সাত সমুদ্র আর তেরো নদীর ওপারে ছিল এক অদ্ভুত রাজ্য—নাম তার উল্টোরাজ্য। সেই রাজ্যে নদী বইত পাহাড়ের চূড়া বেয়ে আকাশের দিকে, মাছ উড়ত পাখির মতো, আর পাখিরা সাঁতার কাটত পুকুরে।
কিন্তু রাজ্যের সবচেয়ে আশ্চর্য জায়গা ছিল একটি বন। সেই বনের নাম উল্টো বন।
বনের গাছগুলোর শিকড় মাটিতে ছিল না। শিকড়গুলো ছড়িয়ে থাকত আকাশের দিকে, আর ডালপালা নেমে আসত মাটির দিকে। গাছগুলো যেন মাথার ওপর ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে!
দিনের বেলায় গাছগুলো চুপচাপ থাকত। কিন্তু মধ্যরাতে চাঁদ যখন ঠিক মাথার ওপর আসত, তখন গাছগুলো শিকড়ের ওপর ভর করে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় হাঁটতে শুরু করত।
কোনো গাছ চলে যেত নদীর ধারে, কোনো গাছ ঘুমিয়ে থাকা পাহাড়ের পাশে। আবার কোনো গাছ চলে যেত রাজপ্রাসাদের ছাদে।
সেই বনের মাঝখানে ছিল একটি কালো গাছ। অন্য গাছগুলোর মতো তারও শিকড় ছিল আকাশের দিকে। কিন্তু তার ডালপালায় কোনো পাতা ছিল না, কোনো পাখি বাসা বাঁধত না, এমনকি তার ছায়াও পড়ত না।
লোকমুখে শোনা যেত, সেই গাছের নাম ইচ্ছাবৃক্ষ।
আর তার ডালে বছরে মাত্র একবার ফুটত একটি আজব ফুল।
সেই ফুলের নাম—উল্টো ফুল।
ফুলটি ফুটলে পৃথিবীর কোনো একটি অসম্ভব ঘটনা সত্যি হয়ে যেত। তবে ফুলটি কীভাবে ফুটত, কোথায় ফুটত কিংবা কী করলে তার জাদু জাগ্রত হতো, তা কেউ জানত না।
রাজ্যের বৃদ্ধ জাদুকর একবার বলেছিলেন,
“যে এই ফুলের আসল রহস্য বুঝতে পারবে, সে নিজের ভাগ্য নয়, বদলে দিতে পারবে গোটা পৃথিবীর ভাগ্য!”
তারপর থেকে বহু রাজা, জাদুকর ও অভিযাত্রী সেই ফুলের খোঁজে গিয়েছিল। কিন্তু কেউ আর ফিরে আসেনি।
উল্টোরাজ্যের শেষ প্রান্তে ছিল একটি ছোট্ট গ্রাম—নাম তার কুয়াশাডাঙা। সেই গ্রামে বাস করত নীলু নামে এক কিশোর। তার বাবা ছিলেন বাঁশের ঝুড়ি তৈরির কারিগর। নীলুর মা অনেক আগেই মারা গিয়েছিলেন।
নীলুর কোনো রাজকীয় পরিচয় ছিল না, ছিল না জাদুর ক্ষমতা। তবে তার একটি অদ্ভুত গুণ ছিল।
সে গাছের সঙ্গে কথা বলতে পারত।
অবশ্য গাছেরা সব সময় তার কথার উত্তর দিত না। কখনো পাতার মর্মর শব্দে, কখনো ডাল নেড়ে, আবার কখনো শুকনো পাতা ঝরিয়ে তারা নিজেদের মনের কথা জানাত।
একদিন নীলু কাঠ কুড়াতে উল্টো বনে গেল। সেখানে গিয়ে সে দেখল, একটি ছোট্ট গাছ মাটির ওপর উল্টো হয়ে পড়ে আছে। গাছটির শিকড় শুকিয়ে কালো হয়ে গেছে।
নীলু গাছটিকে তুলে দাঁড় করাতে গেল।
ঠিক তখনই গাছটি কেঁদে উঠল।
“আহা! সাবধানে! আমার মাথা ভেঙে যাবে!”
নীলু অবাক হয়ে চারদিকে তাকাল।
“কে কথা বলল?”
