আমি অগ্নিশিখা ||
শহিদুল ইসলাম ||
জাগো বীর —
নত করো না তোমার শির!
আমি নত করি নাই, করিব না আর,
দেখুক চাহিয়া ওই শৃঙ্খল কারাগার!
আমি অগ্নিশিখা, আমি দাবানল,
আমি পোড়াই যত মিথ্যা, যত ছল।
আমি ঝড়, আমি তুফান, আমি মহাপ্রলয়,
আমি ভেঙে দিই সব বাঁধ, সব সংশয়।
আমি ঘুমন্তের কানে বজ্র-নিনাদ,
আমি মৃতের বুকে আনি নব উন্মাদ।
আমি কাঁপাই ভিত, আমি টলাই সিংহাসন,
আমি গুঁড়াই যত জারি-জুলুমের শাসন।
আমি কৃষকের ফাটা হাতের দাগ,
আমি শ্রমিকের ঝরা ঘামের ভাগ।
আমি রিকশাওয়ালার প্যাডেলের ঘূর্ণি,
আমি গার্মেন্টস কর্মীর রাতজাগা খুনি।
আমি পথশিশুর খালি পেটের ক্ষুধা,
আমি বিধবার সাদা শাড়ির নীরব ব্যথা।
আমি বেকারের সার্টিফিকেটের বোঝা,
আমি দেনার দায়ে বিক্রি হওয়া সোজা।
আমি প্রশ্ন করি, আমি হিসাব চাই,
কোথায় গেল আমার ভাতের অধিকার?
কোথায় গেল আমার স্বপ্নের দাম,
কেন আজও আমি ক্রীতদাসের গোলাম?
আমি মানি না ওই টাকার পাহাড়,
যার নিচে চাপা পড়ে লক্ষ হাহাকার।
আমি মানি না ওই আইনের বই,
যা গরিবের বেলায় অন্ধ, বোবার হইচই।
আমি ধর্মের নামে ভণ্ডামি পোড়াই,
আমি জাতের নামে দেওয়াল গুঁড়াই।
আমি মানুষ দেখি, দেখি না কে হিন্দু,
কে মুসলিম, বৌদ্ধ কেবা খ্রিস্টান ।
আমি মন্দিরে বাজি, মসজিদের আজান,
আমি গির্জার ঘণ্টা, প্যাগোডার গান।
আমি সবখানে, আমি সবার লাগি,
তবু কেন আজও ভাগাভাগির ?
আমি দুর্নীতির বুকে শেল হানি,
আমি ফাইলবন্দী ঘুষের টাকা টানি।
আমি টেন্ডারবাজের কলাট ধরি,
আমি ব্যাংক-লুটেরার মুখোশ ছিঁড়ি।
আমি চেয়ার দেখি না,দেখি মানুষ,
আমি স্যার বলি না,বলি কেন,কীসের দোষ?
আমি স্যালুট ঠুকি না অন্যায়ের পায়,
আমি থুতু দিই ওই চাটুকারিতায়।
আমি কলম, আমি স্লোগান, আমি মিছিল,
আমি রাজপথে নামা লাখো জনতার ঢল।
আমি পোস্টার, আমি দেওয়াল-লিখন,
আমি শহীদের রক্তে ভেজা শপথ আপন।
আমি কারাগার ভাঙি, আমি শিকল ছিঁড়ি,
আমি ফাঁসির মঞ্চে হাসিতে হাসিতে মরি।
আমি ক্ষুদিরাম, আমি সূর্য সেন,
আমি প্রীতিলতা, আমি নূর হোসেন।
আমি একাত্তরের রক্তাক্ত মার্চ,
আমি সালাম-বরকতের ভাষা-গর্ব।
আমি বিজয়ের দিনে ওড়া পতাকা,
আমি শহীদ মিনারে দেওয়া ফুলের তোড়া।
আমি থামব না, আমি দমব না আর,
যতক্ষণ না পাই ন্যায়ের অধিকার।
যতক্ষণ না পায় শিশু তার অধিকার,
যতক্ষণ না পায় কৃষক তার ন্যায়।
আমি নদী, আমি পলি, আমি চর,
আমি ভাঙি আবার গড়ি নতুন ঘর।
আমি পদ্মা, মেঘনা, যমুনার ঢেউ,
আমি বন্যা হয়ে ভাসাই অন্যায়ের কেউ।
আমি রোদ, আমি খরা, আমি বৃষ্টি,
আমি খরায় পোড়াই, বর্ষায় সৃষ্টি।
আমি কালবৈশাখী, আমি আশ্বিনের ঝড়,
আমি শান্ত আকাশ, আমি আবার প্রখর।
আমি আগুন,আমি ছাই,আমি ফিনিক্স পাখি,
মরি আর জাগি, আবার জ্বলি ডাকি।
আমাকে পোড়ালে আমি ছড়াই স্ফুলিঙ্গ,
এক থেকে হাজার, হাজার থেকে লক্ষ।
আমি থামাতে এলে দ্বিগুণ বাড়ি,
আমি রুখতে এলে হাজার কাতারি।
আমি একা নই, আমি কোটি জনতা,
আমার নাম বিদ্রোহ, আমার নাম মমতা।
আমি ভালোবাসি তাই ঘৃণা করি পাপ,
আমি গড়তে চাই তাই ভাঙি অভিশাপ।
আমি শান্তি চাই, তাই যুদ্ধ ডাকি,
অন্যায়ের সাথে নাই মোর আপোস-মাখামাখি
জাগো বীর —
বল কণ্ঠ ছাড়ি!
আমি আসছি, আমি আসবই,
নিয়ে নতুন দিনের দীপ্ত বার্তা ভারি।
আমি মৃত্যুঞ্জয়ী, আমি চির সবুজ,
আমি কালের কোলে কাল হয়ে অবুঝ।
আমি শেষ নই, আমি শুরু কেবল,
আমি ভবিষ্যতের বীজ,আমি বিদ্রোহের দল।
জাগো! জাগো!
আর কত ঘুমাবে ভীরু?
ভাঙো! ভাঙো!
ওই কারাগারের তালা, ওই শোষণের তরু!
আমি বলে যাই, শোনো দিগ্বিদিক,
আমি অগ্নিশিখা, আমি নির্ভীক।
আমি থামি না, আমি থামব না,
যতদিন না আসে সাম্যের ঠিকানা।
আমি অগ্নিশিখা ||
শহিদুল ইসলাম ||
জাগো বীর —
নত করো না তোমার শির!
আমি নত করি নাই, করিব না আর,
দেখুক চাহিয়া ওই শৃঙ্খল কারাগার!
আমি অগ্নিশিখা, আমি দাবানল,
আমি পোড়াই যত মিথ্যা, যত ছল।
আমি ঝড়, আমি তুফান, আমি মহাপ্রলয়,
আমি ভেঙে দিই সব বাঁধ, সব সংশয়।
আমি ঘুমন্তের কানে বজ্র-নিনাদ………
0 Comments