ভোরের কুয়াশায় নবান্ন\" ভোরের কুয়াশায় ঢেকে গেছে সুনামগঞ্জের মাঠপথ। দূরে কোথাও মেঠো রাস্তায় দু-একটা গরুর গাড়ি চলছে ধীরে ধীরে। বাতাসে ধানের গন্ধ, ঘরের উঠোনে পিঠা বানানোর ধোঁয়া। হেমন্তের এই ভোরে গ্রামের মানুষ যেন অন্যরকম ব্যস্ততায় আছে— কেউ ধান মাড়াই করছে, কেউ পিঠার জন্য চালের গুঁড়া ছাঁকছে। রহিম চাষা আজ ভোরে উঠেই হাল ধরেছে। সারারাত শিশিরে ভিজে থাকা জমিটা যেন সোনার মতো ঝলমল করছে। তার ছেলে রাব্বি পাশের খেতে ধান কেটে বাঁধছে। দূর থেকে হালকা কুয়াশার ফাঁক দিয়ে দেখা যায়, সূর্যের প্রথম আলো ধানের শীষে লেগে উঠছে ঝিলিক দিয়ে। “এই রাব্বি, একটু সাবধানে বাঁধ, না হলে ধান নষ্ট হইবো,—চিৎকার করে বলে রহিম।রাব্বি হাসে, “বাবা, এই ধান দিয়েই তো এবারে মায়ের জন্য নতুন চাদর কিনুম।”রহিম থমকে যায়। মুখে হাসি আসে, চোখে জল টলে ওঠে। অনেক কষ্টে এই বছর ফলন ভালো হয়েছে। মনে মনে ভাবে, “আল্লাহ যদি চায়, এবারে নবান্নে ঘরে হাসি ফিরবো।” বিকেলে গ্রামের মাঠে জমে ওঠে নবান্নের উৎসব। মেয়েরা পিঠা ভাজে, ছেলেরা খেলে লাঠিখেলা। ছোট ছোট বাচ্চারা গলা উঁচিয়ে গান ধরে। ধান কাটি ধান, নবান্নের গান,সোনালি শস্যে ভরে উঠুক প্রাণ।” রহিমের ঘরে সেদিন প্রথমবার ধোঁয়া ওঠে নতুন চালের ভাতে। মাটি, ঘাম আর ফসলের ঘ্রাণে ভরে যায় আকাশ।আলেয়া, রহিমের স্ত্রী, হাঁড়ি থেকে ভাত তুলতে তুলতে বলে,এই ভাতের গন্ধটাই জীবনের গন্ধ, রহিম আমরা গরিব, কিন্তু সুখী। রহিম চুপচাপ আকাশের দিকে তাকায়। কুয়াশা আস্তে আস্তে মিলিয়ে যাচ্ছে,সূর্য উঠছে সোনালি হাসি নিয়ে।মাটির মানুষদের মুখে ফুটে উঠছে শান্তির দীপ্তিযেন হেমন্তের ভোরে পৃথিবীটা একটু বেশি সুন্দর হয়ে উঠেছে আজ।
0 Comments