🌸জেসমিন ফুলের ঘ্রাণ🌸আমি ফার্মগেট থেকে বাসে উঠেছিলাম। বিকেলের রোদ তখন ফিকে হয়ে আসছে, আকাশে ধুলোর হালকা পরত। অফিস থেকে ফিরছি ক্লান্ত চোখে, নিস্তেজ মুখে। সৌভাগ্যক্রমে একটা সিট পেলাম। বসতেই মনে হলো, আজকের ক্লান্তি একটু কম।বাস ছেড়ে দিয়েছিল। কিছুদূর যেতেই পাশের সারির সিটের এক মেয়েকে দেখলাম,আমার দিকে অপলক তাকিয়ে আছে। বাস কাওরানবাজার আসতেই,আমার পাশের সিটের ভদ্রলোক নেমে গেলেন। মেয়েটি ওঠে এসে বলল,\"আমি কি জানালার পাশের সিটটায় বসতে পারি?\" আমি সরে বসার জায়গা দিলাম। মেয়েটি নিঃশব্দে বসে থাকল অদ্ভুতভাবে। নড়ল না, একটুও। শুধু একটানা জানালার বাইরে তাকিয়ে রইল।শাহবাগ পার হতেই বাস থেমে গেল জ্যামে। চারপাশে হর্নের শব্দ, বিরক্ত যাত্রীদের দীর্ঘশ্বাস। আমি ভেতরে-ভেতরে বিরক্ত হয়ে বলে ফেললাম, “এই শহর কি কোনোদিন জ্যামমুক্ত হবে না?”হঠাৎ মেয়েটি আমার দিকে সামান্য ঝুঁকে এসে নিঃস্বরে জিজ্ঞেস করল,“এই জানালাটা দিয়ে বাইরে আপনি কী দেখতে পাচ্ছেন?”আমি চমকে গেলাম। “মানে?” — প্রশ্ন করতেই মেয়েটি ফিসফিস করে বলল,“ভালো করে তাকিয়ে দেখুন... একটা ছেলে দাঁড়িয়ে আছে না? আপনাকে দেখছে।”আমি জানালার দিকে তাকালাম। দেখলাম, জ্যামে বিরক্ত পাশের রিকশাওয়ালা মামাকে। হঠাৎ মেয়েটি বলল,“ভাঙাচোরা গলির পাশে পুরোনো এক দেয়াল… দেখুন না, ওই ছেলেটা ঠোঁট নাড়ছে… কিছু বলছে আপনাকে।”আমি বললাম,\"এখানে কোনো গলিই নেই।\"সে বলল,\"আপনি শুনতে পাচ্ছেন না? ও যে আপনাকে ডাকছে।\"আমি আবারও তাকালাম। এবার যেন চোখ ধীরে ধীরে সয়ে গেল অন্ধকারে। দেখতে পেলাম এক ছায়ামূর্তি। আমার চোখে চোখ রেখে কি যেন বলছে। আমার শরীর ভয়ে ঠান্ডা হয়ে গেল।আমি তড়িঘড়ি করে মেয়েটার দিকে তাকালাম ।সিট ফাঁকা।সেখানে কারো কোনো অস্তিত্বই নেই। কেবল পড়ে আছে একটা টাটকা জেসমিন ফুল।আমি চারপাশে তাকালাম। কন্ডাক্টরের দিকে জিজ্ঞাসু চোখে চাইলাম।সে অবাক হয়ে বলল, “আপনি তো একাই উঠছিলেন। কাওরানবাজার থেকে পাশের সিট তো খালিই ছিল।”কিন্তু আমি জানি, ও ছিল।আমি ওর কণ্ঠ শুনেছি। আমি সেই ছায়ামূর্তির শূন্য চোখে চোখ রেখেছি।গুলিস্তানে বাস থামতেই আমি নেমে গেলাম।কিন্তু হাঁটতে হাঁটতে বুঝলাম আমি একা নই।আমার চারপাশে ছড়িয়ে আছে জেসমিন ফুলের ঘ্রাণ।বি:দ্র: ভুলত্রুটি থাকতেই পারে।আমি এখনও শেখার পথে আছি।ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
0 Comments