পশুর মধ্যে যেটুকু একতা বা মিল রয়েছে, তা বর্তমানের কিছু মানুষের মধ্যেও নেই।
পশুর একতা
পশুর একতা মোঃ মাহবুবুর রহমান ফেব্রুয়ারি মাসের বিকেল বেলা। হানিফের ছোট ছেলে মোখলেছ আপন মনে তাদের নিজ জমিতে ধান গাড়ছে। সবাই নিজ নিজ কাজে ব্যস্ত।এমন সময় গম ক্ষেত থেকে উঠে আসে একটা শিয়াল। শিয়ালকে দেখে কিশোর বয়সী সব লোক ছুটে আসে এবং পারার সব কুকুর গুলোও ছুটে আসে শিয়ালকে মারার জন্য । সবাই শিয়ালকে মারার জন্য শিয়ালের পেছন পেছন দৌড়ায়, কুকুরগুলোও দৌড়ায়। শিয়ালটা মোখলেছের সামনে দিয়ে যায়।মোখলেছ শিয়াল টাকে মারার জন্য ছুটে যায় খালি হাতেই,সে সবার আগে। শিয়ালটা যেতে যেতে আরেকটা শিয়াল দেখতে পায় এবং দুইটা শিয়াল এক জায়গায় একত্রিত হয়ে দৌড়ায় । এদিকে মোখলেছ জমির আইল এর সাথে হোঁচট খেয়ে পড়ে যায়, ঠিক তখনই,শিয়াল দুইটা পাল্টা আক্রমণ করে মোখলেছের উপর। শিয়াল দুইটা মোখলেছের হাতে-পায়ে,ঘারে, এমনকি মাথায়ও কামড়ায়। চারপাশে থাকা মানুষগুলো ভয়ে দাঁড়িয়ে থাকে এবং মোখলেছের উপর ঘটা দৃশ্য দেখতে থাকে, কেউই তাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসে না। বাঁচানোর সাহস কেউ পায় না। তখনি কুকুরগুলো ছুটে এসে শিয়াল গুলোকে তাড়িয়ে দেয়,তখন মানুষগুলো তাকে তুলে নিয়ে তাদের বাড়িতে যায়। বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার পর হালকা ঘরোয়া চিকিৎসা দেওয়া হয়,মাথায় পানি ঢালা হয়। ক্ষতস্থানে মলম লাগিয়ে দেওয়া হয়।গ্রামের অনেকেই দেখতে যায়, আর আপসোস করতে থাকে। কিছুক্ষণ পর তাকে নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালে। তার পরিবারের কারও চোখে ঘুম নাই। গ্রামে শিয়ালের এই ঘটনা নিয়ে নানা গুঞ্জন শুরু হয়। কেউ বলে, এ গ্রামে যত শিয়াল আছে, সব মেরে ফেলতে হবে, নইলে আমাদের অবস্থা আরও খারাপ হবে। শিয়ালদের কিছু না করাতে দিন দিন তাদের সাহস বাড়েই চলছে। কেউ কেউ তো তাদের সন্তানদের সাবধান করে বলে, শিয়াল দেখলে তাড়া দিতে যাবে না, বিপদ হতে পারে।আর কখনো শিয়াল মারতে যাবে না, শিয়াল দেখলে ভয়ে পালিয়ে আসবে। কেউ কেউ বলছে,মোখলেছকে আর বাঁচানো যাবে না বোধহয়। কুকুর কামড়ালে তাও বাঁচতো। শিয়াল কামড়ালে কি মানুষ বাঁচে। শিয়াল কামড়ানোর যে বিষ।শিয়াল দুইটা মোখলেছকে খুব কামড়াইছে। অল্প কামরালে হয়তো বেঁচে থাকতো।আরও মাথায় কামড়াইছে,সাথে সাথে হাসপাতালে নিয়ে গেলে হয়তো বাঁচানো যেত,তা না হাসপাতালে নিয়ে গেল ঘন্টা খানেক পরে, হাসপাতাল কাছে হলে তাও হতো ,বোধহয় একে বাঁচানো সম্ভব হবে না। কিছু মানুষ আশার কথা বলে, বর্তমানের চিকিৎসা অনেক উন্নত, সব রোগের ঔষধ আছে।কত জটিল জটিল রোগ এখন ভালো হচ্ছে।শিয়াল কামড়াইছে তো কি হয়েছে, কয়েকটা ভেকসিন দিলেই ভালো হয়ে যাবে, ইনশা আল্লাহ। তাছাড়া তোমরা যে কইলা বোধহয় মোখলেছকে বাঁচাতে পারবে না। জীবন -মৃত্যু তো সব আল্লাহ তায়ালার হাতে। তিনি কাকে বাঁচাবেন সেটা একমাত্র তিনিই (মহান আল্লাহ তায়ালাই) ভালো জানেন। কেউ আবার কুসংস্কারের কথা বলে,যদি সুস্থ হয়ে বাড়িতে আসে তাইলে গরুর গোশত খাওয়া যাবে না এমনকি গরুর গোশত ধরাও যাবে না। অনেক আগে একজনকে শিয়াল কামড় দিছিল,সে গরুর গোশত ধরেছিল বলে সেদিনই সে মারা যায়।তাই মোখলেছের গরুর গোশত না ধরাই ভালো। কেউ বলছে, আমি তো অবাক হয়ে যায় পশুর একতা দেখে, পশুদের একে অপরের প্রতি ভালোবাসা দেখে,একে অপরের বিপদ দেখে তারা ঝাঁপিয়ে পরে ,অন্যের বিপদে পাশে থাকে। পরে কি হবে তা না ভেবে,তারা একজোট হয়ে যার বিপদ তার পাশে দাঁড়ায়। মোখলেছ পরে গেছে তাতে কি হয়েছে,শিয়ালটা একলা থাকলে হয়তো পালিয়ে যেত। কিন্তু যখনই দুইটা শিয়াল এক হয়েছে, তাদের শক্তি বেড়ে যাওয়াতে কামড়াইয়া গেছে। কুকুরগুলো না থাকলে হয়তো মোখলেছ ওখানেই মারা যেত। মানুষকে ভরসা করা বাদ দিয়ে পশুকে ভরসা করতে হবে এখন।পশু কখনো কাউকে ফাঁকি দেয় না, নিজের স্বার্থ বোঝেনা তারা। পশুর মধ্যে যে একতাটা আছে, আমাদের মধ্যে তাও নেই। আমরা পশুর চেয়েও নিচে নেমে গেছি। মানুষগুলো যদি ওখানে না দাঁড়িয়ে,মোখলেছকে বাঁচানোর জন্য যেত সবাই একসাথে,তাইলেই শিয়াল দুইটা ওখান থেকে পালিয়ে যেত। হয়তো তখন মোখলেছের এত করুন অবস্থা হতো না। আমাদের মনে রাখতে হবে, একতাই বল। মানুষেরা এক হয়ে এগিয়ে গেলে কখনো এমন কিছু হতো না। পশুর একতা থেকে আমাদের কিছু শেখা উচিত।
0 Comments