সব ই-বুক দেখুন
অনাদি কন্যার গল্প
Romantic

অনাদি কন্যার গল্প

পার্থসারথি
89 পৃষ্ঠা 15 বার পড়া হয়েছে
৳ 35.00 ৳ 50.00 30% OFF

সকল ট্যাক্স অন্তর্ভুক্ত

কেনার পরে তাৎক্ষণিক ডাউনলোড লাইব্রেরিতে আজীবন অ্যাক্সেস
শত জনম পেরিয়েও যে কন্যাদের দুঃখের অন্ত হবে না কখনো! সংসার ও সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে মেয়েরা, নারীরা লাঞ্ছিত, বঞ্চিত অথবা ধর্ষিত; অথচ এই নারীরাই আবার অবহেলিত! খসড়া জীবন গল্পে একটি মেয়ের জীবন হয়ে যায় খসড়া খাতার মতো; ভদ্র সমাজে ভদ্রবেশী লোকেদের কাছে মেয়েরা যেন পণ্য; ভালোবাসার ছলে প্রতিনিয়ত ধর্ষিতা হচ্ছে! তুমুল যৌবনের কাণ্ডারি যুবতী-বিধবার দুঃখগাঁথা যৌন জীবন যেন নদীর ভেতরে বয়ে চলা অন্তঃস্রোত! নিশিরাতে দেহ বেঁচে দুমুঠো অন্ন জোগাড়েও দালালের খপ্পরে নাজেহাল রাত্রি নামক মেয়েরা। ভালোবাসা, বিরহ, বেদনা, সমাজের বেড়াজালে নাজেহাল জীবনের গাঁথুনি আছে এই গল্পগুলোতে! এমন অসম্ভব রকমের মনছোঁয়া মোট এগারোটা গল্প নিয়ে এই 'অনাদি কন্যার গল্প' গল্পগ্রন্থটি! ধন্যবাদসহ- লেখক

বিস্তারিত বিবরণ

শত জনম পেরিয়েও যে কন্যাদের দুঃখের অন্ত হবে না কখনো! সংসার ও সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে মেয়েরা, নারীরা লাঞ্ছিত, বঞ্চিত অথবা ধর্ষিত; অথচ এই নারীরাই আবার অবহেলিত!

খসড়া জীবন গল্পে একটি মেয়ের জীবন হয়ে যায় খসড়া খাতার মতো; ভদ্র সমাজে ভদ্রবেশী লোকেদের কাছে মেয়েরা যেন পণ্য; ভালোবাসার ছলে প্রতিনিয়ত ধর্ষিতা হচ্ছে!

তুমুল যৌবনের কাণ্ডারি যুবতী-বিধবার দুঃখগাঁথা যৌন জীবন যেন নদীর ভেতরে বয়ে চলা অন্তঃস্রোত!

নিশিরাতে দেহ বেঁচে দুমুঠো অন্ন জোগাড়েও দালালের খপ্পরে নাজেহাল রাত্রি নামক মেয়েরা।

ভালোবাসা, বিরহ, বেদনা, সমাজের বেড়াজালে নাজেহাল জীবনের গাঁথুনি আছে এই গল্পগুলোতে! এমন অসম্ভব রকমের মনছোঁয়া মোট এগারোটা গল্প নিয়ে এই ` গল্পগ্রন্থটি! ধন্যবাদ  সহ- লেখক

.............

সন্ধ্যায় সন্ধ্যায় এসে ময়মনসিংহ শহরে পা রাখলেন আতর আলী। তার কয়েকটা শখের একটা হলো মুক্তাগাছার মণ্ডা। সেই দোকান থেকে ঘুরে এসেছেন। হোটেল বুকিং দিয়েই ঢুকলেন সিনেমা হলে। ফিরলেন রাত দশটা নাগাদ। এবার নিশি পালা। বেশ্যাপাড়ায় ঢুকলেন খুব খোশ মজাজে। আঁখির ঘরের দরজায় চোখ পড়তেই মনটা আনন্দে লাফিয়ে ওঠলো যেন। আঁখির পুরো যৌবনের উঠানে আতর আলীর বিচরণ প্রায় চার বৎসর যাবৎ। মনের এক কোণে তিনি আঁখিকে স্থান দিয়েছেন। প্রতিবারই আঁখির জন্য একটা বিশেষ কিছু নিয়ে আসেন আতর আলী। দরজার বাইরে এসে চুপচাপ দাঁড়ালেন। দরজা ভেতর থেকে লাগানো। খদ্দের আছে বোধ হয়। আতর আলীর মনটা খারাপ হয়। সবসময় খুব ইচ্ছে হয় আঁখিকে সঙ্গে করে নিয়ে যেতে। তখন অন্য কেউ ওর উপর হাত বাড়াবে না। পুরো আঙিনায় থাকবে একান্ত অবাধ বিচরণ। কেউ কখনও বাঁধা দিবে না। দরজা খোলার শব্দ হতেই পেছন ফিরে তাকান আতর আলী। খদ্দেরটা বুকের উপর হাত বুলাতে বুলাতে তৃপ্তির ঢেকুর তুলে পাশ কেটে চলে গেল। মনে হলো একবার জিহ্বায় ঠোঁট চাটলেন। লোকটা চলে যেতেই আতর আলী ঘরে ঢুকলেন। ঘরে ঢুকেই দরজার খিল আঁটলেন। পকেট থেকে সযতনে রাখা স্বর্ণের গলার চেইনটা বের করলেন। আঁখিকে কাছে ডাকতেই কোমড় দুলিয়ে হাসতে হাসতে এগিয়ে এল। নিজ হাতে আঁখির গলায় চেইনটা পরিয়ে দিলেন। তারপর জড়িয়ে ধরে চুমু দিয়ে আদর করলেন। আতর আলীর তাড়াহুড়া দেখে আঁখি বলল- মাত্র এসেছেন। একটু বিশ্রাম করুন। এই শরীরটা তো আপনারই। একটু আগে একজনকে নিলাম। বিশ্রাম করি একটু? এখন আরাম পাবেন না। 

