চারিদিক ঘুম ঘুম, নির্জন নির্ঝুম,অলস, নিরস পবন নিঃশব্দে বয় ।হিমালয়ের হিমেল যেন এক কাঁপানো বাণ,রক্ত না ঝরে থর থর করে গাই কেহ অপূর্ব গান ।চড়চড় মরমর করে পড়ে চামড়ায় ভাঁজ ,রক্ত নাহি ঝরে তবু ব্যথায় মরেচাই একটু বোরোলিন আর লিপগার্ড ।যতই থাক বর্ষার রেনকোটআর যতই হও না তোমরা একজোট,চামড়ায় পড়বে ক্ষত না নিলে ভেসলিন গার্ড ।কনকনে ঠনঠনে থরথর করে কাঁপি,কর্মে মন নাই শুধু লেপ মুড়ি দিয়ে শুয়ে থাকি ।সারাদিন খুঁজে বেড়াই বাড়ির এদিক ওদিক শুধু,গরমের শত্রু রবি আজ যে মোদের পরম বন্ধু । গরমকালে এসময় এখনও দিন ছিল ,শীতে সন্ধ্যা বিদায়ে নামল রাত্রি ঘন ।জ্যোৎস্না বিনা রহিম চেঁচায় আপন ঘরে,জ্যোৎস্না বিনা পথিক যেন ঘাবড়ে ঘাবড়ে মরে ।কেহ কোথাও নাই,টসটস শব্দে বারে বারে পেছন ফিরে তাকাই ।বটতলে যাইবা কালে খটাস শব্দ শুনে দেয় এক দৌড়।রাতের আঁধারে ঠোক্কর খেয়ে কান্না করে গৌর ।বুকে নাই ভূতের ভয়, তবু কেন দৌড়ে হাঁপায় ।কত বৃষ্টি কত ঝড় আসে যে গরমে,কাপড় না রাখলেও চলে তবু রাখতে হয় শরমে ।ঝড় বৃষ্টি কোথাও নাই ,ধীরে ধীরে বাতাস বয় ।দশটা সুতির নয়, অন্তত একটা পশমের কাপড় চাই।বৈশাখী ঝড়ে ভেঙেছে কত ডাল,তুলে নিয়ে গেছে মোর টিনের চাল ।তবুও হয়নি শরীরে কোন আঘাত ,পৌষের হাওয়ায় কি যে তীক্ষ্ণ ধার,পা হতে মাথা দেননি কোথাও বাদযেন ব্লেড দিয়ে করিতেছে সর্বত্র ক্ষত ।যেন মনে হয় দামড়া কাকুর বাতকর্ম বর্জনবজ্রের মতো যতটাই করুক গর্জন,ততটা সফল নহে সবারে করিতে স্থানচ্যুত ।যতটা পেরেছিল কানু,বিনা গর্জনে করতে সবারে বাধ্যনাক বন্ধ করে সবারে স্থানচ্যুত ।ঐ দেখ পুষ্করিণীর বারি,কেনই বা নিয়েছে আরি।ইচ্ছা করে নাই তবুও ঝাপ দিতে হয়, এ শরীরে তব নাহি আর কোনো প্রাণ,মাংসপিণ্ড শরীর যেন এক জ্যান্ত কঙ্কাল ।কোথায় হারিয়ে গেল সব সর্প,কেন নাই তাদের আর কোন দর্প ।অলস , অবুঝ , অসহিষ্ণু, বিষধরশীতকাতর দেয় টানা শীতঘুম ।সেজেছে এখন ভুখা বাজার কতই না শাক সবজি,যেমন রমণীর সাজে পালিত হয় বিবাহ দিনটি ।বাইরে একটু কষ্ট দিই তো কি হয়েছে তোদের,আহারে শয়নে দিই কতই না শান্তি ।কে দেবে তোদের হতভাগা আমি ছাড়া,তবুও ঋতুরাজ কহিস না তোরা ।আমার শাসনকালে নাই হাসপাতালে ভিড়,আমিই বুঝি তোদের দুঃখ তোরা ভাবিস না আমাকে মিত ।গ্রীষ্মের হয়রানি ,বসন্তের বসন্তে বিশ্রামখানিবর্ষার নাজেহাল আর শরতের বন্যায় প্রাণহানি।আমারে যা কহিস কস্ তোরা,আমি শীত, আমিই হলাম ঋতুর রানি ।
0 Comments