৯
এ কেমন স্বাস্থ্য নীতি ?
সাপে কাটে গ্রামে, এন্টিভেনম থাকে শহরে, এ কেমন স্বাস্থ্যনীতি? বাংলাদেশে প্রতিবছর বহু মানুষ সাপের কামড়ে মারা যায়, আর এদের বড় অংশই গ্রামের কৃষক, জেলে, শ্রমজীবী ও পাহাড়-দুর্গম অঞ্চলের মানুষ। বর্ষা এলেই ঝুঁকি আরও বাড়ে। প্রশ্ন হলো, যেখানে ঝুঁকি বেশি, সেখানে চিকিৎসা কম কেন? যে মানুষটি মাঠে কাজ করতে গিয়ে বা ঘরের উঠোনে সাপের কামড়ে আক্রান্ত হন, তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জীবনরক্ষাকারী এন্টিভেনম পাওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবতা উল্টো। অনেক ক্ষেত্রে এন্টিভেনম মজুত থাকে জেলা বা বিভাগীয় শহরের হাসপাতালে। রোগীকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দূরে পাঠানো হয়। কেউ পথেই মারা যায়, কেউ হাসপাতালে গিয়ে শোনে এন্টিভেনম নেই। এটা শুধু অব্যবস্থা নয়, এটা গ্রামীণ জীবনের প্রতি অবহেলা। যেখানে সাপের উপদ্রব সবচেয়ে বেশি, সেখানে উপজেলা ও প্রত্যন্ত সরকারি হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত এন্টিভেনম, প্রশিক্ষিত জনবল এবং জরুরি ব্যবস্থাপনা বাধ্যতামূলক করতে হবে। সাপে কাটার চিকিৎসা শহরকেন্দ্রিক রাখা মানে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া। আমাদের দাবি স্পষ্ট: ১. প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়মিত এন্টিভেনম সরবরাহ নিশ্চিত হোক। ২. দুর্গম ও সাপপ্রবণ এলাকায় বিশেষ প্রস্তুতি নেওয়া হোক। ৩. চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সাপের কামড় ব্যবস্থাপনায় প্রশিক্ষণ বাড়ানো হোক। ৪. গ্রামীণ জনগণের জন্য সচেতনতামূলক কর্মসূচি চালু হোক। ৫. “শহরে ওষুধ, গ্রামে মৃত্যু” এই বৈষম্যমূলক প্রচলনের অবসান হোক। সাপ গ্রামে কামড়াবে, আর প্রতিষেধক থাকবে শহরে, এই নীতি চলতে পারে না। রাষ্ট্রের কাছে প্রশ্ন, একজন কৃষকের জীবন কি শহরের মানুষের চেয়ে কম মূল্যবান? এই নীরব সংকট নিয়ে এখনই কথা বলা দরকার। কারণ সময়মতো এন্টিভেনম মানে একটি জীবন বাঁচানো।
আমি রিয়াজ খান হৃদয়। গ্রাম বাংলার প্রকৃতি মেহনতি মানুষ , মানুষের না বলা অনুভূতি, দেশপ্রেম নিয়ে লেখা আমার উদ্দেশ্য।
0 Comments