আতর আলী বিছানায় পা তুলে আরাম করে বসে। শরীরে শরীর লাগিয়ে আঁখি আতর আলীর পাশে বসল। আঁখির উন্নত বুকে হাত ঢুকিয়ে সোহাগ ঢেলে জিজ্ঞাসা করলেন- তুমি আমাকে কতটুকু ভালোবাসো?- এই বলে চোখে চোখ রেখে তাকিয়ে রইলেন। 

নিত্য চেনা হাসি বিলিয়ে আঁখি উত্তরে বলে- সত্যি কথা বলবো?

ঘাড় কা'ত করে আতর আলী বলেন- নিশ্চিন্তে বলতে পারো।

আপনাকে আমি মন থেকে ভালোবাসি। আপনাকে দেখলে, কাছে এলে মনটা যেন কেমন হয়ে যায়। কেমন যেন একটা উতলা ভাব হয়। কিন্তু ঠিকভাবে প্রকাশ করতে পারি না।– কথা বলতে বলতে আঁখি সত্যি কেমন যেন আনমনা হয়ে ওঠে।

তোমাকে নিয়ে আমি স্বপ্ন দেখি। ঘর বাঁধার স্বপ্ন।

আঁখির বুকের গভীর থেকে একটা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে আসে। তারপর কষ্টের ভেতর হেঁটে দুঃখী কন্ঠে বলে- আমি কি ঘর বাঁধবার মানুষ! বারো মানুষে লুটেপুটে খাওয়া এঁটো মানুষ আমি। তাছাড়া এখানে আসা যায় কিন্তু বের হবার সব পথ বন্ধ।

তুমি রাজী থাকলে, বের করে নেওয়ার দায়িত্ব আমার। 

আঁখি কোন কথা বলে না, চুপচাপ এবং নির্লিপ্ত। অসহায় দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে আতর আলীর দিকে।

তুমি না করো না। তোমাকে ছাড়া আমি বাঁচবো না । আমি তোমাকে রাজরাণী বানিয়ে রাখবো। 

আপনাকে আমি কী করে বিশ্বাস করবো?

কসম কেটে বলছি, তোমাকে আমি বিয়ে করে বাড়িতে নিয়ে তুলব। 

বিশ্বাস হয় না। আপনাদের পুরুষ জাতটাকে আমি ভালো করে চিনি। যৌবন ফুরিয়ে গেলেই এক লাথিতেই বের করে দিবেন। তখন আমার কোন কূলই থাকবে না। 

আতর আলী উতলা হয়ে ওঠে। এবং আবেগে আপ্লুত হয়ে বলে- তোমাকে বিয়ে করেই আমার সম্পত্তির অংশ লিখে দেবো। 

প্রশ্নবোধক দৃষ্টি নিয়ে আঁখি আতর আলীর চোখে চোখ রাখে। 

আতর আলী বুঝতে পেরে বলেন- তোমাকে আমি সত্যি সত্যি ভালোবাসি । একটা লম্বা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে আতর আলী আবার বলেন- জানি না, কীসের জন্যে, তোমার কাছে আসলেই আমার মন-প্রাণ একবারে শান্ত হয়ে আসে।

আঁখি আর কথা বাড়াতে সাহস পায় না। দরজার আড়াল থেকে কেউ শুনে ফেললে আর রক্ষা নেই। মন ভোলানোর ছলে আতর আলীকে আদর আর সোহাগ মেখে জড়িয়ে ধরে আঁখি।...

ট্যাগ