“আমি! এই যে তোমার সামনে পড়ে আছি!”
নীলু দেখল, গাছটিই কথা বলছে।
“তুমি তো উল্টো হয়ে আছ!”
গাছটি দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল, “আমি উল্টো নই। পৃথিবীটাই আমাকে ভুলভাবে বুঝেছে।”
নীলু হেসে ফেলল।
“তা হলে তোমাকে কীভাবে দাঁড় করাব?”
গাছটি বলল, “আমাকে দাঁড় করাতে হবে না। আমার শিকড়ে একটু বৃষ্টির জল দাও। তিনশো বছর ধরে আমি তৃষ্ণার্ত।”
নীলু কাছের ঝরনা থেকে জল এনে গাছটির শিকড়ে ঢেলে দিল।
সঙ্গে সঙ্গে ঘটে গেল এক বিস্ময়কর ঘটনা।
গাছটির কালো শিকড়গুলো রুপালি হয়ে উঠল। তার ডালপালায় জন্ম নিল ছোট ছোট নীল পাতা। আর গাছটির মাথার ওপর ফুটে উঠল একটি ফুল, যার পাপড়িগুলো ঘড়ির কাঁটার মতো ঘুরছিল।
গাছটি কাঁপতে কাঁপতে বলল, “তুমি আমাকে বাঁচিয়েছ! এবার তোমাকে একটি গোপন কথা বলব।”
“কী কথা?”
“আমি ইচ্ছাবৃক্ষের হারিয়ে যাওয়া সন্তান। আর আজ যে ফুলটি ফুটেছে, সেটি উল্টো ফুলের প্রথম চাবি!”
নীলু বিস্ময়ে হতবাক হয়ে গেল।
গাছটি নীলুকে বলল, ফুলটির দিকে তাকিয়ে তার মনের সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি করতে।
নীলু চোখ বন্ধ করল।
তার মনে পড়ল গ্রামের শুকিয়ে যাওয়া পুকুর, ফেটে যাওয়া জমি, আর খাবারের অভাবে কষ্ট পাওয়া মানুষগুলোর কথা।
সে মনে মনে বলল, “আমাদের রাজ্যে এত দুঃখ কেন?”
চোখ খুলতেই সে দেখল, ফুলটির মাঝখানে একটি দরজা খুলে গেছে।
দরজার ওপারে দেখা গেল একটি সম্পূর্ণ শহর!
সেই শহরে বাড়িগুলো মাটির নিচে ঝুলছিল, রাস্তাগুলো আকাশের ওপর দিয়ে চলে গেছে, আর মানুষগুলো হাঁটছিল ছাদের নিচে মাথা রেখে।
শহরের মাঝখানে একটি বিশাল ঘড়ি। কিন্তু ঘড়িটির কাঁটা উল্টো দিকে ঘুরছিল।
নীলু দরজা পেরিয়ে শহরে প্রবেশ করল।
সেখানে তার দেখা হলো এক বৃদ্ধার সঙ্গে। বৃদ্ধার মাথায় ছিল কাচের মুকুট, আর হাতে একটি রুপালি লাঠি।
বৃদ্ধা বললেন, “আমি সময়পুরীর শেষ রানি। তিনশো বছর আগে এক লোভী জাদুকর আমাদের সময় চুরি করে এই ফুলের মধ্যে বন্দি করেছে। এখন আমরা একই দিনে আটকে আছি। কেউ বড় হতে পারে না, কেউ বৃদ্ধ হয় না, কোনো শিশুর জন্মদিন আসে না। আমাদের সময় থেমে গেছে।”
নীলু জিজ্ঞেস করল, “তাহলে আমি কীভাবে আপনাদের মুক্ত করব?”
রানি বললেন, “ফুলের তিনটি পাপড়ি জাগিয়ে তুলতে হবে। প্রথম পাপড়ি জাগে দয়ার স্পর্শে, দ্বিতীয়টি সত্য বললে, আর তৃতীয়টি জাগে এমন কিছু ছেড়ে দিলে, যা নিজের কাছে সবচেয়ে প্রিয়।”
নীলু প্রথম পাপড়িটি জাগিয়ে তুলেছে গাছটিকে বাঁচিয়ে।এবার বাকি দুটি!
