাম। তাকে দেখা দেয়া জায়েজ নেই।কারণ দেবর ভাবীকে বিয়ে করতে পারে।যাকে বিয়ে করা যায় তাকে দেখা দেয়া জায়েজ নেই।ইসলাম ধর্মে এটা নিষিদ্ধ।পুরো গল্পে আপনারা দেখেছেন,দেবর ভাবীর সুসম্পর্কে কথা। কিন্তু লাস্ট পর্যায়ে এসে দেবর ভাবীর বিয়ের কথা প্রকাশ হলো।ভাবী কখনো মা হতে পারে না।এগুলো মানুষ কথার কথা বলে।যাকে এতদিন মায়ের চোখে দেখেছে আজ তাকে বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।তার মানে আগে থেকে তারা এই প্ল্যান করে রেখেছে।মাঝে ভাইকে বোকা বানিয়ে তারা মিশন সাকসেজ করছে।প্রিয় ভাইয়েরা আর কেউ এমন ভুল করবেন না।সন্তান না নিয়ে ভাইকে সন্তানের মতো দেখবেন না।যদি করেন শেষে সেই ভাই নিজের বউকে ভাগিয়ে নিয়ে বিয়ে করবে।কারণ ভাই কখনো সন্তান হতে পারে না।সাবধান মুসলিম ভাই বোনেরা সিফাত সাহেবের মতো কেউ এমন ভুল করবেন না।ইসলামের নিয়মনীতি মেনে চলতে চেষ্টা করবেন।তবে ইহকাল পরকাল সুখের হবে।এর ব্যতিরেকে নয়।
0 Comments