রানি নীলুকে একটি অন্ধকার সুড়ঙ্গের দিকে পাঠালেন।
সুড়ঙ্গের শেষে ছিল একটি বিশাল আয়না। আয়নার ভেতর থেকে বেরিয়ে এল এক দানব। তার শরীর কাচের তৈরি, চোখ দুটি জ্বলন্ত কয়লার মতো।
দানবটি গর্জে উঠল, “আমার প্রশ্নের উত্তর দিতে পারলে দ্বিতীয় পাপড়ি পাবে। মিথ্যা বললে চিরদিনের জন্য আয়নায় বন্দি হবে!”
নীলু সাহস সঞ্চয় করে দাঁড়াল।
দানব প্রশ্ন করল, “বল, পৃথিবীতে সবচেয়ে বড় চোর কে?”
নীলু ভাবল। রাজা? ডাকাত? জাদুকর?
তারপর সে বলল, “সময়।”
দানবের চোখ জ্বলে উঠল।
“কেন?”
নীলু উত্তর দিল, “সময় আমাদের শৈশব নিয়ে যায়, প্রিয় মানুষদের সঙ্গে কাটানো মুহূর্ত নিয়ে যায়, অথচ আমরা তাকে ধরে রাখতে পারি না। কিন্তু সময় চুরি করে না। আমরা নিজেরাই অনেক সময়কে অবহেলা করি।”
কথা শেষ হতেই আয়নাটি কেঁপে উঠল।
দানবের শরীর থেকে কাচের টুকরোগুলো ঝরে পড়তে লাগল। তার ভেতর থেকে বেরিয়ে এল একটি ছোট্ট পাখি।
পাখিটি বলল, “তুমি সত্য বলেছ! আমি আসলে এই শহরের রাজপুত্র। জাদুকর আমাকে আয়নার দানবে পরিণত করেছিল।”
সঙ্গে সঙ্গে ফুলটির দ্বিতীয় পাপড়ি জ্বলে উঠল।
এবার নীলুর সামনে এল সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা।
ফুলটির তৃতীয় পাপড়ি জাগাতে হলে তাকে নিজের সবচেয়ে প্রিয় জিনিসটি ছেড়ে দিতে হবে।
নীলুর সবচেয়ে প্রিয় জিনিস ছিল তার মায়ের রেখে যাওয়া ছোট্ট রুপার বাঁশি। মা মৃত্যুর আগে বাঁশিটি তাকে দিয়েছিলেন। সেই বাঁশিতে সুর তুললে নীলুর মনে হতো, মা যেন তার পাশেই বসে আছেন।
রানি বললেন, “তোমাকে বাঁশিটি ফুলের আগুনে উৎসর্গ করতে হবে। তাহলেই শহর মুক্ত হবে।”
নীলু বাঁশিটি বুকের কাছে চেপে ধরল।
সে কি পারবে?
এই বাঁশি ছাড়া তার মায়ের স্মৃতি ধরে রাখবে কীভাবে?
অনেকক্ষণ চুপ করে থাকার পর সে বলল, “আমার মায়ের স্মৃতি বাঁশির মধ্যে নেই। আছে আমার হৃদয়ে। যদি এই বাঁশি দিয়ে হাজার মানুষের জীবন ফিরে আসে, তবে আমি বাঁশিটি দিতে রাজি।”
সে বাঁশিটি ফুলের সামনে রেখে দিল।
কিন্তু আশ্চর্য!
বাঁশিটি পুড়ে ছাই হলো না। বরং তার ভেতর থেকে বেরিয়ে এল সোনালি আলো। সেই আলো ছড়িয়ে পড়ল গোটা শহরে।
ঘড়ির কাঁটা থেমে গিয়ে আবার সামনে চলতে শুরু করল।
শিশুরা বড় হতে লাগল, বৃদ্ধরা নতুন দিনের আলো দেখতে পেলেন, বন্ধ জানালাগুলো খুলে গেল।
সময়পুরী মুক্ত হলো!
কিন্তু নীলুর হাতে রইল না বাঁশিটি।
সে একটু কাঁদল। কারণ ত্যাগের সিদ্ধান্ত ঠিক হলেও বিচ্ছেদের কষ্ট মিথ্যা নয়।
ঠিক তখনই ফুলের ভেতর থেকে ভেসে এল মায়ের কণ্ঠ
“নীলু, যে ভালোবাসা অন্যের জীবন আলোকিত করে, তাকে কখনো হারানো যায় না।”
নীলু চোখ মুছে হাসল।
ফুলটির তৃতীয় পাপড়িও জ্বলে উঠল।
তিনটি পাপড়ি জ্বলে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে শহরের মাঝখানের ঘড়িটি ভেঙে গেল।
তার ভেতর থেকে বেরিয়ে এল এক দীর্ঘদেহী জাদুকর। তার পোশাক কালো, দাড়ি সাদা, আর মাথায় ছিল শুকনো পাতার মুকুট।
জাদুকর গর্জে বলল, “কে আমার তিনশো বছরের জাদু ভাঙল?”
নীলু সামনে এগিয়ে গেল।
“আমি।”
জাদুকর হেসে উঠল।
“তুমি? সামান্য একটি ছেলে? জানো, আমি কেন এই শহরকে বন্দি করেছিলাম? আমি বৃদ্ধ হতে চাইনি। আমি চেয়েছিলাম চিরকাল তরুণ থাকতে!”
নীলু বলল, “কিন্তু নিজের বয়স আটকে রাখতে গিয়ে তুমি হাজার মানুষের জীবন আটকে দিয়েছ।”
জাদুকর চিৎকার করল, “চুপ! আমি পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী জাদুকর!”
সে হাত তুলতেই চারপাশে আগুনের বৃত্ত তৈরি হলো।
নীলু পালাল না। সে ইচ্ছাবৃক্ষের দেওয়া নীল পাতাটি মুঠোয় ধরে রাখল।
পাতাটি থেকে একটি কণ্ঠ ভেসে এল—
“যে নিজের জন্য সবকিছু চায়, তার জাদু একদিন নিঃশেষ হয়। আর যে অন্যের জন্য কিছু ত্যাগ করে, তার হৃদয়েই জন্ম নেয় সবচেয়ে বড় জাদু।”
নীলু পাতাটি মাটিতে রাখল।
মুহূর্তের মধ্যে পাতাটি বিশাল বৃক্ষে পরিণত হলো। তার শিকড় ছড়িয়ে পড়ল গোটা শহরে। ডালপালা জাদুকরকে ঘিরে ফেলল।
জাদুকর তার সব মন্ত্র প্রয়োগ করল, কিন্তু কিছুতেই মুক্ত হতে পারল না।
শেষ পর্যন্ত সে চিৎকার করে বলল, “আমাকে ছেড়ে দাও! আমি আর কখনো কারও সময় চুরি করব না!”
নীলু বলল, “তুমি যদি সত্যিই বদলাতে চাও, তবে বন্দিদের মুক্ত করার পর তাদের কাছে ক্ষমা চাইবে।”
জাদুকর মাথা নিচু করল।
তারপর সে নিজের জাদুদণ্ড ভেঙে ফেলল।
সেই মুহূর্তে তার মুখের কঠোরতা মিলিয়ে গেল। সে আর ভয়ংকর জাদুকর রইল না। পরিণত হলো এক সাধারণ বৃদ্ধে।
সময়ের নিয়ম ফিরে আসতেই তার চুল আরও সাদা হয়ে গেল। কিন্তু এবার সে বয়সকে ভয় পেল না।
নীলু যখন কুয়াশাডাঙায় ফিরে এল, তখন ভোর হয়ে গেছে।
গ্রামের মানুষ তাকে দেখে আনন্দে ছুটে এল। কিন্তু নীলুর মনে একটাই প্রশ্ন—এত বড় জাদু যে ফুলের মধ্যে লুকিয়ে ছিল, সেই ফুলের শেষ পরিণতি কী?
সে আবার উল্টো বনে গেল।
সেখানে গিয়ে দেখল, ইচ্ছাবৃক্ষের কালো ডালপালায় হাজার হাজার ফুল ফুটেছে। প্রতিটি ফুলের ভেতরে দেখা যাচ্ছে একেকটি পৃথিবী।
কোনো ফুলের ভেতরে খরাপীড়িত গ্রাম, কোনো ফুলে যুদ্ধের ভয়াবহতা, কোনো ফুলে অনাহারে থাকা শিশু, আবার কোনো ফুলে দেখা যাচ্ছে এমন একটি পৃথিবী, যেখানে মানুষ একে অপরকে ভালোবাসে।
নীলু অবাক হয়ে বলল, “এতগুলো পৃথিবী!”
ইচ্ছাবৃক্ষ উত্তর দিল, “প্রতিটি ফুল একটি সম্ভাবনা। মানুষ দয়া করলে এক পৃথিবী জন্ম নেয়, লোভ করলে আরেক পৃথিবী। মানুষ কী বেছে নেবে, তার ওপরই ভবিষ্যৎ নির্ভর করে।”
নীলু জিজ্ঞেস করল, “তাহলে উল্টো ফুলের আসল জাদু কী?”
গাছটি মৃদু হেসে বলল, “মানুষ যা অসম্ভব মনে করে, অনেক সময় তার শুরু হয় একটি ছোট্ট ভালো কাজ থেকে। ফুলটি পৃথিবীকে উল্টে দেয় না, মানুষের চিন্তাকে উল্টে দেয়।”
কথাটি শুনে নীলু অনেকক্ষণ চুপ করে রইল।
তারপর সে গ্রামের দিকে ফিরে গেল।
এরপর থেকে কুয়াশাডাঙার মানুষ বদলে যেতে শুরু করল।
কেউ ক্ষুধার্ত থাকলে প্রতিবেশীরা খাবার ভাগ করে দিত। কেউ বিপদে পড়লে অন্যরা এগিয়ে আসত। গ্রামের লোকেরা মিলে শুকিয়ে যাওয়া পুকুর পরিষ্কার করল, খাল খনন করল, গাছ লাগাল।
কয়েক মাস পর একদিন বৃষ্টি নামল।
প্রথমে টুপটাপ, তারপর ঝমঝম করে।
পুকুর ভরে গেল, মাঠে ধান গজাল, আর শুকনো জমিতে সবুজের ঢেউ উঠল।
সেই রাতে নীলু ঘুমিয়ে ছিল। হঠাৎ জানালার বাইরে মৃদু আলো দেখতে পেল।
সে বেরিয়ে এসে দেখল, তার বাড়ির উঠোনে একটি ছোট্ট উল্টো গাছ জন্মেছে। গাছটির শিকড় আকাশের দিকে, ডালপালা মাটির দিকে।
আর তার ডালে ফুটেছে একটি ফুল।
ফুলটির পাপড়িতে লেখা—
“পৃথিবী বদলানোর জন্য রাজা হতে হয় না। কখনো কখনো একটি ভালো হৃদয়ই যথেষ্ট।”
নীলু মুচকি হাসল।
দূরে কোথাও একটি রুপার বাঁশির সুর বেজে উঠল।
সেই সুরে মিশে ছিল মায়ের ভালোবাসা, মানুষের আশার আলো আর নতুন পৃথিবীর প্রতিশ্রুতি।
আর উল্টো গাছটি?
সে সেদিন রাতেই শিকড়ের ওপর ভর করে হাঁটতে হাঁটতে চলে গেল অন্য এক অজানা দেশে।
হয়তো সেখানে আরেকটি শিশুর অপেক্ষায় ছিল আরেকটি অসম্ভব ফুল।
সাত সমুদ্র আর তেরো নদীর ওপারে ছিল এক অদ্ভুত রাজ্য—নাম তার উল্টোরাজ্য। সেই রাজ্যে নদী বইত পাহাড়ের চূড়া বেয়ে আকাশের দিকে, মাছ উড়ত পাখির মতো, আর পাখিরা সাঁতার কাটত পুকুরে।
কিন্তু রাজ্যের সবচেয়ে আশ্চর্য জায়গা ছিল একটি বন। সেই বনের নাম উল্টো বন।
বনের গাছগুলোর শিকড় মাটিতে ছিল না। শিকড়গুলো ছড়িয়ে থাকত আকাশের দিকে, আর ডালপালা নেমে আসত মাটির দিকে। গাছগুলো যেন মাথার ওপর ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে!
দিনের বেলায় গাছগুলো চুপচাপ থাকত। কিন্তু মধ্যরাতে চাঁদ যখন ঠিক মাথার ওপর আসত, তখন গাছগুলো শিকড়ের ওপর ভর করে এক জায়গা -
0 Comments